ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কতটুকু মাংস খাবেন ঈদে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০১৯ রবিবার, ০৬:১৩ পিএম
কতটুকু মাংস খাবেন ঈদে?

আসছে কুরবানীর ঈদ, কতো পরিকল্পনা করেছেন যে কবজি ডুবিয়ে মাংস খাবেন। কতো রেসিপি দেখে রেখেছেন ঈদের বিশেষ ধরনের মাংস রান্নার জন্য। অসুখ বিসুখ যাই থাক না, এই ঈদে নিজের বাড়িতে বা দাওয়াতে মাংস খেতে কেউ কৃপণতা করে না। বছরের অন্য সময়ে মাংস না খেলেও কুরবানীতে মিস করতে চাইবেন না অবশ্যই। অনেকে আবার ভাবেন যে ঈদের কয়দিন মাংস খেলে তেমন ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু না, ভয় আছে। একটু বেশি মাংস খাওয়া আমাদের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এই ঈদে ঠিক কতটুকু বা কেমন মাংস খাওয়া আপনার জন্য ভালো হবে তাই নিয়ে আজকের আলোচনা-

মাংস প্রক্রিয়াজাত হয়ে আসার পরেও দেখবেন মাংসে প্রচুর চর্বি থাকে। ওজন বাড়া এবং বিভিন্ন রোগ বেড়ে যাবার জন্য কিন্তু এই চর্বিই দায়ী। এসব কারণে মাংস থেকে চর্বি কেটে ফেলে দিন যতটা সম্ভব। অনেকেই চর্বিযুক্ত মাংস পছন্দ করেন কিন্তু স্বাস্থ্যের প্রতি মায়া থাকলে এই চর্বিটুকু বাদ দেওয়াই আপনার জন্যই ভালো।

মাংসে বেশি চর্বি থাকলে প্রথমে গরম পানিতে মাংস সেদ্ধ করে নিন, এরপর চর্বি পানিতে গলে গেলে ভালোভাবে ছেঁকে নিয়ে রান্না করুন।

মাংস রান্নার সময়েও অতিরিক্ত অতিরিক্ত তেল-চর্বি না দিয়েই রান্না করার চেষ্টা করুন। চর্বি ফেলে দেওয়ার পরে মাংসের ভেতরে যতটা চর্বি থাকে তা রান্নার জন্য যথেষ্ট। এতে আরও চর্বি বা তেল যোগ করলে রান্না হয়তো মজা হবে কিন্তু স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। তাই চর্বিকে কোনোভাবেই গ্রহণ করবেন না।

মাংসের কিমাতেও কোনো ধরনের চর্বি রাখবেন না। কড়াইতে কিমা একটু ভেজে নিন, এতে চর্বিটা গলে বের হয়ে আসবে। এই চর্বিটুকু কড়াই কাত করে ফেলে দিন। এছাড়াও ঝাঁঝরি চামচে করে মাংস তুলে নিতে পারেন এতে চর্বিটা আলাদা হয়ে যাবে। তারপর মাংসটুকু তুলে পেপার টাওয়েল দিয়ে চর্বিটুকু শুষে নিতে পারেন।

এছাড়াও গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। একটি ঝাঁঝরি বোলে মাংসের কিমাটুকু রাখুন। এরপর প্রায় ফুটন্ত গরম পানি এর ওপরে ঢালতে থাকুন। এতে পানির সাথে চর্বিটুকু গলে চলে যাবে। পানি ঢেলে দেবার পর পাঁচ মিনিট ধরে পানিটা ঝরিয়ে নিন।

কুরবানী এলেই যে সবজি খাওয়া বাদ দেবেন- এমনটা ভাববেন না। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার জন্য অনেকটা করে সবজি খাবেন প্রতিটি বার মাংস খাওয়ার সময়ে। এছাড়াও খেতে পারেন সালাদ অথবা সবজির তরকারি। মাংসের সঙ্গেও সবজি দিয়েই রান্না করতে পারেন।

দৈনিক কিছু পরিমাণ প্রোটিন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যই জরুরি। কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। অনেকে মনে করেন কুরবানীর সময়ে দুই-তিনদিন বেশি মাংস খেলে কিছু হয়না বোধহয়। কিন্তু তা না করাই ভালো। দৈনিক ৯০ গ্রামের বেশি মাংস না খাওয়ার চেষ্টা করুন।

মাংসে টেস্টিং সল্ট, সস এসব উপকরণ ক্ষতিকর দিকটা আরো বাড়িয়ে দেয়। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকুন; চেষ্টা করুন যথাসম্ভব পরিহার করতে।

গরু কিংবা খাসি ভুনা খাওয়ার চেয়ে হালকা তেলে যেকোনো রেসিপি চেখে দেখতে পারেন। সালাদ কিংবা হালকা তেলে ভেজে নেওয়া মাংস খেতে পারেন। মগজ ও কলিজা যথাসম্ভব পরিহার করুন।

মাংসের ঝোলে অপেক্ষাকৃত বেশি জমা থাকে সব মেদবহনকারী উপাদান। তাই যথাসম্ভব ঝোল পরিহার করুন খাওয়ার সময়।

বাংলা ইনসাইডার