ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মেয়ে সন্তানকে করে তুলুন স্বাবলম্বী

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০১৯ শনিবার, ০৮:০৮ এএম
মেয়ে সন্তানকে করে তুলুন স্বাবলম্বী

একটু একটু করে বড় হচ্ছে আপনার মেয়েটি। তাকে নিয়ে কতো চিন্তাই না বাসা বাধছে আপনার মধ্যে। তাকে আগলে বড় করতে করতে হবে। বৈচিত্র্যময় আর চ্যালেঞ্জিং জীবনের সঙ্গে মেয়েটিকে লড়াই করে বাঁচতে হবে। কারণ নারীর জীবনে অনেক কঠিন লড়াই জয় করে সফল হতে হয়। আমাদের সমাজে এটা বেশি কঠিন। আমাদের মেয়েরা স্বাবলম্বী না হলে নিগৃহীত হয়। মেয়েদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখা দরকার, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। এজন্য পরিবারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

তাকে স্বাধীনতার স্বাদ নিতে দিন

মেয়ে বলে তাকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে না, এটা তো নয়। এদেশে মেয়েরা হাইস্কুল পর্যায়ে চলে গেলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন অভিভাবকেরা। তাদের চলাফেরা, জীবনযাপনে পরাধীনতা চাপিয়ে দেওয়া হয়। এতে করে মেয়েটি আত্মবিশ্বাস হারায়, ভয়ভীতিকে আকড়ে ধরে বেড়ে উঠতে থাকে। চারপাশের  পরিবেশ পরিস্থিতি আর প্রয়োজন বুঝে তাকে স্বাধীনতা এনে দিন। নিরাপত্তার পাশাপাশি তাকে সাহস আর আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলাটাও জরুরি।

তার মধ্যে নেতৃত্বগুণ তৈরি করতে হবে

সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা আর নেতৃত্বগুণ একজন মানুষকে সফল করে তোলে। মেয়েদেরকে যেন কখনো পরনির্ভরশীল হয়ে জীবনযাপন করতে না হয় তা নিশ্চিত করা উচিৎ পরিবারেরই। এজন্য মেয়েদেরকে সিদ্ধান্ত নেওয়া শেখাতে হবে, তাকে যে কোনো কোনো সময়ে নেতৃত্ব দিতে হবে সেটাও বোঝাতে হবে।

সঠিক পথ দেখান

সন্তানকে সঠিকপথ দেখানোর মাঝেই সফলতা আসে। একটা পরিবারে ছেলে সন্তানকে গাড়ি, বন্দুক আর মেয়েকে পুতুল, হাঁড়িপাতিল কিনে দেওয়া হয়, এটা শুরু থেকেই। এই ধ্যানধারণা বদলে ফেলা উচিৎ। মেয়ে শিশুটি সুন্দর, দেখতে পুতুলের মতো- এই প্রশংসা না করে তাকে স্মার্ট, বুদ্ধিমান বলতে শিখুন। তার সম্ভাবনাগুলোকে খুঁজে বের করুন। গড়ে তুলুন আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে।

খেলাধুলা আর আত্মরক্ষা শেখান

খেলাধুলা একটি মেয়ে শিশুকে তার সক্ষমতার বিষয়ে ইতিবাচক করে তোলে, স্বয়ং গবেষণাই এটা বলছে। এতে করে সে নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে শিখে যায়। খেলাধুলা আর ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি মনকে যেমন প্রফুল্ল রাখে তেমনি নিজের সক্ষমতা দিয়ে নিয়ে আসে আত্মবিশ্বাস। সেই সঙ্গে মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশলও শিখিয়ে রাখা উচিৎ। মেয়েরা নিজেদের রক্ষার কৌশল জানলে জানলে তাদের নিয়ে খুব ভয় হবে না, তারা জয়ী হবে।

তাকে সমৃদ্ধ করুন

প্রতিটি সন্তানকে সাহিত্য-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। এতে করে সে দুনিয়াটাকে চিনবে ভালো করে। তার ব্যক্তিত্ব সমৃদ্ধ হবে। এর উপরেই নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ। প্রগতিশীলতার চর্চা সন্তানকে বিচক্ষণ করে তুলবে। তাকে ভালো বই পড়তে দিন, সেটা যেন আবার লিঙ্গ বৈষম্যকে তুলে না ধরে। মেয়েটির কোনো শখ আছে কিনা, তার প্রতিভা কতোটুকু সেগুলো মূল্যায়ন করুন।

কোনো কাজে বাধা নয়

অনেক বাবা-মা তাদের মেয়ে সন্তানকে অনেককিছু থেকে বঞ্চিত রাখে। যেমন তোমার সাতার শেখার প্রয়োজন নেই, সাইকেল চালাতে হবে না, গান শিখতে হবে না, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যেতে হবে না- আরও কত কি! কিন্তু এগুলো কাজে তাকে উৎসাহিত করুন, সমৃদ্ধ করুন।

আদর্শ অভিভাবক হতে হবে

সন্তান সবার আগে নিজের মা-বাবাকে অনুসরণ করে। তাদের মতো করেই নিজেদের ভাবে। নিজের আদলেই আপনি আপনার মেয়ে সন্তানকে শক্ত মানসিকতা আর আত্মবিশ্বাসের করে তুলতে পারেন। এজন্য আপনাকে ভালো মেন্টর হয়ে যেতে হবে। আপনি তাকে যেভাবে বড় করতে চান আগে নিজের মধ্যে তা ধারণ করতে শিখুন। এতে আপনাকে দেখে সে ভরসা পাবে।

উৎসাহিত করুন

মেয়েদের জন্য সমাজ এবং জীবন কঠিন হয়। দৈনন্দিন জীবনে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা আসে, ভেঙে পড়তে হয়। মেয়েকে শেখাবেন সে যেন ভেঙে না পড়ে। তাকে ভালো উদাহরণ দিতে শিখুন। পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝেও এই বার্তা পৌঁছে দিন। একটি ছেলের পাশাপাশি একই অধিকারে গড়ে তুলুন আপনার মেয়ে সন্তানটিকে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ