ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এই আবহাওয়ায় জ্বর আর ঠাণ্ডার রোগবালাই

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ এএম
এই আবহাওয়ায় জ্বর আর ঠাণ্ডার রোগবালাই

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বা হুটহাট বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর-ঠাণ্ডা লাগছে এখন অনেকেরই। আর ভাইরাস জ্বরের কারণে এটা একজনের থেকে আরেকজনের কাছে ছড়াচ্ছেও খুব দ্রুত। আর পরিবারের কেউ এমন অসুখে পড়লে বাকিদের চিন্তা ভোগান্তি দুইই হয়। আবহাওয়াকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলেও নিজেকে সাবধানে তো আমরা রাখতেই পারি। এজন্য সতর্ক থাকতে হবে একটু।

এসময়ে মূলত জ্বর, কম বা বেশি মাথাব্যথা, সর্দি, অরুচি, গায়ে ব্যথা, গলায় ব্যথা, কাশির উপসর্গই বেশি হচ্ছে। তবে শিশুদেরই সমস্যা বেশি হয়। ঠাণ্ডা সর্দির কারণে নাক-কান বন্ধের তে পারে। কান বন্ধের পাশাপাশি কানে ব্যথাও হতে পারে। সেই সঙ্গে দুর্বলতা কাজ করবে।  

জ্বরের ক্ষেত্রে করণীয়

এই জ্বর দেখলে খুব বেশি ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। খুব বেশি জ্বর থাকলে প্রথমে জ্বর কমিয়ে ফেলতে হবে। সবার প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ওষুধ খেলে হয়ত জ্বর কিছুক্ষণ কমবে, আবার জ্বর আসবে। এই অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে পুরো শরীর মুছে দেওয়া বা স্পঞ্জ করে দিতে হবে। জ্বর ১০০ বা ১০১ ডিগ্রিতে নেমে না আসা পর্যন্ত শরীর মুছিয়ে দেওয়া ভালো। আর ওষুধ খাওয়া আর শরীর মোছানোর পরেও যদি জ্বর না কমে তো তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

বেশি আশঙ্কা শিশুদের নিয়ে

এই সময়ে ভাইরাস জ্বরে শিশুরাই আক্রান্ত হয় বেশি। এসময় পানিশূন্যতার একটা প্রকোপ তৈরি হয়।  কারণ জ্বরের তাপে শরীরে পানির ঘাটতি শুরু হয়। এই সময়ে আপনার শিশুটিকে অনেক পানি আর তরল খাবার দিতে হবে। তবে শিশুরা শুধু পানি খেতে চায় না। তাই বেশি করে মৌসুমী ফলের জুস করে দিতে পারেন। ঘরে তৈরি পাতলা স্যুপও দিতে পারেন। তাকে প্রচুর বিশ্রাম নিতে দিন। শক্তিশালী কোনো নাস্তা বা খাবার দিন তাকে। যাতে অল্প খেলেও সুস্থ থাকে, শরীরে বল আসে।

জ্বর বাড়তে লাগলে শিশুর শরীর মুছিয়ে দিতে গবে। সঙ্গে সাধারণ প্যারাসিটামল, তবে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ করে। তার যদি ঠাণ্ডা জমে নাক বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তাদের উপযোগী সাধারণ ড্রপগুলো ব্যবহার করতে পারেন। খুসখুসে কাশিতে তাকে কাশির ওষুধ আর ঈষদুষ্ণ গরম পানি খাওয়াবেন। আর শিশুদের এই ফ্লু জ্বর বেশিদিন থাকে না, পাঁচ থেকে সাতদিনে কমে যায়। তবে এর বেশি হলে বা তীব্রতা বেশি হলে সেক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে।

সর্দি, কাশি আর গলাব্যথা

সর্দি, কাশি, গলাব্যথা এসময়ে হবেই একটু। তাই আগে থেকেই সাবধান থাকতে হবে। আর একবার ঠাণ্ডা লেগে বসলে প্রায় একসপ্তাহ এটা বইতে হবে। সাধারণ কাশিতে চিন্তিত না হয়ে নিজেই নিজের সেবা করে দেখুন। এই কাশি একটা সময়ে এসে ভালো হয় এমনিতে। তবে সঙ্গে জ্বর থাকলে একটু সাবধান হন। এসময়ে ঠাণ্ডা খাবার, আইসক্রিম, ফ্রিজের পানি একেবারে এড়িয়ে চলতে হবে। সবসময় কুসুম গরম পানি পান করতে হবে। সেই সঙ্গে কুসুম গরম পানিতে লবণ নিয়ে গড়গড়া দিলেও ভালোবোধ হয়। এতে গলাব্যথাও ভালো হয়ে যায়। দিনে অন্তত ২-৩ বার গার্গল করবেন, সময় নিন ১০ মিনিটের মতো।  ধুলাবালি এড়িয়ে চলবেন, সরাসরি এসির বাতাস গায়ে বা মাথায় লাগাবেন না। প্রতিদিনই গোসল করুন, তবে পানি গরম করে নিন একটু।

দরকার সাবধানতা

এখন হুটহাট করেই বৃষ্টি নেমে আসতে পারে। এজন্য আপনার আগে থেকেই আপনি সতর্ক হতে হবে। সঙ্গে ছাতা রাখতে হবে। খুব রোদ থেকেও নিজেকে দূরে রাখতে হবে। রোদে ছাতা ব্যবহার করুন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। গায়ে ঘাম বসতে দেবেন না। বেশি ঘেমে গেলে বা বৃষ্টিতে ভিজে গেলে অল্প করে গোসল করে নেবেন।

ঠাণ্ডাজাতীয় যাবতীয় খাবার পরিহার করবেন। খুব ঘেমে গিয়ে ঠাণ্ডা পানি, আইসক্রিম বা লাচ্ছি-ফালুদা খেয়ে বসবেন না। এতে ঠাণ্ডা আরও বেশি লাগে।

আর এখনকার ঠাণ্ডা বা গরম থেকে লাগা জ্বর, সর্দিগুলো ছোঁয়াচে। এই ভাইরাস বা ফ্লু আশেপাশে থাকা মানুষগুলোর মধ্যেও ছড়ায়। তাই সাবধানে থাকা উচিৎ। হাঁচি কাশি দিলে কাপড় দিয়ে নাকমুখ ঢেকে নিন। আর সম্ভব হলে মাস্ক ব্যবহার করবেন। প্রচুর বিশ্রাম প্রয়োজন, খাবারদাবারেরও ব্যাপারেও সতর্ক থাকবেন।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ