ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

রোজায় এড়িয়ে যাবেন না ব্যায়াম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৮:০১ এএম
রোজায় এড়িয়ে যাবেন না ব্যায়াম

অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে যে রোজা এলে শুধু বিশ্রাম, নির্ধারিত কিছু কাজ আর পরিমিত খাওয়াদাওয়া। এর মধ্যে শরীর ঠিক রাখতে ব্যায়ামের সময় বা সুযোগটা আর হয়ে ওঠে না। আমাদের দৈনন্দিন কাজেও পরিবর্তন আসে। বেশিরভাগ মানুষই এই সময়টায় ঘরে একটু বিশ্রামে থাকতে পছন্দ করেন। তবে এই সময়ে ব্যায়ামটাও জরুরি। সময় আর সুযোগ বুঝে বিশেষজ্ঞ আর চিকিৎসকের পরামর্শ  অনুযায়ী ব্যায়াম করাই যায়। এটা অলসতা ঝেড়ে ফেলে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সাহায্য করে। তাই রোজায় ব্যায়াম করতে থাকছে কিছু পরামর্শ-

শারীরিক কোনো সমস্যা না থাকলে সবারই রোজায় কিছু হালকা ব্যায়াম করা উচিত। ব্যায়াম অনেক রকমের, যেমন হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো। এছাড়া বিভিন্ন জিম বা হেলথ ক্লাবেও বিশেষ কিছু যোগব্যায়ামও করা যায়। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী, প্রয়োজন পরিবেশগত সুবিধা বুঝে এই সময়ে ব্যায়াম করতে হবে।

আপনি শুরু করুন হাঁটা দিয়ে। সকালবেলায় ব্যায়াম করে নিতে পারলে ভালো। কারণ দিন গড়াতে থাকলে শরীর দুর্বল আর পানিশূন্য হতে থাকে। তাই রোজা রেখে ব্যায়াম করতে চাইলে সকালই ভালো। এজন্য প্রথমে ২০ মিনিট ধরে হাঁটা শুরু করুন। খুব জোরে না হেঁটে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু দ্রুত হাঁটুন। রোজায় প্রতিদিন ব্যায়াম করতে না পারলেও অন্তত সপ্তাহে তিনদিনের একটা পরিকল্পনা রাখুন। ব্যায়াম শুরুর আগে শরীরটাকে ভালোভাবে ওয়ার্মআপ করে নিন, ব্যায়াম শেষ করে কিছু স্ট্রেচিংও করুন। শরীরকে একদম বেশি ঘামতে দেবেন না।

ব্যায়ামের জন্য একেবারে উপযুক্ত কাপড় নির্বাচন করবেন। খুব বেশি ভারী কাপড় পরে ব্যায়াম করবেন না। ব্যায়াম করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখবেন। রোজায় ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করার চেয়ে ঘরের মধ্যে ব্যায়াম করা ভালো। 

এছাড়া সকালবেলা ঘুম থেকে তাড়াহুড়া করে বিছানা থেকে না উঠে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করুন। মনের চিন্তাকে দূর করে চিত হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে দিয়ে শুয়ে শবাসন করুন। এতে শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এতে অনেক পরিশ্রম ও মানসিক চাপ সহ্য করা যায়। শরীরের যেকোনো ব্যথা ও লুকানো সমস্যা দূর হয়।

পাশাপাশি শুয়ে পেটের ওপরে দুই হাত রেখে গভীরভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নিলে ফুলিয়ে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়লে ফুসফুসের শক্তি বাড়ে এবং দিনে ২০ মিনিট এটি করলে ভালো ঘুম হয়।

একেবারে চলাফেরায় অক্ষম না হলে সবার পক্ষেই রোজা রেখে হালকা-পাতলা ব্যায়াম করা সম্ভব। যেহেতু রমজান মাসে শরীরে খাবারের ঘাটতি থাকে, তাই এই সময় বেশি ভারী ব্যায়ামগুলো না করাই ভালো। যেমন ভারোত্তোলন। ট্রেডমিলে হাঁটা, সাইকেল চালানো এবং কিছু ফ্রি-হ্যান্ড এবং ইয়োগা করা যেতে পারে। এই সময় ব্রিফিং এক্সারসাইজ বা প্রাণায়াম অনেক বেশি উপকারে আসে।

ব্যায়ামে শুধু শরীর নয়, মনও সুস্থ-সবল ও সক্রিয় রাখা যায়। তাই দেরি না করে ব্যায়াম চালিয়ে যান।  শুরু করুন, হোক না সেটা রমজান মাস। নিয়মকানুন মেনে ঠিকভাবে ব্যায়াম করলে আপনি এই রোজার মাসেও ফিট থাকতে পারবেন। সম্ভব হলে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করেন। তাহলে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। কারণ রোজা রেখে আপনার রক্তচাপ কমে যেতে পারে, রক্তে শর্করার পরিমাণও কমে যেতে পারে। আর যে কোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রোজার সময় ব্যায়াম করলে খাদ্যতালিকায় শর্করাজাতীয় খাবার রাখতে হবে। ইফতার, রাতের খাবার এবং শেষরাতের খাবারে শর্করাজাতীয় খাবার অবশ্যই রাখবেন। এমন খাবার খাবেন, যা থেকে দ্রুত ক্যালরি পাওয়া যায়। বয়স, উচ্চতা ও ব্যায়ামের মাত্রা অনুসারে ক্যালরির পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। রাতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। চাইলে ইফতারের পানীয়তে একটু লবণ মিশিয়ে নিতে পারেন।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ