ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শত্রুর মুখে যখন বন্ধুর মুখোশ!

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ এএম
শত্রুর মুখে যখন বন্ধুর মুখোশ!

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের খুব কাছের বন্ধুসার্কেল হয়েছিল নিখিলের। সে সময়টাতে ব্যক্তিগত কিছু কারণে নিঃসঙ্গবোধের কারণে বন্ধুগুলোকে তার জীবনের পরম পাওয়া বলে মনে হতো। ভালোলাগা মন্দলাগা সবকিছুতেই বন্ধুরা জড়িয়ে ছিল আষ্টেপৃষ্ঠে। কিন্তু সবাই তো একরকম হয়না, সব বন্ধুও একরকম হতে পারে না। সেটা বুঝতে পারে খুব কাছের এক বন্ধুকে দেখে। যে কিনা সময়ে অসময়ে নিখিলকে পচানোর চেষ্টা করতো, অপমান করতো, শুধু প্রয়োজনের সময়েই তাকে ব্যবহারের চেষ্টা করতো। মন খারাপ হলেও সেই বন্ধুকে শত্রু মনে করতে সময় লাগেনি তার। 

এটা অনেকের সঙ্গেই ঘটে।  কমবেশি সবাইকেই জীবনে এমন মানুষের পাল্লায় পড়তে হয়। বন্ধুরূপি এই শত্রুদের ইংরেজিতে বলে ‘ফ্রেনেমি।’ ‘ফ্রেন্ড’আর ‘এনিমি’র সংমিশ্রণে ‘ফ্রেনেমি’। আপনার দায়িত্ব হলো এই মানুষগুলোকে চিনে নেওয়া। তার কৌশল থাকছে আপনার জন্য-

১. বন্ধু মানে সে আপনার জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ। আপনার আনন্দে তারা আনন্দিত, আবার আপনার দুঃখে সে অবশ্যই দুঃখিত হবে। কিন্তু খেয়াল করবেন যে, আপনি ভালো কিছু করলে বা কোনো কঠিন কাজে সফল হলে বন্ধুটি খুশি হলো না। সে মুখ কালো করলো বা তার কাজকর্মে সেটা বুঝিয়ে দিলো, উচ্ছ্বসিত হওয়া তো দূরের কথা। তাকে বন্ধু না বলে শত্রু বলতে সময় নেবেন না।

২. এই ধরনের শত্রুভাবাপন্ন বন্ধুগুলো বেশিরভাগ সময়েই আপনার খুঁত ধরতে ব্যস্ত থাকে। আপনার চিন্তাভাবনা, রুচি-পছন্দ, কাজ, পোশাক, আত্মীয়স্বজন, অন্য বন্ধুবান্ধবকে সে খারাপ চোখে দেখবে। আপনার সব কাজকেই সে আপাদমস্তক সমস্যা মনে করবে। তোর এটা ভালো না, তোর পোশাকগুলো এমন কেন- এই ধরনের প্রশ্ন সে সবসময়েই করতে থাকবে।

৩. আপনার বন্ধুর আদলের শত্রুটি প্রায়ই চেষ্টা করবে আপনাকে অপমান করতে। সেটা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যেভাবেই হোক হতে পারে। এই ধরুন বন্ধুরা মিলে মজামাস্তি করছেন, এই ফাকে আপনার বন্ধুটি আপনার কোনো দুর্বলতা নিয়ে খোটা মেরে অপমান করে বসলো। আবার কোনো সিরিয়াস সময়ে, আপনার মন খারাপের দিনেও সে আপনাকে কায়দা বুঝে অপমান করে বসবে। প্রতিবাদ করলে সে বলবে ‘আরে এটা তো স্রেফ মজা ছিল।’ মজা আর অপমান আপনাকে বুঝে সতর্ক হতে হবে।

৪. আপনার এই ধরনের বন্ধুগুলো খুব স্বার্থপর আর আত্মকেন্দ্রিক হয়। নিজের কাজ আর সময় নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। নিজের কাজ উদ্ধার না করা পর্যন্ত এরা আপনাকে চিনতেই পারবে না। নিজের প্রয়োজনে এরা আপনাকে ঠিক খুঁজে নেবে। কিন্তু আপনার প্রয়োজনে এদের আপনি পাবেন না, নানা অজুহাতে দূরে থাকবে তারা।

৫. এই বন্ধুরা আপনাদের বন্ধুত্ব নিয়ে সিরিয়াস থাকবে না। এরা চেষ্টা করবে বন্ধুত্ব ভাঙার বা সবসময়ে কোনো না কোনো সমস্যা বাধিয়ে বেড়ানোর। বন্ধুত্ব মানে তো খোলামেলা সম্পর্ক। সেখানে আড্ডাগল্প থাকবে, মান অভিমান বা মন কষাকষিও থাকবে। সেটা না মিটিয়ে যদি বন্ধুটি ঝামেলা টেনে লম্বা বানানোর তালে থাকে তো বুঝবেন ঘাপলা রয়েছে।

৬. আপনার ব্যর্থতাগুলোর দিকে এদের চোখ থাকবে বেশি। এরা সর্বদাই চেষ্টা করবে আপনার ব্যর্থতা খুঁজে বের করে সেগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে। এমনকি সেগুলো শুধু আপনাকে বলেই ক্ষান্ত হবে না, জনসম্মুখে সেটা করতে পছন্দ করবে তারা।

৭. এরা কোনোভাবেই আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ হবে না। আপনি তার জন্য কলিজা কেটে দিলেও এরা খুশি হবে না, আরও কিছু চাইবে, চাহিদার কোনো শেষ থাকবে না। আবার যখন আপনি তার জন্য কিছু করতে পারবেন না, তখন সে আপনাকে কথা শোনাতে ছাড়বে না। আপনার প্রতি তার কোনো সম্মান থাকবে না, আপনাকে যেকোনো বিপদের মুখে ফেলে বা ফাঁসিয়ে দিয়ে সে সরে আসতে একটুও দ্বিধা করবে না।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ