ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

রোজায় পোশাক

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ মে ২০১৯ রবিবার, ০৮:০০ এএম
রোজায় পোশাক

প্রকৃতিতে প্রচণ্ড গরম এখন, বাইরে বের হওয়াটাই দায় হয়ে গেছে। রোদের তাপে ঘেমে-নেয়ে একাকার অবস্থা। ঘরের মধ্যে টেকাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বার বার পানি বা পানিজাতীয় খাবার খেলেই যেন জুড়িয়ে যাচ্ছে প্রাণ। আবার, এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পবিত্র রোজার মাস। রোজাদারেরা টের পাচ্ছেন এই গরমে রোজা থেকে, সারাদিন পানীয় না খেয়ে থাকতে কত কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। তবে রোজা যেহেতু থাকতেই হবে, তাই কীভাবে একটু আরাম-আয়েশে থাকা যায় সেটা চেষ্টা করাই জরুরি। এক্ষেত্রে এই রোজা আর গরমে কি পোশাক আপনার জন্য ভালো হবে, সেটা দেখে নেবো আজ-

আগে বুঝতে হবে যে রোজায় কেন আপনার হালকা পোশাক দরকার। কারণ আপনি এমনিতেই সারাদিন না খেয়ে ক্লান্ত থাকেন, পানিস্বল্পতা হয়। তখন আটসাট পোশাক পরলে শরীরে অস্বস্তি হয়, ঘাম হয়, কাজে সমস্যা হয়। এই ঘাম আর ক্লান্তিবোধ তাড়াতে আর মেজাজকে ভালো রাখতে অবশ্যই হালকাপাতলা পোশাকই আপনাকে বেছে নিতে হবে।

আর এই রোজা, গরমকে মাথায় রেখে ফ্যাশনকে একটু এড়িয়ে চলতে হবে। রকমারি ভারি পোশাকআশাক এড়িয়ে চলতে ভালো। কৃত্রিম তন্তুর পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে। পাতলা সুতি কাপড়ের পোশাক পরলে একদিক থেকে যেমন গরম কম লাগবে, অন্যদিকে আরামও লাগবে। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করা যাবে। এতে ঘাম শোষণ হয় বেশি। বাতাস চলাচলে সুবিধা হয়, আরাম পাওয়া যায়।

পাতলা তাঁত ও খাদি কাপড়ের পোশাক এ সময় পরা ভালো। আর পোশাক অবশ্যই ঢিলেঢালা হতে হবে। ঘরের মধ্যে রোজা রেখে ফরমালজাতীয় পোশাক পরে থাকবেন না। আর রং নির্বাচনেও সতর্ক থাকুন। এই সময়ে পোশাকের ক্ষেত্রে সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা বেগুনি, হালকা নীল, বাদামি, আকাশি, হালকা হলুদ, ধূসরসহ হালকা রঙের পোশাকগুলো প্রাধান্য পাবে। কারণ গাড় রঙের পোশাকগুলো তাপ শোষণ কম করে বলে গরম বেশি লাগে।

ঘরের কাজের ক্ষেত্রে

ইফতার আর সেহেরি রোজার অন্যতম আকর্ষণ। এই দুই খাবার আমাদের রোজা রাখার জন্য ফিট রাখে। সেক্ষেত্রে এগুলো রান্না আর প্রস্তুতি নিতে অনেকটা সময় ব্যয় হয়। গরমে চুলায় রান্নার সময়ে প্রচুর গরম লাগে। তখন একেবারে পাতলা, ঢিলা কাপড় পরে নেবেন।

বাইরে বের হলে

আপনি গরমের ভয়ে রোজার দিনে নিশ্চয়ই সারাদিন ঘরে বসে থাকবেন না, কোনো না কোনো প্রয়োজনে আপনাকে বের হতেই হবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে হালকা রঙের ওই সুতি জামা, নরমাল শার্ট, গেঞ্জি, পাতলা ফতুয়া পরেই বের হতে হবে। সুতি কাপড়ের সঙ্গে লিনেন, ধুপিয়ান, ভয়েল, মসলিন, চিকেন ও তাতের কাপড় গরমের জন্য বেশ উপযোগী। আর ফুল হাতা না পরে হাফ হাতা বা কোয়ার্টার হাতার জামা পরবেন।

অফিসের পোশাক

রোজাতেও অনেকটা সময় অফিসে কাটাতে হয়। গরমে রোদ, ধুলা, জ্যাম পার করে অফিস যাওয়া কষ্টকর। তাই অফিসের পোশাকও হওয়া চাই আরামদায়ক। অফিসের ভেতরে হয়ত এসি’র সুব্যবস্থা থাকে। কিন্তু তারপরেও পোশাকের ব্যাপারে সতর্কতা দরকার। অফিসে যেহেতু খুব ফরমাল পোশাক পরতে হয়, তাই অফিস কোড মেনেই আপনার আরামদায়ক পোশাক পরুন। চেষ্টা করুন অফিসে এসময় শাড়ি এড়িয়ে চলতে। স্যুট, কোট পরলেও সেগুলো প্রয়োজনের বাইরে খুলে আরামে কাজ করবেন।

এসময় বার বার ওজু করা, গরমে ফ্রেশ হতে হয়। তাই বেশি ভারি কাপড় পরে আপনি অবশ্যই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন না।

 

বাংলা ইনসাইডার