ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

চাকরি যদি হয় গলার কাঁটা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ এএম
চাকরি যদি হয় গলার কাঁটা

বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে শুনছি চাকরি হলো সোনার হরিণ। তার মানে না জানি চাকরি কত কঠিন জিনিস। আবার আরেকটা কথাও শুনি যে চাকরির বাজার ভালো না। এই কথার মর্ম একমাত্র বেকার জনগোষ্ঠীই বুঝবে। কিন্তু যারা চাকরি করছেন, তাদের অবশ্যই কিছু বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কারণ তারা সাবলম্বী, বেকারত্বের তকমাটি বইতে হচ্ছে না। কিন্তু চাকরিটা নিয়ে আমরা কি আদৌ সন্তুষ্ট? প্রশ্নটা সেখানেই। করতেই হবে বিধায় মনের বিরুদ্ধে চাকরি করলে সেটা গলার কাটা হতে সময় লাগবে না। সেই চাকরি শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। আপনার মনের মতো মানসম্মত পরিবেশ না হলে, বেতনে বনিবনা না হলে পুরো চাকরির পরিবশেটাই খারাপ হতে পারে। তাই চাকরির পরিবেশ অসহনীয় মনে হলে নতুন কর্মস্থল খুঁজুন বা যেভাবেই হোক সমাধান করে নিন।

আপনার মনের বিরুদ্ধে চাকরিটি নেতিবাচক হলে কি হতে পারে তা নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা-

হতে পারে ঘুমের সমস্যা

চাকরিতে তো কমবেশি চাপ থাকবেই। আরামে সবসময় বসে থেকে তো আর কাজ হবে না। তবে চাপ খুব বেশি হলে বা চাকরিটা নিয়ে আপনার অসন্তুষ্টি থাকলে আপনার ঘুমের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়ার কারণেই অনিদ্রা দেখা দেয়। এই সারারাত ঘুম না হওয়ার কারণে পরেরদিন অফিস করতে বিরক্ত লাগে এবং কাজের মান খারাপ হয়ে যায়। সারাদিন ঘুমঘুম ভাব হয়। ফলে অফিসের বস আজেবাজে কথা বলতেই পারে। এই সবকিছু মিলিয়ে আপনার চাপ আরও বেড়ে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্যও খারাপ হতে পারে

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে মনের বিরুদ্ধে অনুপযুক্ত চাকরিতে বেকারদের তুলনায় বেশী মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা হয়। আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়, কাজের মনোযোগ কমে যায়, বিষণ্ণতায় ভুগতে হয়, কাজ খারাপ হয়, কাজের প্রতি কোনো ভালোবাসা থাকে না যদি আপনি কর্মক্ষেত্রেই শান্তি না পান। চাকরির চাপে অনেকে হুটহুাট চাকরি ছেড়ে দিয়ে বেকার বসে থাকছে, সহকর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে, হতাশ হয়ে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ঘটনাও তো ঘটছে। তাই যদি বোঝেন যে চাকরিতে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে, সেই চাকরি থেকে সরে যান বা সমস্যার সমাধান করুন।

বাড়তে পারে ওজনও

চাকরিতে অতিরিক্ত চাপ এবং অসন্তুষ্টির কারণে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি। মানসিক চাপ এবং বিষণ্ণতা ভুলতে অনেকেই মিষ্টি খাবার কিংবা ফাস্ট ফুড বেশী খেয়ে ফেলেন। আবার কাজের চাপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেয়ার থেকেই উঠার সুযোগ হয় না। ফলে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্যে। শরীর মোটা হতে থাকে, অসুখবিসুখ দানা বাধতে থাকে।

ব্রেইন ফগ বা মস্তিষ্ক নিস্ক্রিয়

চাকরি আপনার মনমতো না চললে ‘ব্রেইন ফগ’হয়ে বসতে পারে। মানে মাথা জ্যাম হয়ে যেতে পারে।  এর ফলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বেড়ে যেতে পারে, স্মৃতিশক্তি কমে যায়, লক্ষ্যে অটল থাকার প্রবণতা কমে এবং খুব ক্লান্ত লাগে। সবসময়ে মনে হয় ভালো লাগছে না, একটু ঘুমিয়ে নিতে পারলে ভালো হতো, কোথাও বেরিয়ে পড়তে পারলে ভালো হতো। এমন অতিরিক্ত চাপের ফলে হরমোনাল ডিজঅর্ডারও হতে পারে। আপনার হরমোন আর আগের মতো সহায়ক নাও থাকতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে

অতিরিক্ত চাপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করা খুবই অস্বস্তির। আবার কষ্ট করে কাজ করে যদি সেই কাজের প্রশংসা না পাওয়া যায়, তাহলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। সাধারণ হাঁচি-কাশি এবং ক্লান্তি লেগেই থাকে। এক জায়গায় দীর্ঘ সময় বসে থাকায় রক্তচলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। আবার ব্যস্ততায় সুষম খাবার খাওয়ার সময়ও পাওয়া যায় না অনেক সময়ে। তাই ঘনঘন অসুখে ভোগার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

সম্পর্কগুলো নষ্ট হতে থাকে

চাকরি মানেই অফিস, অফিস মানেই সেখানে অনেকগুলো লোকের সঙ্গে সম্পর্ক। তারা সহকর্মী, তারা যথেষ্ট আপনজন। কিন্তু অফিসের পরিবেশ যদি খারাপ হতে থাকে তো আশেপাশের লোকজনের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। কারণে অকারণে উর্ধ্বতন বা অধ:স্তনদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি বা মনোমালিন্য হয়ে বসতে পারে। তাই নিজেকে সংযত করে নিন, চাকরিটা থেকে বেরিয়ে আসুন বা সমাধান করুন। আবার অনেক সময়ে দেখা যায় যে চাকরির অশান্তিতে পরিবার-পরিজনদের সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।

আপনার মনে রাখতে হবে কিছু কথা। আপনার শারীরিক আর মানসিক সুস্থতার চেয়ে চাকরি বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। চাকরিটাই যদি আপনার গলার কাটা হয়ে থাকে, আপনি দিনদিন বিষণ্ণ আর অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন তাহলে সেখান থেকে সরে যান। যদি এখনই ছাড়ার উপায় না থাকলে ভালো সুযোগের জন্য অপেক্ষা করুন। চেষ্টা করুন একেবারে মন থেকে।

 

বাংলা ইনসাইডার