ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

নারীর অফিস, সংসার আর ফিটনেস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:১১ এএম
নারীর অফিস, সংসার আর ফিটনেস

‘সকালে উঠেই নাস্তা বানিয়ে দৌড়ালাম, নিজের খাওয়ার সময়টা পর্যন্ত পেলাম না। এদিকে অফিসে কাজের চাপ, সংসারের বাজার আর মেয়েকে কোচিং থেকে নিয়ে ফিরতেই গলা শুকিয়ে কাঠ। শরীরটাও চলে না, কোনো অবসর নেই যেন…’ এমন আফসোস, এমন যন্ত্রণা প্রতিটি কর্মজীবী নারী প্রতিনিয়তই করে। কারণ তার ডিউটি তো ফুলটাইম। সংসার আর অফিস- কোনোটাই তার কাছে কম নয়। সব সামলাতে গিয়ে শরীর আর মনের অবস্থা বেহাল। এই অবস্থায় সবচেয়ে জরুরি নিজে ফিট থাকা। নইলে অফিস আর বাসা দুটোই তো গোল্লায় যাবে। তাই জেনে নিন কীভাবে ফিট থাকবেন আপনি-

আপনাকে তো ঘরে-বাইরে সবখানে ছুটতে হয়, কোথাও একটু হেরফের হওয়া মানেই আপনার সংসার আর কর্মস্থল- দুটোই বিগড়ে যাবে। তাই একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বানিয়ে নিন অবশ্যই। অফিস ও ঘরের কাজের মধ্যে সমন্বয় রেখে এই পরিকল্পনা তৈরি করুন। সামনের সব কাজের পরিকল্পনাগুলো নিজের হাতে সুবিধামতো গুছিয়ে রাখুন।

রাতে সংসার সামলে, গান শুনে বা মুভি দেখে ঘুমাতে দেরি হয়ে গেছে। ফলে সকালে ঘুম ভাঙতেও নিশ্চয়ই বারোটা বেজে যাবে। আবার সকালে উঠে সংসারের কাজ সামলে দৌড়াতে হবে কাজে। এজন্য নিজে ঠিক থাকতে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠতে একটি সুনির্দিষ্ট সময় বেছে নিন। সংসারের যাবতীয় কাজ শেষ করে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় থাকে যেন। এক্ষেত্রে রাতে ঘুমানোর সময়টি নির্দিষ্ট রাখুন, সময়মতো পর্যাপ্ত ঘুমান।

শরীরের দিকেও একটু খেয়াল দিন। কাজের চাপে চাকরিজীবী নারীরা পানিটা খেতেও ভুলে যায়। এতে হতে পারে পানিশূন্যতা, যা থেকে হতে পারে ইউরিন ইনফেকশন। এটা নারীদের ক্ষেত্রে বড় একটি সমস্যা। তাই কর্মক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা আছে কিনা খেয়াল রাখুন, আর সবসময় পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হালকা ব্যায়াম করুন। এতে সারাদিন আপনার শরীর ও মন সজীব ও চাঙা থাকবে। অফিস থেকে ফিরে আসার পরও নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন।

বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ এড়িয়ে চলুন। নারীদের আবার সময়মতো খাওয়াদাওয়াতে অনীহা প্রচুর। এখন খাচ্ছি, তখন খাচ্ছি বলে সকালের খাওয়ারটা মিস গেলো, দুপুরেও কোনোরকম করে খেলেন। কিন্তু এতে যে আপনি দুর্বল হয়ে যাবেন তা নিশ্চয়ই বুঝবেন। খেতে ইচ্ছে না করলে খাবারে বৈচিত্র্য নিয়ে আসুন। খাবার তালিকায় ফল ও সবজি পর্যাপ্ত রাখুন। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা যাবে না। অ্যাসিডিটিসহ বিভিন্ন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। সবসময় সঙ্গে হালকা খাবার রাখবেন। বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও বিস্কুট জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।

অফিসে একটানা বসে কাজ না করে কাজের ফাঁকে একটু হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাস করুন। দাঁড়িয়ে কাজ করার অভ্যাসও করতে পারেন। এটি আপনার শরীরকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করবে।

ব্যস্ততার অজুহাতে অনেক কর্মজীবী নারীই ছোটখাটো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাকে উপেক্ষা করে যান। এই ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যা বড় সমস্যা হতেই পারে। তাই অবহেলা করবেন না কিছু নিয়ে। কেউ আপনার খোঁজ রাখে না, আপনার সুস্বাস্থ্য বা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন নিয়ে আর কেউ না ভাবলেও নিজে নিজেরটা নিয়ে ভাবুন। নিজেকে নিজের সঙ্গী করে নিন সবার আগে। নিয়মিত ডাক্তার দেখান আর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

সারা সপ্তাহ অফিস আর দৌড়াদৌড়ি করে সংসারটা ঠিক সামলে গেছেন। আপনি অবশ্যই ক্লান্ত। সপ্তাহ শেষদিন বা ছুটির দিনটিতে পরিবার নিয়ে চাইলেই বিনোদনের ব্যবস্থা করতে পারেন। নতুন কোনো জায়গায় দলবল নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন, সিনেমা দেখতে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে পারেন, প্রিয় কারো সঙ্গে দেখা করা ও আড্ডা দেওয়ার কাজটিও সেরে ফেলতে পারেন। বড় ছুটি পেলে দূরে কোথাও ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে বেরিয়েও পড়তে পারেন। এগুলো আপনার একঘেঁয়েমি দূর করবে, কাজ করার নতুন উদ্যম জোগাবে আপনার।

কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচকতার চর্চা একেবারে করবেন না। সহকর্মীদের সঙ্গে পরচর্চায়, পরনিন্দায়, হতাশায় অংশ নেবেন না। এগুলোকে নিরুৎসাহিত করে এড়িয়ে চলবেন। নিজের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো একান্ত কাছের ছাড়া কাউকে বলবেন না। সবসময় হাসিখুশি থাকুন ও নিজের কাজকে উপভোগ করুন।

আর কর্মক্ষেত্রে আপনি নারী হিসেবে কিছুটা উপেক্ষিত হতে পারেন, কখনো পুরুষ সহকর্মীদের দ্বারা নিপীড়নের শিকারও হতে পারেন। তাই বলে নিজেকে গুটিয়ে বা পিছিয়ে রাখবেন না। এগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আপনার। কখনোই প্রকাশ করবেন না যে আপনি দুর্বল, আপনি প্রতিবাদী হলে কেউ আপনাকে বিরক্তও করতে পারবে না। আর পরিবারকেও বোঝাবেন যে সংসারে সবার মতো আপনার অবস্থানও সমান। কেউ যেন দমিয়ে রাখতে না পারে আপনাকে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ