ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ছোটখাট দাম্পত্য ভ্রমণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০১৯ শুক্রবার, ০৮:১২ এএম
ছোটখাট দাম্পত্য ভ্রমণ

কাজে হাঁপিয়ে উঠতে উঠতে মনে হয় যে ইস, কতোদিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। সঙ্গীর প্রতিও আবেদন আর অভিযোগ আসে মনে আসে যে কখনো তো বলেও না চলো কোথাও যাই। কিন্তু সময় সুযোগ কই! যাবো যাবো করেও সময় বের করা যায় না। একটু ছুটি বা অবসর আপনি চেষ্টা করে ম্যানেজ করে নিন। হোক দুই বা তিনদিনের। কাছে বা দূরে দুজনে মিলে খুব প্রিয় কোনো জায়গা থেকে ঘুরেই আসুন না, দেখবেন এই দাম্পত্য ভ্রমণটা অনেক আনন্দ এনে দেবে।

গত কয়েক বছরে দেশের মানুষের ঘোরার প্রবণতা বেড়ে গেছে বলে। ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলোও মোটামুটি জমজমাট। এর মধ্যে বেশি দেখা যায় তরুণ দম্পতিদের।

আগের দিনগুলোতে ঘোরাঘুরি আর বেড়াতে যাওয়ার জন্য বিশাল পরিকল্পনা, সময় প্রয়োজন হতো। সন্তানদের স্কুল ছুটি হবে কবে, অফিস থেকে ছুটি পাবো কিনা, কতদিন ঘোরা সম্ভব- এটা নিয়ে চিন্তাও থাকতো। অমুক তমুকের বাড়িতে যাওয়ার বাইরে আর তেমন কোথাও যাওয়া হতো না। আর বাইরে কোথাও গেলে সুন্দরবন আর কক্সবাজার পর্যন্তই। তবে এখন সময় বদলে গেছে। মানুষ এখন সবখানে সবসময়েই ঘুরতে যাচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে আর দুইএকদিন জুড়ে দিয়ে কাছেপিঠে কোথাও ঘুরে আসছে। অল্প সময়ে আসা যাওয়া করা যায় আর নিরিবিলি কোথাও ঘুরে আসতে আশেপাশে যাওয়াই তো ভালো। সুন্দর পরিকল্পনা করে একদিনের ছুটিতেও অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী মিলে অফিস শেষে ঘুরে আসা যায়। একটা দিন নিজেদের মতো করে কাটিয়ে আবার ফিরে যাওয়া।

দেশের মধ্যে কক্সবাজার, সুন্দরবন, রাঙামাটি বা বান্দরবানের বাইরে এখন অনেক ঘোরার জায়গা আছে। সিলেটের রাতারগুল, বিছনাকান্দি, জাফলং বা মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা—দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘোরার জায়গা বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়াটা খুব জরুরি। একসঙ্গে সংসার করলেও ব্যস্ততার কারণে অনেকেই ঠিকমতো সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন না। দুজনে কর্মজীবী হলে সেই পরিবারে এটা আরও প্রবল। তাই বেড়ানোর ছলে নিজেদের মধ্যে দূরত্বটা ঘুচিয়ে নেওয়া সহজ হয়। সংসারেও সুবিধা হয়।

দুজনেই ব্যস্ত থাকার ফলে অনেক সময় একই বাসায় থেকেও তেমন একটা কথা হয়না। তাই একবেলা সময় করে ‘লং ড্রাইভে’ গেলেও মন্দ লাগবে না দুজনের। দুজনে মিলে কোথাও বেড়াতে গেলে প্রেমের দিনগুলোর মতো অনুভূতি আর ভালোবাসা কাজ করে। গল্পগুজবের মাঝেই দুজনের মধ্যে অনেক জরুরি বিষয়ে কথা পরিস্কার হয়ে যায়। বেড়ানোর খরচাপাতিও কমে।

রাজধানীর অদূরেও অনেক ঘোরাঘুরির জায়গা আছে এখন। নৌকা নিয়ে ঝিলের পানিতে ভেসে থাকতেও আরামবোধ হয়। আবার খোলা মাঠের সবুজ ঘাসে বসে স্ত্রীর সঙ্গে একটু প্রেমই করে দেখুন কেমন লাগে। সময়টা ভালো কাটবে।

বয়স বাড়তে থাকলে সংসার, সন্তান আর দায়িত্বের চাপে নিজেরা কোথাও ‍ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবাও যায় না। তাই দাম্পত্য জীবন বুড়িয়ে যাওয়ার আগেই নিজেদের মতো করে ভ্রমণ করে নিন। জীবনে নতুন রোমাঞ্চ আর অভিজ্ঞতা জড়ো করুন। আজ থেকে ১০বছর পরে দুজনে মিলে গল্প করবেন যে, ‘মনে নেই, ওই জায়গাটা কতো সুন্দর ছিল, রাস্তা ধরে হাঁটতে কতোই না ভালো লাগছিল।’

ধরুন আপনাদের দাম্পত্য জীবনে কোনো একটা সমস্যা চলছে, মন কষাকষি আর দূরত্বটা যেন বেশিই হয়ে গেছে। আপনাদের উচিৎ এটা থেকে বের হওয়া। চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি হয়ে সে সমস্যা সমাধান সম্ভব না। আপনারা বের হন, কোথাও ঘুরে আসুন। মনোরম পরিবেশে মনের দ্বন্দ্ব, সমস্যাগুলো বলেই দেখুন। সমাধান হয়ে যাবে সব।

ছোটখাট ভ্রমনের জন্য ছোটখাট প্রস্তুতি নিন। হুট করেও পরিকল্পনা করতে পারেন। দুজনেই চাকরি করলে সাপ্তাহিক কোনো বড় ছুটির সঙ্গে দুই-একদিন ছুটি যোগ করে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। যদি স্মৃতি রোমন্থন করতে চান তো পুরনো পরিচিত কোনো জায়গায় যান। আর নতুনকে চিনতে হলে নতুন কোথাও যান। কাছে বা দূরে যেখানেই হোক ঘুরে আসুন প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে। মন ভালো থাকবে, গতি আসবে কাজেও। দাম্পত্য জীবন আরও অনেক সুন্দর হবে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ