ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মাসের শুরুতেই ফতুর!

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০৬ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৯:০০ এএম
মাসের শুরুতেই ফতুর!

এবার জীবনের প্রথম ঈদবোনাস পেয়েছিলো সাইদ। এটাই কর্মজীবনের প্রথম ঈদবোনাস। সেই সঙ্গে শেষ মাসটিতেই অগ্রিম বেতনও মিলে যায় তার। সে তো মহাখুশি। কেনাকাটার ধুম, বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার বা ডিনারপার্টি করে, ঘোরার প্লান করতে করতে ঈদটাও চলে যাচ্ছে যাচ্ছে অবস্থা। এদিকে মানিব্যাগের দিকে তাকিয়ে তো চোখ কপালে ওঠার উপক্রম। সেটা খালি হবে হবে ভাব, ওদিকে ঈদ শেষে পুরো মাসটিই এখনো পড়ে আছে। ঈদ তো গেলো, বেতনটাও আগাম পেয়ে গিয়েছিলো, সামনের মাসটা প্রায় খালি হওয়া পকেট নিয়ে কীভাবে চালাবে সাইদ?

সাইদের মতো এমন সমস্যা মধ্যবিত্তদের মাঝে অহরহ ঘটে। ঈদের মহাসমারোহ একটু একটু করে চলে গেলো। সারামাস রোজার আনুষ্ঠানিকতা, দান, ধারদেনা পরিশোধ, ঈদে নিজে আর অন্যের জন্য কেনাকাটা করা হয়েছে অনেক। বিশাল এক আয়োজন চলেছে যেন।

রোজার মাসে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের খরচটা একটু বেশিই হয়। খাওয়া দাওয়া, ইফতার, দাওয়াত বা পার্টিতে কিছু হিসাবের বাইরে খরচ হয়ে যায়। আর দীর্ঘ একমাসের এই খরচ সামলাতে গিয়ে কিছুটা হিমশিম খেতেই হয়। তবুও ধর্মীয় এই আয়োজনকে তো আর উপেক্ষা করা যায় না।

এবার আসি ঈদ আর এর আনুষ্ঠানিকতা প্রসঙ্গে। ঈদ আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই তাদের সাধ্যের মধ্যে ঈদ উদযাপন করে। এই যেমন ঈদে নতুন জামা-জুতো পরা, কাছের মানুষগুলোকে উপহার দেওয়া, সেলামি দেওয়া, বাড়িতে সবার সঙ্গে ঈদ করতে যাওয়া, ছুটিতে কোথাও ঘুরতে যাওয়া আর সঙ্গে যাকাত-ফিতরার মতো ধর্মীয় বিধানের ব্যাপারগুলো তো আছেই। এগুলো করতে গিয়ে বিশাল পরিমাণ একটা খরচ তো হয়েই যায়। এই খরচগুলো চাইলেও উপেক্ষা করা যায় না।

এই যে এত এত খরচ করে ফেললেন, হাতে তো টাকার টানাটানি শুরু হবে। আপনি হয়ত বোনাস, অগ্রিম বেতন পেয়েছেন। বোনাস তো খরচ হয়েছেই, অগ্রিম বেতনের থেকেও খরচ করতে হয়েছে কিছুটা। ওদিকে ঈদ শেষ হচ্ছে মাসের শুরুতেই। ঈদের খরচাপাতির পর সামনে পড়ে আছে পুরোটা মাসই। এই মাসটার খরচ সামলাবেন কীভাবে- সেটা নিয়েই ভাবতে হচ্ছে আপনাকে।

এই চিন্তায় ঈদের আনন্দ আবার মাটি করতে যাবেন না যেন। কারণ ঈদ তো বছরে মাত্র দুবার আসে। এই মাসের শুরুতে পকেট ফাঁকা করে ফতুর হয়ে বসে থাকতে যাবেন কেন? আপনি এতো সংযত হয়ে সামলে চললেই আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ধরুন আপনাকে প্রতিমাসে বাসাভাড়া দিতে হয়। ঈদের খরচাপাতির মাঝখানেই বাসাভাড়াটা আগে মিটিয়ে নিন, কারণ এটা একটা বড় অ্যামাউন্ট। এতে ঈদের পর চাপ কিছুটা কম যাবে। আর চেষ্টা করতে হবে সাধ্যের বাইরে না গিয়ে খরচ করার। যাকে যতটুকু দেওয়ার প্রয়োজন দিন, নিজের জন্যে যতটা প্রয়োজন কিনুন।

আর ঈদের পর একটু সংযত হয়ে তো চলতেই হবে। এই ধরুন আড্ডা, ঘুরে বেড়ানো, দাওয়াত-পার্টি একটু এড়িয়ে চললেন। কারণ ঈদেই তো যথেষ্ট মজা-আনন্দ হলো। এতে খরচ কিছুটা বাঁচবে। সেই সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনাটাও পরের মাসের জন্য রাখুন, এই মাসে আপাতত একটু বিশ্রাম নিন।

ঈদে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে অনেক কেনাকাটা করে ফেলেছেন নিশ্চয়ই। মাসের পরের সময়টাতে কেনাকাটার লাগামটা একটু টেনে ধরুন। পোশাক, সাজগোজ, উপহারের পরিমাণ একবারে কমিয়ে দিন। প্রয়োজনের বাইরে কিছু কেনাকাটা না করাই ভালো। আর ঈদে খাওয়াদাওয়াও হয়েছে প্রচুর। সেই ভালোমন্দ খাওয়াতেও একটু সংযত হয়ে যান অন্তত এই একটা মাস।

আয় করলে আপনি হয়ত একটু সঞ্চয়ের কথাও ভাবেন বা আপনার হয়ত সঞ্চয় আছেও। কিন্তু এই মাসের শুরুতে যেহেতু ঈদের ধকল গেছেই, তাই এই মাসে আপনাকে মাসটা ভালোভাবে চালানোর চিন্তা করতে হবে, সঞ্চয় নিয়ে এইমাসে ভাবার প্রয়োজন নেই। সঞ্চয়ের চিন্তা সামনের মাসের জন্য তোলা থাক।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ