ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে অসামাজিকতা

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০১৯ রবিবার, ০৮:০৭ এএম
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে অসামাজিকতা

বন্ধুরা আজকাল দেখা হলেই বলছে, ‘কীরে এত অসামাজিক হয়ে যাচ্ছিস কেন দিন দিন? ক্লাসে আসিস না ঠিকমতো, কোথাও বের হতে বললে বাহানা দিয়ে আসিস না, কথাবার্তায় কোনো মনোযোগ নেই… কেন, মন থাকে কোথায়?

আসলেই তো, মন থাকে কোথায়। খেয়াল করলেন আপনাকে ইদানীং অনেকেই অসামাজিক বলছে। এমনকি দায়িত্বহীন কিংবা অলস বদনামও শুনতে হচ্ছে। আপনি বদলে যাচ্ছেন নাকি কেউ কেন বুঝতে পারছে না আপনাকে সেটাই প্রশ্ন। ভেবে দেখুন তো কিছু নিয়ে কি খুব চিন্তিত আপনি, এমনো তো হতে পারে আপনি দুশ্চিন্তায় হারিয়ে ফেলছেন নিজেকে। তাই আপনার হঠাৎ এই পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন না আপনার কাছের মানুষেরা। সেজন্য মিলিয়ে দেখুন এই বিষয়গুলো-

কোথাও যেতে চেয়ে না যাওয়া

কিছুদিন আগেই সহকর্মীর মেয়ের জন্মদিনের দাওয়াতে যাননি আপনি। সহকর্মী তো ভীষণ রেগেছে আপনার ওপর। আপনার ইচ্ছা থাকার পরেও যে আপনি যাননি সেটা বোঝাতে পারছেন না। আপনি বিভিন্ন চিন্তায় বুদ হয়ে আছেন, কারো সঙ্গে দেখা বা আড্ডায় মেতে উঠতে ভালো লাগছে না বলেই আপনি গেলেন না।

আবার বন্ধু ফোন দিয়ে ডাকছে, ইচ্ছে করেই ফোনটা ধরলেন না। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আপনি গেলেন না কারণ আপনার মনের মধ্যে চলছে ভীষণ কোনো দুশ্চিন্তা।

ছোটখাট বিষয়ে বেশি মাথা ঘামানো

চাকরিতে একটু সমস্যা চলছে, অথচ আপনি ভেবেই নিচ্ছেন যে আপনার বোধহয় চাকরিটা গেলোই। বসের অমুক কথাটা তো ভালো লাগলো না। আবার বাড়ি ছাড়তে হবে, নতুন বাড়ি পাবেন কি না সেটা নিয়ে আপনি একেবারে তলিয়ে যাচ্ছেন ভাবনায়। ছেলেমেয়েগুলোই বা এমন বদলে যাচ্ছে কেন- এমন হাজারো প্রশ্ন আপনার মাথায় সারাদিন ঘুরপাক খাচ্ছে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের ক্ষেত্রে এটা হয়। সবাই ভাবছে এত ছোট বিষয় কেন ভাবেন আপনি। কিন্তু এই ছোট বিষয়কেই কেন যেন বড় মনে হচ্ছে আপনার।

দেরিতে ঘুম, তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙা

সময়মতো বিছানায় শুয়ে চোখ বুজে আছেন, কিন্তু ঘুমের কোনো দেখা নেই। রাজ্যের চিন্তা ঘুমের সময় চলে আসে। ফলে ঘুমাতে অনেক দেরি। আবার খুব সকালে ঘুমটাও ভেঙে গেলো। কারণ হলো দুশ্চিন্তাগুলো কিছুতেই আপনার মাথা থেকে বের হচ্ছে না। একেবারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে চিন্তা।

সবকিছুর নেতিবাচক ভেবে রাখা

কোথাও দলবল নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা। অথচ আপনি চিন্তা করে বসে আছেন যে না জানি কি দুর্ঘটনা ঘটে। এজন্য আপনি কোথাও না গিয়ে হিসেবে লুকিয়ে থাকেন। আবার কোনো চাকরির পরীক্ষা আছে অথচ চাকরিটা হবেনা ভেবে আপনি আর গেলেনই না পরীক্ষা দিতে। অথচ আপনার পরিচিত দুএকজন পরীক্ষা দিয়ে এলো ঠিকই। এগুলো চিন্তা আপনাকে একেবারে অসামাজিক করে দেবে।

একই কথা ভাবতে থাকা

কিছুক্ষণ আগেই একজনের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়েছে। যা আলাপ করেছেন সেগুলোই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কোনো ভুল করেননি তো? বেশি কথা বলে ফেললেন কিনা বা সে কিছু মনে করলো কিনা তা নিয়ে আপনার মনের মধ্যে খচখচ করছে। এভাবে অনেকক্ষণ একই মানুষের সঙ্গে আলাপের মুহূর্তগুলো ঘুরপাক খেতে থাকে আপনার মস্তিষ্কে।

কেউ আপনাকে নিয়ে সচেতন তো দুশ্চিন্তা আরও বাড়লো

কেউ আপনাকে নিয়ে একটু বেশি ভাবলে আপনার দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। কারণ তখন আপনার মনে হতে থাকে যে আপনার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে। আর আপনার এই অন্যমনস্ক দোনোমনো ভাব আর দুশ্চিন্তারে ব্যাপারটি হয়ত সবার চোখেই পড়ে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা

ভবিষ্যৎ শব্দটির কথা ভাবলে আপনি যেন আরও বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে যান। আপনি নিজেও জানেন না যে ভবিষ্যতে কি করতে পারবেন, অথচ চিন্তা করে কোনো কূল পাচ্ছেন না। আপনি জানেন না যে চিন্তার চেয়ে আপনার সমাধান জরুরি। আবার কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে আপনি থতমত খেয়ে যান, আরও বেশি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।

সমবয়সীদের সাফল্য দেখে চিন্তা সঙ্গে তুলনা

আপনার বয়সী বন্ধুরা এখন অনেক সফল। তাদের বেতন, স্ট্যাটাস  আপনার থেকে ভালো। ব্যক্তিগত জীবনেও তারা সফল। কিন্তু আপনার মধ্যে হয়ত এগুলোর ঘাটতি রয়েছে। এসব নিয়ে নিজের সঙ্গে তাদের তুলনা করতে থাকেন সারাক্ষণ। নিজেকে খুব দুঃখী এবং ব্যর্থ মনে হয় তখন।

শারীরিক ও মানসিক বিপর্যস্ততা

মাঝে মাঝে আপনি শারীরিক আর মানসিকভাবে একবারেই ভেঙে পড়েন। খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, বিছানা থেকে একেবারেই উঠতে পারেন না। কারণ আপনি কিছু নিয়ে এতই দুশ্চিন্তায় থাকেন যে আপনার সর্বশেষ শক্তিটুকু শেষ হয়ে যায়। নিজেকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এজন্য ভীষণ বিপর্যস্ত লাগে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ