ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দেশজুড়ে নববর্ষের প্রস্তুতি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার, ১০:০২ এএম
দেশজুড়ে নববর্ষের প্রস্তুতি

আজকের রাতটা পেরোলেই আসবে নতুন সূর্যোদয়। আমাদের বাংলা নববর্ষ, ১৪২৬ সালের প্রথম দিন। দেশজুড়ে সবার মধ্যেই অপেক্ষা উৎসব শুরু হবে কখন। চলছে এই বছরের বিদায়, চৈত্র সংক্রান্তির আয়োজন। নববর্ষ বরণ উৎসবের ব্যাপকতা ও বৈচিত্র্য বেড়েছে। তাই উৎসব আয়োজনে চলে দীর্ঘ প্রস্তুতি।

দেশে বাংলা পঞ্জিকার তেমন আনুষ্ঠানিক ব্যবহার না থাকলেও বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসবটা বেশ ব্যাপক আকারেই আয়োজন করে দেশবাসী। বর্ষবরণের এই উপলক্ষ্যকে কেন্দ্র করে, রাজধানীসহ সারা দেশের সব জনপদে সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবের স্ফুরন ঘটে, যেখানে একসঙ্গে মেতে উঠে কৃষক, কামার, কুমার থেকে শুরু করে সব শ্রেণিপেশার মানুষ।

উৎসবের ব্যাপকতা ও বৈচিত্রের কারণে আয়োজনটা শুরু হয় অনেক আগে থেকে। পুরো আয়োজন জুড়েই থাকে বাঙালির সংস্কৃতির সব অনুসঙ্গ। নানা কুটির শিল্প, খাবার দাবার, পোশাক পরিচ্ছদ তৈরির ধুম পড়ে যায়। বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ, যাত্রাপালা, লাঠি খেলা, নৌকাবাইচ লোকগান, পালাগানের প্রস্তুতি চলে পুরোদমে। নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব আয়োজনের ধুম পড়ে যায়। এই উৎসবেই নানা আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে একই সঙ্গে যোগ দেয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরাও।

আমাদের শহর থেকে গ্রাম-মফস্বলেও চলে বৈশাখের প্রস্তুতি। প্রতিটি ঘরে-ঘরেই আলাদো আয়োজন থাকে। এই যেমন এই দিনটির জন্য আলাদা করে বাজার করা। ইলিশ মাছ কেনার ধুম পড়ে বাজারে। ঘরে আলাদা করে থাকে পান্তার আয়োজন। বেল, কাঁচাআম থেকে শুরু করে থাকে কোনো না কোনো মৌসুমি ফলের ব্যবস্থা। লাল-সাদা পোশাক, মেলায় ঘুরতে যাওয়া, মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাওয়ার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চায় না। প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার চলও রয়েছে আমাদের মধ্যে।

শুধু তো ঘরে নয়। ছুটির দিন হলেও এদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতগুলোতেও বিশেষ আয়োজন হয়। সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, মুড়ি-মুড়কি-বাতাসা-খৈ খাওয়ার ধুম পড়ে যায়, পান্তা ইলিশও থাকে। ঝুলিয়ে রাখা হয় বিভিন্ন ঢঙের মুখোশ। কেউ কাগজ কেটে, রঙ করে তৈরি করছে পেঁচা, ময়ূরসহ বিভিন্ন পাখি ও জীব-জন্তুর মুখোশ। আবার অনেকেই রঙ-তুলি দিয়ে আঁকছেন আলপনা।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, পয়লা বৈশাখ মানেই সর্বজনীন আর অসাম্প্রদায়িক উৎসব। আমরা ঈদ, পূজা, বড়দিন আর বুদ্ধপূর্ণিমার কথা যদি বলি- এগুলো আমাদের বিভিন্ন ধর্মের সবচেয়ে বড় আচার উৎসব। এগুলো যার যার ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় বেড়াজালে আবদ্ধ। কিন্তু ভেবে দেখলেই বোঝা যাবে নববর্ষ এগুলো থেকে একেবারে আলাদা। এই উৎসব ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য, কোনো ফারাক নেই। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার জন্য এটা। ধনী গরিবেরও কোনো বিভেদ নেই এদিন। সেই হিসেবে এটা বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব অবশ্যই। 

বাংলা বর্ষবরণের সার্বজনীন উৎসবের শুরু খাজনা আদায় থেকে। সম্রাট আকবরের আমলে পয়লা বৈশাখ উদযাপনের প্রথা চালু হয় বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তখন গ্রামের মানুষ চৈত্রমাসের শেষদিন সব খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতো, পরদিন নববর্ষে গ্রামের প্রতিবেশিদের মিষ্টিমুখ করিয়ে আপ্যায়ন করতো। আয়োজন করা হতো বিভিন্ন চিরায়ত গ্রামীণ বাঙলী উৎসবের। যার রূপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানের সামাজিক, অসাম্প্রদায়িক, সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

পয়লা বৈশাখ মানেই সব অপশক্তিতে বিনাশ করে নতুনের জয়গান গাওয়া। নতুন বছর শান্তির বার্তা বয়ে আনবে এমন প্রত্যাশাতেই বৈশাখকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত সারাদেশ। যথেষ্ট জাঁকজমক আর আবেগমাখা উৎসবকে বরণ করে নিতে আমরা সবাই প্রস্তুত।

বাংলা ইনসাইডার