ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

সন্তান বিবাহবিচ্ছেদে যেতে চাচ্ছে, কি করবেন?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৯ শনিবার, ০৮:০০ এএম
সন্তান বিবাহবিচ্ছেদে যেতে চাচ্ছে, কি করবেন?

বেশ কিছুদিন থেকে মেয়েটার সংসারে সমস্যা চলছে। এত দেখেশুনে ভালো পরিবারে মেয়েকে বিয়ে দিলেন, অথচ সমস্যার কোনো অন্ত নেই। আপনারা বাবা-মা, বয়স হয়েছে, সন্তানের এই সময়গুলোতে তাদের পাশে থাকতে গিয়ে আপনি হয়ত আরও বেশি ঘাবড়ে যেতে পারেন। সবার আগে আপনাকে অনেক বেশি শক্ত হতে হবে। তারপর ভাবুন কীভাবে পরিস্থিতি উতরে যাবেন আপনি। সন্তান হয়ত এরই মধ্যে বলে বসলো সে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। আপনি তো মাথায় হাত দিয়েই বসে পড়লেন!

বিবাহবিচ্ছেদ জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অভিভাবক হিসেবে আপনাকে আগে সবটা জানতে হবে। জেনেবুঝে, সন্তানের সঙ্গে বা দম্পতির সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলে নিন। তার মনোভাব জানুন, তারপর সিদ্ধান্তে যান। আর হ্যাঁ, কোনো অবস্থাতেই সরাসরি মতামত চাপিয়ে দেবেন না বা জোর করবেন না। এটা তাদের জীবন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তো তাদের আছে অবশ্যই।

তাদের সিদ্ধান্তটি সঠিক না ভুল সেটা সরাসরি না বলে সিদ্ধান্তের ভালোমন্দ দিকগুলো তাকে বোঝান। তাদের দাম্পত্য জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করে দেখুন। তার জীবনসঙ্গীর ইতিবাচক দিকগুলো কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করুন।

বিচ্ছেদের পর কি হতে পারে তা নিয়ে তা নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন। সন্তান বিবাহবিচ্ছেদের পর সবকিছু সামলাতে পারবে কিনা প্রশ্ন করুন। কারণ বিবাহবিচ্ছেদের পরে সামাজিক বিভিন্ন চাপ, নিঃসঙ্গতা এবং সবকিছুতে ছোটখাটো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ একদম একা সামলাতে হয়। বিচ্ছেদ পরবর্তী অর্থনৈতিক অবস্থা, তাদের সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে সমস্যাগুলো তাকে বোঝান।

মনে রাখবেন, বিচ্ছেদ একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তাই কখনো তাড়াহুড়ো না করে ভেবেচিন্তে সময় নিয়ে ভাবতে বলবেন। আর ঠিক কি কারণে বিবাহবিচ্ছেদ নিতে চাচ্ছে, সেটা কোনোভাবে সমাধান করা যায় কিনা সেটা নিয়ে দুজনের সঙ্গেই আলোচনা করুন।

সন্তান যদি সবদিক দিয়ে নিজেকে সামলে নিতে পারে, তার সিদ্ধান্ত যদি আপনার কাছে যৌক্তিক মনে হয় তাহলে তার সিদ্ধান্ত মেনে নিন। পাশে থাকুন তার যেকোনো সমস্যায়।

আপনার আশপাশটাকেও সামলাতে হবে

আপনার সন্তানের কেন বিচ্ছেদ হলো, মাত্র কয়বছরের সংসারে এত অশান্তি কেন, কারো কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা, পরবর্তীতে কি হবে- এগুলো নিয়ে আশেপাশের মানুষ অশান্তি করে শেষ করে দেবে একদম।

এজন্য সবার আগে আপনাকে শক্ত হতে হবে। আশপাশের মানুষের অহেতুক সমালোচনা, কৌতূহল উপেক্ষা করতে হবে। নেতিবাচক মন্তব্যে প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ করবেন না, সন্তানদের বিবাহবিচ্ছেদ সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করবেন না। আপনার সন্তানের বিচ্ছেদ নিয়ে আপনার আচরণের কুণ্ঠাবোধ আশেপাশের সবাইকে আরও বেশি উৎসাহী করে তুলবে।

আপনার নিজস্ব সামাজিক মেলামেশা, নিজের প্রতি যত্ন যতটা সম্ভব বজায় রাখুন। সন্তানের এত বড় একটা দুর্যোগ, অবশ্যই ভেঙে পড়ার কথা। এটা জীবনের একটা ছন্দপতন। পরিবারের জন্য এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। কিন্তু এটা আপনাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে। মনে করুন এটা চলমান জীবনের একটা অংশ। এর তীব্রতা প্রথমদিকে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা অভ্যাস হয়ে যেতে থাকবে। দেখবেন সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। জীবনটা নতুন বা অন্যভাবে শুরু করে নেওয়া সম্ভব।

তাহলে কি করবেন

সিদ্ধান্তটা ঠিক না ভুল হলো তা নিয়ে বেশি ভাববেন না। কারণ একটি সম্পর্কে ইতি মানে সেটা সামলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা খুব ভয়াবহ। সমাজকে একপাশ করে আগে ভাবুন আপনার ভেঙে পড়া সন্তানটির কথা। পরম মমতায় তার পাশে দাঁড়ান। সব পাশ কাটিয়ে আপনার মনের রাগ, জেদ, তর্ক, অভিমানকে বিসর্জণ দিতে থাকুন। সন্তানকে আরেকটু বেশি ভালোবাসার চেষ্টা করুন।

সন্তানের বিষয়ে কোনো সমালোচনা বা বিরূপ মন্তব্য করবেন না। সামাজিক মেলামেশা থেকে সন্তানকে বিচ্ছিন্ন রাখবেন না, তাকে সবার সঙ্গে মিশতে দেবেন। পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান। সে আবেগী হলে সেটা শোনার চেষ্টা করুন। নিজে আর সন্তানকে স্বাভাবিক জীবনের দিকে চালাতে থাকুন।