ঢাকা, রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

আপনার মেয়েটি কিন্তু ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০১৯ সোমবার, ০৮:০০ এএম
আপনার মেয়েটি কিন্তু ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়

আপনার অতি আদরের মেয়েটি আপনার পুরো বাড়িটি যেন আলোয় ভরিয়ে রাখে। তার ছোট হাতের আলতো ছোঁয়া, তার দুষ্টুমি, ছোট থেকেই লক্ষীমন্ত সংসারী ভাব আপনাকে কখনো না কখনো অবাক করে দেয়। এই অতি আদরের সন্তানের কোনো করুণ পরিণতি বা হয়রানি আপনার জন্য মেনে নেওয়া সম্ভব না। সমাজ নিজেও এটা মেনে নিতে পারে না। কিন্তু এই সমাজে আমাদের অলক্ষ্যেই অসংখ্য মেয়েশিশুদের হয়রানি এবং হত্যার ঘটনা ঘটছে। গণমাধ্যমে সেই খবর প্রতিনিয়ত আসছে। আর তাই সচেতন হওয়ার সময় চলে এসেছে অনেক আগেই। আপনিও সচেতন হন। কন্যা সন্তানের নিরাপত্তা শুধু ঘরে নয়, ঘরের বাইরেও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সে যখন ছোট কিংবা কিশোরী বয়স অতিক্রম করছে। তাকে নিয়ে যখন বাইরে বের হবেন, আলাদা নজর দিতে হবে তার প্রতি।

আপনার ছোট মেয়েটিকে আপনি অবশ্যই চোখে চোখে রাখেন। কিন্তু চোখের আড়ালে কখন কি হয়, সেটা তো আপনি টের পাচ্ছেন না। যদি দেখেন যেকোনো পুরুষ খুব গায়ে পড়ে মেয়েটিকে আদর করতে আসে কখনোই তাতে সায় দিতে যাবেন না। কারণ এই গায়ে পড়া আদরের আড়ালে কোন খারাপ উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।

আপনার সন্তানটিকে নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানে গেলে তাকে অন্যদের সঙ্গে নিশ্চিন্তে ছেড়ে দেবেন না কখনোই। কারণ সেখানে চেনা-অচেনা বিভিন্ন ধরনের উপস্থিতি থাকবে। সবার মানসিকতা একই ধরনের নাও হতে পারে। তাকে নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করবেন। দুর্ঘটনা ঘটার কোনো নিশ্চয়তা তো নেই।

আপনার মেয়েটিকে নিয়ে মার্কেট বা কোনো ভিড়ভাট্টার মধ্যে গেলে তাকে আগলে রাখুন। কারণ এসব জায়গায় আপনার কন্যা সন্তানটির হয়রানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে খুব বেশি। সে কখন চোখের আড়াল হলো, সেই আড়ালে গিয়ে কি হলো সেটা বোঝার আগেই ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।

আপনার মেয়ে সন্তানটির সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক সবসময় বজায় রাখুন। আপনাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকলে সে এই ধরনের কোনো সমস্যায় পড়লে সেটা আপনাকে বলতে চাইবে না। তাকে আগে থেকেই সতর্ক করুন কিছুটা, কেউ কোনো সমস্যা করলে আপনাকে যেন আগেভাগেই সে জানায়। তার হয়রানির কথা যাতে সে আপনাকে শেয়ার করতে পারে, মন খুলে বলতে পারে সেই ব্যবস্থা করবেন।

গণপরিবহনে উঠলে সন্তানটিকে কখনো চোখের আড়ালে রাখবেন না। তাকে অন্য সিটে বসাবেন না। নিজের পাশে নিয়ে বসবেন। দাঁড়িয়ে চলাচল করবেন না। নিজে দাঁড়িয়েও তাকে বসতে দেবেন না। একেবারে হাত ধরে রাখুন। কারণ গণপরিবহনগুলোতে এখন নারী হয়রানির ঘটনাগুলো বেশি ঘটে।

স্কুল একটু দূরে হলে মেয়ে সন্তানটিকে অনেক সময়েই স্কুল ভ্যানে বা গাড়িতে স্কুলে পাঠাতে হয়। সেখানেও রয়েছে বিশাল ভয়ের এক থাবা। কারণ ভ্যান বা গাড়ির ড্রাইভারের দ্বারা আপনার মেয়েটি কোনোভাবে হয়রানির শিকার হয়ে বসতে পারে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলবেন। কোনো সমস্যা হলো কিনা খেয়াল রাখুন।

শুধু স্কুল বাস বা পাবলিক বাস ই নয়, নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে মেয়েকে পাঠিয়ে আপনি অবশ্যই নিরাপদে বসে থাকবেন না। তার কাছে থেকে সারাদিনের নানা ঘটনা মন খুলে শোনার চেষ্টা করুন। ড্রাইভারের আচরণ নিয়ে তাকে সুন্দর প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে চেষ্টা করুন সব ঠিকঠাক আছে কিনা।

সন্তানকে যদি বাড়ির বাইরে প্রাইভেটে পাঠাতে হয়, তবে সেখানে সে নিরাপদ কিনা জানার চেষ্টা করুন। কারণ কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট পড়তে গিয়ে অসংখ্য হেনস্তার খবর আমরা প্রতিদিনই দেখতে পাই। সবচেয়ে ভালো হয় আপনার মেয়েটিকে আনা-নেওয়া করলে, মাঝেমধ্যে সে পড়ার সময়ে আপনি বসে থাকলে বেশি ভালো হয়। এতে তাকে চোখে চোখে রাখা সহজ হয়।

আর একা তাকে কোথাও পাঠাবেন না। খুব কাছের কেউও যদি তাকে নিয়ে কোথাও যেতে চায়, সেটা দেবেন না। খুব দরকার হলে আপনিও সঙ্গে যান। একা কারো সঙ্গে পাঠাবেন না। আর দোকানপাটে পাঠানোর অভ্যাস করাবেন না মেয়েটিকে। আশেপাশের বাসায় খেলার জন্যেও ভেবেচিন্তে পাঠাবেন। যে বাসায় যাচ্ছে, সেই বাসায় কে না কে যাওয়া আসা করছে সেটাও খোঁজ নিন। অর্থাৎ আপনার মেয়েটি যেন নিরাপদে থাকে।