ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

অগ্নিনির্বাপনে প্রস্তুত তো আপনি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০১৯ শনিবার, ০৮:০৬ এএম
অগ্নিনির্বাপনে প্রস্তুত তো আপনি?

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে অগ্নিকাণ্ড চরম এক আতঙ্কের নাম ছিল আমাদের কাছে। এটি এমন একটি দুর্ঘটনা যেটি বলে কয়ে তো আসবেই না, উল্টো আপনার জীবন আর সহায়-সম্পত্তিকে একেবারে শেষ করে দিয়ে দিয়ে যাবে। এজন্য আপনাকেই সবার আগে সচেতন হতে হবে, সাবধান থাকতে হবে সবার আগে। তা না হলে আগুন তছনছ করে দেবে সব। তাই আপনার জন্য থাকছে আগুন থেকে বাঁচার জন্য কিছু সতর্কতা-

আগুন লাগার আগেই সতর্কতা

নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসের ফোন নম্বর বাসার সবার মোবাইলে সেভ করে রাখুন।  বাসা বানানোর সময় সিড়িগুলো প্রশস্ত করুন যেন আগুন লাগলে বা ভূমিকম্প হলে সবাই তাড়াহুড়া করতে নামতে গিয়ে সিড়িতেই না মারা পড়ে। সম্ভব হলে লাদা ফায়ার এক্সিটের ব্যবস্থা করতে হবে, বিশেষ করে বড় শপিং মল আর অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে।

বড় শপিংমল বা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলোতে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র আছে কি না খেয়াল করুন। না থাকলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সমস্যা হলে সবাই মিলে উদ্যোগ করে কিনে ফেলুন। আর থাকলে সেটার মেয়াদ আছে কি না খেয়াল রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্র কিন্তু ভালোর থেকে খারাপ হতে পারে।

সকল সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত অফিস, স্কুল, কলেজসহ সব জায়গায় প্রতিটি ব্যক্তিকে প্রাথমিক ফায়ার ফাইটিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বাসার দরজার সামনে ভারি কিছু রাখবেন না, এতে দরকারের সময় বের হতে সমস্যা হবে। রান্নাঘরের জানালা একটু হলেও খোলা রাখবেন, যাতে গ্যাস লিক হলে জানালা দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে। সামর্থ্য থাকলে এক্সহোস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন। আগুন জ্বালানোর আগে কিছুক্ষণ ফ্যান ছেড়ে রাখুন।

সামর্থ্য থাকলে বাসায়, অফিসে, অ্যাপার্টমেন্টে ফায়ার অ্যালার্ম লাগিয়ে রাখুন। সেগুলো ঠিক আছে কিনা নিয়মিত চেক করুন।

বৈদ্যুতিক সংযোগের তার অন্তত কয়েক মাস পর পর পরীক্ষা করান। সেকেন্ড হ্যান্ড বা নকল সুইচ, সকেট, তার ব্যবহার করবেন না।

সিএনজি চালিত গাড়ি কিংবা সিএনজি থাকলে সিলিন্ডার নিয়মিত পরীক্ষা করান এবং মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পরিবর্তন করুন। কারণ কখন বিস্ফোরণ ঘটে তা কে জানে।   

কোনো অবস্থাতেই রাসায়নিক দ্রব্যের দোকান বা গোডাউন আবাসিক এলাকায় করতে দেবেন না। বাসার মালিক আপনি না হতে পারেন, কিন্তু আগুন মালিক বা ভাড়াটিয়া চেনে না, এমনকি প্রতিবেশীও চেনে না। সুতরাং নিজেদের নিরাপত্তার জন্যই টাকার লোভে আবাসিক এলাকায় এ ধরনের দোকান ভাড়া দেওয়া বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

আগুন লাগলে…

চিৎকার করে সবাইকে সাবধান করে দিন। আপনার ভবনের ঠিক কোথায় আগুন লেগেছে সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। ফায়ার বিগ্রেড, ৯৯৯ এ ফোন করুন যত দ্রুত সম্ভব। আশেপাশের ভবনগুলো থেকে সবাইকে বের করে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করুন। বিদ্যুৎ ও গ্যাস অফিসে যোগাযোগ করে এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস বন্ধ করে দিতে বলুন।

উদ্ধারকর্মীদের যথাসম্ভব সাহায্য করুন। নিজেই যদি আগুনে আটকা পড়েন তাহলেও আপনাকে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হবে।

ঘরের জানালা, দরজা দ্রুত বন্ধ করে ফেলুন। ঘরে বাতাস ঢোকার সকল পথ বন্ধ করে দিন। জানালা খোলা মানে আরও অক্সিজেন, আগুন যতক্ষণ অক্সিজেন পাবে জ্বলতেই থাকবে।

পালাতে গিয়ে উঁচু ভবন থেকে লাফ দিবেন না। আগুন কাছাকাছি থাকলে দরজা গরম থাকবে, সেক্ষেত্রে বের হওয়া মানে আগুনে ঝাঁপ দেওয়া। যদি ঠাণ্ডা থাকে তবুও দরজা ধীরে ধীরে খুলুন। চোখ, কান খোলা রেখে বের হন। বের হবার পর প্রতিটি দরজা লাগিয়ে রাখুন।

উঁচু ভবন থেকে বের হবার ক্ষেত্রে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। ভুল করেও লিফটে উঠবেন না। যদি বের হবার বা পালানোর সুযোগ একেবারেই না থাকে তাহলে যতভাবে সম্ভব আগুনকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। দাহ্য পদার্থ থেকে দূরে থাকুন। কাঠ, কাপড়, তুলা থেকে যতটা দূরে সম্ভব অবস্থান করুন।

যদি ধোঁয়া দেখেন তাহলে শুয়ে পড়ুন। যতটা সম্ভব নিচু হয়ে থাকা সম্ভব থাকুন। কোনোভাবে গায়ে আগুন লেগে যায় তাহলে ভুল করেও দৌড় দিবেন না। দৌড় দেওয়া মানেই ভুল। শুয়ে পড়ুন, গড়াগড়ি দিতে থাকুন। অক্সিজেনের অভাবে আগুন নিজেই বন্ধ হয়ে যাবে।

কারো গায়ে আগুন ধরা দেখলে তাকে ফায়ার ব্লাঙ্কেট বা ভারি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ধরে গড়াগড়ি দিতে বলুন।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ