ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দেশি ফলের গুণাগুণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০২ এএম
দেশি ফলের গুণাগুণ

বাসায় কেউ অসুস্থ, খাওয়া দাওয়া কিছুই করতে পারছে না। ওষুধপথ্য কেনার সঙ্গে কিনে নিলেন মোটামুটি দামি, বিদেশী ফলগুলো। আবার আপনার শিশুটি ফল খেতে ভালোবাসে, তার সকালের টিফিনেও ফল না হলে যেন হয় না। তাই আপনাকে নিয়মিত ফল কিনতেই হয়। কিন্তু ফল কেনা আর খাওয়া বলতে যেন শুধু বাজারের ভালোমানের বিদেশী দামি ফলগুলো। এই যেমন ধরুন আপেল, কমলা, আঙুর, বেদানা আরও কত কি।

ফল সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি তা পুষ্টিগুণসম্পন্ন। কিন্তু বেশি দাম ‍দিয়ে বাইরের ফল না কিনে খেয়ে দেশীয় পুষ্টিকর ফলগুলোর দিকেও তো আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিৎ। কারণ গুণে আর মানে এই ফলগুলো কোনো অংশেই কম নয়। বরং দামে কম, সবখানে পাওয়াও যায়। কমলা না কিনে আমড়া বা আপেল না কিনে পেয়ারা খেলে আপনি বরং বেশি পুষ্টি পাবেন। আগে দেখুন তো কোন ফলে কতো গুণ-

গাব

গাবে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা সর্দি, জ্বর, কফ-কাশি থেকে শরীরকে রক্ষা করে। উচ্চমাত্রায় খাদ্যশক্তি থাকায় গাব শারীরিক দুর্বলতা কমায়। এর ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত করে। রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যকে দূরে রাখে। এতে অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। গাবের ফসফরাসসহ নানা খনিজ উপাদান হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া গাবের খোসার রস আমাশয় ও ডায়রিয়া কমায়।

পেয়ারা

সুস্বাদু ফল পেয়ারায় রয়েছে আঁশ, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন। এই ফলের রস যথেষ্ট শক্তিদায়ক যা  হৃদস্পদন ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে৷ পেয়ারার ভিটামিন ‘এ’দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আর ভিটামিন ‘সি’মস্তিষ্ককে সচল রাখে৷ এছাড়াও পেয়ারা বিভিন্ন ক্যানসারকে প্রতিরোধ করতে পারে, কোষ্ঠকাঠিন্যকেও দূরে রাখে।

কলা

সহজলভ্য এই ফলটি কলা সারাবছরই পাওয়া যায়। এতে রয়েছে ক্যালশিয়াম, অ্যামিনো অ্যাসিড, আয়রন ও বিভিন্ন ভিটামিন৷ কলা তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি দেয়। এছাড়া কলা মানসিক চাপ কমিয়ে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখে৷ কলার পুষ্টিগুণ বেশি থাকায় নাস্তায় অন্যকিছু না খেয়ে শুধু একটা কলা খেলেই উপকার মেলে।

আমড়া

এই ফলটিতে রয়েছে ভিটামিন সি যা জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আমড়া দাঁতের মাড়ি শক্ত করে,  এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ভালো রাখে। আমড়ার আয়রণ  শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে সারা শরীরের কার্যকারিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। আমড়া মুখের অরুচিভাব দূর করে, ক্ষুধা বাড়ায়। আমড়ার ফাইবার কোষ্টকাঠিন্য আর বদহজম নিয়ন্ত্রণ করে।

বরই

বরইয়ের ভিটামিন এ চোখের যত্ন নেয়, দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী করে। রক্তশূন্যতা দূর করে, এর ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠন ঠিক রাখে। ভিটামিন সি ইনফেকশনজনিত রোগগুলো থেকে দূরে রাখতে পারে। যেমন ঠোঁটের কোণে বা জিহ্বাতে ঘা, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া। বরইয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার কোষ, টিউমার কোষ ও লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে। যকৃতের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ডায়রিয়া, ওজন বৃদ্ধি, রক্তশূন্যতা, ব্রঙ্কাইটিস সারিয়ে তুলতে পারে। হজমশক্তি বৃদ্ধি ও খাবারে রুচি বাড়ে। মৌসুমি জ্বর, সর্দি-কাশিও প্রতিরোধ করে।

লটকন

লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’রয়েছে। দিনে মাত্র দুই-তিনটি লটকন খেলেই নাকি ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। এছাড়া লটকনে প্রচুর চর্বি, আমিষ, লৌহ ও খনিজ পদার্থ থাকে। খাদ্যশক্তিও রয়েছে প্রচুর। লটকনের অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম দেহ গঠন ও কোষকলাকে সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আপনার বমিভাব আর তৃষ্ণা দূর হয়। মানসিক চাপ কমায় এ ফল, বিভিন্ন চর্মরোগ দূর করে।

তরমুজ

রসালো এই ফলটি আমাদের যথেষ্ট পছেন্দের। ফলটি আপনার পানিশূন্যতা দূর করবে। ক্যারোটিনয়েড উপাদান থাকায় এতে আমাদের চোখ ভালো থাকে। এই ফল শারীরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তরমুজের পানি আর কম ক্যালরি রয়েছে থাকায় বেশি পরিমাণে খেলেও ওজন বাড়ার ভয় থাকে না। তরমুজ হার্টের জন্য উপকারী। এটি রক্তবাহী ধমনীকে নমনীয় ও শীতল রাখে। স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধক।

জামরুল

জামরুল দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন মজা। এই কমদামি দেশি ফলটি আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে, ক্যানসার প্রতিরোধ করতে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে, মস্তিষ্ক ও লিভার সুস্থ রাখতে, বিষাক্ত উপাদান পরিষ্কার করতে দারুণ কার্যকর।

কামরাঙ্গা

মূলত এই টক ফলটি আঁশযুক্ত কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের প্রতিকারক। হজম সমস্যা থাকলেও ফলটি কাজে দিতে পারে। শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়, রক্তচাপ আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলটির জীবাণুনাশক ক্ষমতা থাকায় ত্বক ভালো থাকে, শরীরের ইনফেকশন কমে। ভিটামিন সি থাকায় এটি দাঁত, মাড়ি ও হাড় সুস্থ রাখে। কামরাঙ্গা রোগ প্রতিরোধকারী, অন্ত্রের ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

 বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ