ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জানুন চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৩:২৩ পিএম
জানুন চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে

এই বর্ষা আর পানি জমে থাকার মৌসুমে মশাবাহিত রোগগুলো যেন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আর সেই রোগগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার নাম শুনলে আত্মাটাই কেঁপে ওঠে যেন। কারণ এই রোগ দুটি খুব ভোগায়, কখনোবা মহামারী হয়ে উঠতে পারে। ডেঙ্গু তুলনায় চিকুনগুনিয়া আমাদের কাছে কিছুটা নতুন। এর সম্পর্কে আমাদের জানাবোঝাও কম। অনেকে আবার ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়াকে একসঙ্গে মিলিয়েও ফেলেন্। তাই তাদের জন্য চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে থাকছে আজকের আলোচনা-

চিকুনগুনিয়া ভাইরাস টোগা ভাইরাস গোত্রের ভাইরাস। মশাবাহিত হওয়ার কারণে একে আরবো ভাইরাসও বলে। ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাস ও একই মশার মাধ্যমে ছড়ায় এবং প্রায় একই রকম রোগের লক্ষণ দেখা যায়। এডিস ইজিপ্টি (Ades aegypti) এবং এডিস এলবোপিকটাস (Ades albopictus) মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। মশাগুলোর শরীরের ও পায়ের সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ দেখে সহজেই চেনা যায়।

রোগের লক্ষণ

জীবনের জন্য এ রোগ সরাসরি হুমকি নয়, কিন্তু আক্রান্ত হলে নানা শারীরিক অসঙ্গতি দেখা দেয়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে হঠাৎ অতিমাত্রায় জ্বর, মাথাব্যথা, হাড়ে ব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা ও ফুলে যাওয়া, অস্থিসন্ধির ব্যথা, চোখের কোটরে ব্যথা, সর্দি, বমি বমি ভাব, হাত ও পায়ের গিঁটে এবং আঙুলের গিঁটে ব্যথা, ফোসকা পড়া এবং শরীর বেঁকে যাওয়া, ক্লান্তি, পেটব্যথা, ফটোফোবিয়া বা আলোর দিকে তাকাতে সমস্যা, কনজাংটিভাইটিস ইত্যাদি।

তিন থেকে পাঁচদিনে যখন জ্বর কমতে শুরু করে তখন চুলকানি এবং র‌্যাশ বা লাল লাল দানা দেখা যেতে থাকে। এ র‌্যাশ দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ ভাইরাসের সুপ্তিকাল ২-১২ দিন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা তিন থেকে সাতদিন হয়। অনেক সময় এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও কোনো উপসর্গ প্রকাশ পায় না।

চিকুনগুনিয়া কিন্তু ছোঁয়াচে নয়

চিকুনগুনিয়া ছোঁয়াচে নয়। এ ভাইরাস মশা থেকে মানুষের শরীরে আসে, আবার আক্রান্ত মানুষকে কামড় দিলে মশাও আক্রান্ত হয় এবং বাহক হিসেবে আবার মানবদেহে প্রবেশ করায়। এ কারণেই পরিবারের একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, আক্রান্ত রোগী থেকে যেন রোগ ছড়াতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ জন্য রোগীকে আলাদা রাখতে হবে।

শিশুদের চিকুনগুনিয়া

সাধারণত যেকোনো ভাইরাস জ্বর ধীরে ধীরে বাড়ে। তবে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত অনেক শিশু হঠাৎ করে তীব্র জ্বর নিয়ে আসতে পারে।

চিকুনগুনিয়া নাকি ডেঙ্গু

শুধু নারী এডিস মশার কামড়েই এ রোগ হতে পারে। সাধারণত কামড় দেওয়ার ৫ দিন পর থেকে শরীরে লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে। তবে এ রোগে আক্রান্তদের এক-চতুর্থাংশই তাদের রোগ সম্পর্কে বুঝতে পারে না। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব একই সময় দেখা দেয় এবং লক্ষণও প্রায় একইরকম।

লক্ষণ দেখে এবং সাধারণ কিছু পরীক্ষার সাহায্যে চিকুনগুনিয়া মোটামুটি আন্দাজ করা যায়। তবে অবশ্যই ডেঙ্গুর জন্য টেস্ট দিয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে এটা ডেঙ্গু কিনা। এছাড়া চিকুনগুনিয়া রোগে অ্যান্টিবডি টেস্টও আছে। তবে প্রায় ক্ষেত্রে এটির প্রয়োজন হয় না।

ডেঙ্গুর মতো এ রোগটি এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ালেও ডেঙ্গুর সঙ্গে এর কিছুটা পার্থক্য আছে। ডেঙ্গুতে হাড়ে ব্যথা হলেও প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হয় না, তবে এ রোগে হাড়ে প্রদাহ হয়। তাই হাড়ে ও গিরায় তীব্র ব্যথা হয়। আবার ডেঙ্গুতে রক্তের অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট কমে গিয়ে রক্ত পড়ার আশঙ্কা থাকে, তবে চিকুনগুনিয়ায় সেই আশঙ্কা কম।

আপনার করণীয়

সমাধান অনেকটা আমাদের হাতেই। চিকুনগুনিয়ার বিস্তার কমাতে হবে এবং প্রতিরোধ করতে হবে। প্রধান উপায় হল ঘুমানোর সময় মশারি টাঙানো, লম্বা হাতলযুক্ত জামা ও ট্রাউজার পরে থাকা।

সবচেয়ে বড় কথা মশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। দুর্বলতা কাটাতে বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ছড়ায় বেশি। ঘরের মধ্যে এই মশা সাধারণত কামড়ায় না। বাইরে অন্ধকার স্থানে ভোর ও সন্ধ্যার দিকে বেশি কামড়ায়।

চিকিৎসা কেমন হয়

প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। প্রচুর পানীয় পান করতে হবে। ত্বকের র‌্যাশ ধীরে ধীরে কমে যাবে। ব্যথা ও র‌্যাশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুঝুঁকি প্রায় নেই বলেই চলে। সাধারণত পর্যাপ্ত পানি, তরল, ডাবের পানি, ফলের জুস ইত্যাদির সঙ্গে বয়স অনুযায়ী প্যারাসিটামল খেলে এ রোগ সপ্তাহখানেকের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। হাড়ে বা জয়েন্টে ব্যথা হলে বরফ লাগিয়ে দিলে ব্যথা কমবে। ব্যথা একটু কমে এলে ফিজিওথেরাপি দেওয়া যাবে। চিকুনগুনিয়া রোগে হাড়ে ব্যথা এক থেকে দুইমাসও থাকতে পারে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ