ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আপনি কি বড্ড তাড়াহুড়ায় ক্লান্ত?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৮:০৩ এএম
আপনি কি বড্ড তাড়াহুড়ায় ক্লান্ত?

সকালে উঠেই অফিসে নতুন প্রোজেক্টের প্রেজেন্টেশন ফাইলটা নিয়ে দৌঁড়াতে হবে। অথচ কিছু তথ্য এখনো হাতে নেই, খুঁজতে খুঁজতে আপনি হয়রান। কোনোরকম করে সেটা তৈরি করে দিলেন, পরদিন বসের ঝাড়িও খেলেন। আবার ক্লাসের প্রেজেন্টেশনটা আজ করি কাল করি করতে করতে করা হয়নি, জমা দিতে হবে কালই। কিছু একটা করে জমা দিয়ে দিলেন, নম্বর কম পেলেন। অতিথি আসবে, আপ্যায়নের প্রস্তুতিতে দেরি হলো, মানসম্মান নিয়ে টানাটানি। এমন কতো তাড়াহুড়াই তো আসে প্রতিদিন। এতে আপনি বিপত্তিতেই পড়েন বেশি। একটু কৌশল মেনে চলেই দেখুন আপনার এই তাড়াহুড়া ভাবটা এড়ানো যায় কি না-

আপনার সময়গুলো ভাগ করে নিন

সময় গেলে সাধন হয় না বা সময় আর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না- এই নীতি কথাগুলো শুধু পড়াশুনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রাখি। কিন্তু মানতে চাই না একেবারেই। আমরা সব কাজগুলো জমিয়ে রাখতে পছন্দ করি। আগামী দিন, সপ্তাহ বা মাসের কাজগুলো জমিয়ে না রেখে আগে থেকেই কাজ ছোট ছোট ভাগে গুছিয়ে রাখুন। অফিস বা বাড়ির কাজ এভাবে ভাগ করুন। পরদিন আর তাড়াহুড়া লাগবে না।

কাজটা শেষদিন করবো- এই চিন্তা বাদ দিন

আমাদের সবারই কমবেশি এই অভ্যাসটা আছে- সেটা হচ্ছে কাজ একেবারে শেষদিনের জন্য জমিয়ে রাখা। আমরা শেষদিনে খুব চাপ নিয়ে কাজটা কোনোরকমে হলেও শেষ করি। এই তাড়াহুড়ায় আপনি কাজটা করতে পারবেন, কিন্তু সেটার মান অবশ্যই ভালো হবে না। তাই তাড়াহুড়া না করে একটু একটু করে কাজ এগিয়ে রাখুন।

হাতে কলমেও হিসাব করে রাখুন

কাজের পরিকল্পনা আর প্রোগ্রামগুলো তো সব মাথায় জমিয়ে রাখেন। সব কাজের হিসাব মাথায় রাখলে তা হাওয়া হয়ে যেতে পারে। তাই কাগজ কলমেও সেই পরিকল্পনাগুলো লিখে ফেলুন। একটা ছোট ডায়েরি বা প্যাডে ছোট ছোট নোট করে ফেলুন, সেগুলো সবসময় সঙ্গে রাখার চেষ্টা করুন। আপনার ঘরের দেওয়াল, ফ্রিজ, ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় টানিয়ে ফেলুন। দেখবেন চোখে পড়বে, মনে থাকবে। কাজের অগ্রগতি কেমন হচ্ছে সেটাও লিখে রাখবেন।

কাজ করুন দলীয়ভাবে

সবসময় চেষ্টা করবেন দলগতভাবে কাজ করতে। দলের প্রতিটি সদস্যকেই সমানভাবে কাজ বুঝিয়ে দিন। আর সময় শেষে কাজ সবার কাছ থেকে ভালোভাবে বুঝে নেবেন। এতে করে কাজে হুড়োহুড়ি কমবে, সবার ব্যস্ততাই ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হবে। আর কেউ না কেউ অন্তত কাজে তাগাদা দেবে, কাজ শেষ করে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করবে।

কাজের মাঝেও প্রয়োজন অবসর

একেবারে শেষ সময়ে কাজ জমা দিতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হয় আমাদের। খাওয়াদাওয়া ছেড়ে, আর কোনোদিকে না তাকিয়ে তখন শুধু চিন্তা থাকে কখন এই প্যারা শেষ হবে। তাই আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিন। আর তাড়াহুড়া থাকলেও নিজের দিকে অবশ্যই তাকাবেন। সারাদিনই কাজ করতে হবে তা তো না। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, অবসর নিতে হবে। নিয়ম করে খেতে হবে। শরীরের যত্ন নিতে হবে।

ব্যাকআপ রাখবেন সবসময়

আপনাকে যে প্রযুক্তিপণ্যগুলোতে কাজ করতে হবে, সেগুলোর বিষয়েও সাবধানে থাকবেন। শেষ মুহূর্তে ল্যাপটপটা নষ্ট হয়ে গেলো বা পেনড্রাইভ কাজ করছে না- এমনটা হলে মাথায় হাত দিয়ে বসতে হবে আপনাকে। তাই প্রতিদিন যে কাজগুলো করে রাখবেন, তার ব্যাকআপ রাখবেন অবশ্যই। মেইলে সেভ করে রাখবেন, অন্য কাউকে পাঠিয়ে রাখবেন। তাহলে সেগুলো গায়েব হয়ে গেলে আপনাকে তাড়াহুড়া করে সেগুলো আবার করতে হবে না।

বার বার সময় দেখবেন না, হতাশ হবেন না

কাজের দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যায়, তখন বার বার চোখ যায় ঘড়ির দিকে। সময় চলে যাচ্ছে, আমি কিছুই করতে পারছি না- এটা ভেবে ভেবে কাজটা আপনি আরও দেরি করছেন, ঘাবড়ে গিয়ে কাজটা খারাপ হচ্ছে। এটা না করে কাজে মন দিন, ঘড়ি পরে দেখুন। আর প্রথম থেকেই হতাশ হয়ে কোনো কাজে হাত দেবেন না। আমি পারবো না- এই কথাটি কাজে কোনো গতি এনে দেবে না।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ