ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কীভাবে মেটাবেন ভাইবোনের দ্বন্দ্ব?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৯ বুধবার, ০৮:০৫ এএম
কীভাবে মেটাবেন ভাইবোনের দ্বন্দ্ব?

ছেলেমেয়ে দুটো দেখতে দেখতে বড় হয়ে যাচ্ছে আমরিনের। মেয়ে আনহা আর ছেলে প্রত্যয় চারবছরের ছোটবড়। সংসার, স্বামী, মেয়ের স্কুল নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময়ই কাটে। কিন্তু বিপত্তি বাধে ছেলেমেয়ে দুটোকে নিয়ে। এতবেশি খুনসুটি আর ঝামেলা তর্ক করে মাঝেমাঝে, সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। কখনো মনে হয় এদের অত্যাচারে ঘর থেকেই কোথাও পালায়ং!

পরিবারে একের বেশী সন্তান থাকলে ‘সিবলিং রাইভালরি’ বা ভাইবোনের দ্বন্দ্ব সামলানো কঠিন হয়ে যায়। ছোটখাট ঝগড়াঝাঁটি তো হবেই। বাবা-মা হিসেবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়। কারণ এই সংঘাত শিশুর মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সামলে নিন এভাবে-

শিশুবিদরা বলেন, সন্তানদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তাদের বয়সের মাঝে অন্তত ৩ বছরের ব্যবধান থাকলে ভালো হয়। এতে আপনার বড় সন্তানটি আস্তে আস্তে দ্বায়িত্ব নিতে শেখে। ছোট সন্তানটির প্রতি যে তারও যে দায়িত্ব রয়েছে, সেটা সে শিখবে। ফলে দুইজনকেই লালনপালনে সুবিধা হবে।

ভাইবোনদের মাঝে তুমুল ঝগড়া বা মতের অমিল হলো। আপনি দুজনের কাছেই যখন ঘটনা শুনতে যাবেন, দেখবেন তারা আপনাকে দুই ধরনের ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ধৈর্য ধরে দুটো ব্যাখ্যাই সমান গুরুত্ব দিয়ে শুনুন, দুইদিক ভেবেই তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন। তারা যেন কখনোই না বোঝে যে বাবা-মা পক্ষপাতিত্ব করছে।

সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলুন যাতে পরস্পরকে সম্মান করতে শেখে। কেউ যেন কাউকে আজেবাজে নাম ধরে না ডাকে, কাউকে অপমান করে যেন কোনো কথা না বলে। সন্তানদের মাঝে সৌহার্দ্য তৈরির চেষ্টা করুন। ধরুন একজনের জন্মদিনের উপহার আরেকজনকে দিয়ে দেওয়ান। ভালো ব্যবহার যাতে করে, গালমন্দ না শেখে সেই চেষ্টা করুন।

সবার আগে আপনারা ঠিক থাকার চেষ্টা করুন। কারণ সন্তানেরা আপনাকে দেখেই তো শিখবে। তাই পরিবারের সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করুন। নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করুন। মাথা ঠাণ্ডা রেখে সবকিছুর সমাধানের চেষ্টা করুন। পরিবারে কাউকে হেয় বা অপমান করবেন না। এতে করে শিশুরাও পরবর্তীতে নিজেদের সমস্যাগুলোতে ঝগড়া, চেঁচামেচি, রাগারাগি করা শিখবে। সমাধানের পথ তাদের কাছে অজানাই থাকবে।

অনেক বাবা-মা মনে করেন সন্তানদের সমস্যা তাদের নিজেদেরকেই সমাধান করতে দেওয়া উচিত। এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। তারা সমাধান করবে, কিন্তু সেটারও একটা মাত্রা থাকবে অবশ্যই। বাড়াবাড়ি পর্যায়ে সমস্যা চলে যাওয়ার আগে আপনি তাদের মাঝে মধ্যস্ততা করুন।

ভুলেও কখনো এক সন্তানকে অন্য সন্তানের কাজের জন্য দোষ বা অভিযুক্ত করবেন না। এতে করে রাগ, ক্রোধ তৈরি হবে নিজের মধ্যে। একে অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে, পারস্পরিক সম্পর্ক খারাপ হবে। পরিবারেও অশান্তি তৈরি হবে। নিজের সম্পর্কেও সে খারাপ ধারণা করতে শুরু করবে।

দুই বা তিন সন্তানের মধ্যে কখনো কোনো প্রতিযোগিতা তৈরি করবেন না। লেখাপড়া, পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তাদের মধ্যে কখনো কোনো তুলনা করতে যাবেন না। মনে রাখবেন আপনার পরিবার কোনো প্রতিযোগিতার জায়গা নয়। আর সন্তান সবাই যে সমান মেধাবী হবে, এমনটাও তো নয়।

বড় সন্তানটিকে একটু দায়িত্বশীল করে তুলুন। ছোটজনের জন্য কিছু কিনতে বলুন নিজ হাতে পছন্দ করে। এতে তার বোধগম্যতা বাড়বে। আবার ছোটজনকে শেখান সে যেন বড়জনের প্রতি একটু হলেও শ্রদ্ধাশীল হয়। তাদের কাজ ভাগ করে দিন, নিজ আগ্রহে করুক।

আপনার সন্তানদের নিজেদেরও তো চিন্তাভাবনা আছে। তাদের মত করে চিন্তা করতে দিন। কখনো তাদের একই রকম চিন্তা চাপিয়ে দেবেন না। দুইজনের ভাবনা, পছন্দ আলাদা হতে পারে। সে বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন। সেভাবেই চলতে দিন।

একটা নির্দিষ্ট বয়স পার হতে থাকলে সন্তানদের নিজের হাতে কাজ করতে শেখান। নিজের টেবিল, বিছানাটা গুছিয়ে রাখা, নিজ হাতে খাওয়া। এতে করে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আত্মবিশ্বাসী হলে তারা কখনো নিজের হিংসা-বিদ্বেষকে প্রকাশ করতে পারবে না। ছেলেবেলা থেকেই আত্মবিশ্বাসী করুন, সারাজীবন দায়িত্ব নিয়ে বড় হবে সে।

তাদের দুজনকে বেড়াতে নিয়ে যান একসঙ্গে। এতে করে তারা একসঙ্গে সবকিছু শিখবে, জানবে। আর নিজের সন্তানদের মাঝে ভেদাভেদ সৃষ্টি করবেন না।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ