ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bagan Bangla Insider

নিজের কাছে সমাধান থাকতে আত্মহত্যার চিন্তা কেন?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০০ এএম
নিজের কাছে সমাধান থাকতে আত্মহত্যার চিন্তা কেন?

জীবনে ভালোকিছুই করতে পারলাম না, আশেপাশে সবাই তরতর করে এগিয়ে গেলো, আমি পড়ে থাকলাম তলানিতে। পরীক্ষার ফলাফলটা খারাপ হলো, বাবা-মায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হলো, ভালো কোনো চাকরি জুটলো না ভাগ্যে। এদিকে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গেও বনিবনা না হওয়ায় সম্পর্কটাও টিকলো না। হতাশা আর দুশ্চিন্তায় মনে হলো বেঁচে থাকা এতো কঠিন? এরচেয়ে তো মরে যাওয়াও সহজ। ব্যস, এর থেকেই মনে দানা বাঁধতে লাগলো আত্মহত্যার চিন্তা।

কেন হয় আত্মহত্যার চিন্তা, সেটা জানা জরুরি-

বিমর্ষতা

প্রায়ই বিষণ্ণতা ভর করে আমাদের। জীবন শূন্য মনে হয়। এ থেকেই বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে। কোনো এক কারণে তারা হতাশ এবং বিষণ্ণ। বেঁচে থাকার মানে খুঁজে না পেয়ে বেছে নেয় আত্মহননের পথ। মনে হয় সবাই আমাকে ছাড়াই সুখী হবে, আমার জন্যেই অমুকে সুখী হতে পারছে না, আমি সবার জন্য বোঝা- এরকম মনে হতে থাকে। অথচ এমনটা ভাবার কোনো কারণই নেই। বিষণ্ণতা সারিয়ে তোলা কঠিন। তাই কাছের মানুষদের মাঝে এই লক্ষণ দেখলে বিশেষ নজর প্রয়োজন।

কোনো মানসিক সমস্যা

সিজোফ্রেনিয়া জাতীয় মানসিক সমস্যা থাকলে আত্মহননের ইচ্ছা জাগে। তাদের মনে হয় কেউ তাদেরকে আত্মহত্যায় প্রলুব্ধ করছে, অত্যাচার করছে সর্বক্ষণ। মাথায় এমন কথা এভাবে আসলে আত্মহত্যার ইচ্ছা জাগতেই পারে। জীবনে সফলতার পেছনে ছুটতে থাকা ব্যর্থ মানুষেরা সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। তাদের পক্ষে আত্মহত্যা করা সম্ভব।

যারা অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ

কিছু মানুষ অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণ। তারা অল্পতেই ভেঙে পড়ে, কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে না। আবার অনেকসময় মাদক গ্রহণের ফলে খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মানুষ। কিন্তু ঘোর কেটে গেলে এবং শান্ত হয়ে এলে অন্য কথা। তবে এরপরেও তারা আবার আত্মহত্যার চেষ্টা করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না। মাদক গ্রহণের পরে, নিয়মিত মাদক হাতের কাছে না পেলে মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন। মাদকাসক্ত মানুষের আত্মহত্যার ঘটনা অসংখ্য। আর তাই সবার আগে প্রয়োজন তাদের মাদকাসক্তি দূর করা।

যাদের সাহায্য প্রয়োজন হলেও তা পাচ্ছে না

কারো জীবনে খুব বড় একটা সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান তারা একা করতে পারছে না। অন্য কারও কাছে সাহায্য চাওয়াও সম্ভব না। এমন অবস্থায় বেঁচে থাকা কঠিন মনে হয়, আত্মহত্যা করতে চান অনেকে।

নিজের কোনো ভুলে

জীবনে মানুষ অনেক ভুল করে ফেলে। বিশেষ করে কম বয়সে। এসময় ভুলের মাশুল গুণতেই অনেকের জীবনের ওপরই বিতৃষ্ণা এসে পড়ে এবং তারা আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

আবার কিশোর কিশোরীদের যারা অবহেলা, কটূক্তি, অপরাধ প্রবণতা, পারিবারিক সহিংসতা এবং যৌন নিপীড়নের শিকার হয় তারা আত্মঘাতী এবং আত্মহত্যাপ্রবণ বেশি হয়ে থাকে।

আর পারিবারিক সমস্যা, খারাপ ফলাফল করা, ঋণ পরিশোধ করতে না পারা, ব্যর্থতা, প্রতারণার শিকার- এগুলো আত্মহত্যার অন্যতম কারণ সেটা নতুন করে ব্যাখ্যা করতে হয় না।

কিন্তু মনের মধ্যে থেকে সবার আগে আত্মহত্যার প্রবণতাকে বের করে ফেলতে হবে নিজেকেই। এজন্য মনে রাখবেন কিছু বিষয়-

সবসময় আশা রাখুন

সমস্যা যত কঠিনই হোক, বিষণ্ণতা যত গভীর হোক—আশা ছাড়বেন না। হাল ছাড়বেন না। নিজেকে বলুন, সময় সবকিছু ঠিক করে দেবে। প্রকৃতি ভালোকিছু রাখবেই আপনার জন্য।

দুর্বল মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত নয়

একাবোধ করছেন বা বাঁচার কোনো কারণই পাচ্ছেন না, এসব কষ্ট কোনোমতেই পাত্তা দেবেন না। এসবের চাপে চট করে কোনো সিদ্ধান্তেও যাবেন না। নিজেকে সময় দিন। একটু ভাবুন। দেখুন কী কী করলে অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব? কারো জন্য বা কিছুর জন্য তো জীবন থেমে থাকে না।

কাছের মানুষকে বলুন

আপনার সমস্যা পরিবার বা কাছের বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন। প্রয়োজন হলে কাউন্সিলরের সাহায্য নিন। কোথায় কোন সমস্যা হচ্ছে, সবকিছু থেকে পালাতে ইচ্ছে হচ্ছে কেন তা কাউকে না কাউকে জানান। কোনো সমাধান অবশ্যই পাবেন।

চারপাশটা দেখুন

একাবোধ করছেন বা জীবনের বোঝা আর টানতে পারছেন না, আশপাশে তাকান। দেখবেন, কেউ না কেউ রয়েছে আপনার চেয়েও খারাপ অবস্থায়। সমস্যা ছাড়া তো জীবন হয় না। একটু দেখুন, কীভাবে তাঁরা তাঁদের সমস্যাকে সামলায়। সমাধানের কোনো না কোনো উপায় আপনারও বের হয়ে যাবে।

আত্মহত্যাই তো সমাধান নয়

একবার ভাবুন আপনার মা-বাবার কথা, সন্তানের কথা বা যে মানুষগুলো আপনাকে ভালোবাসে, তাঁদের কথা। আপনি মারা গেলে তাঁদের কতটা কষ্ট হবে সেটা ভাবুন। আপনি হয়ত সব ভুলে চলে গেলেন, কিন্তু আপনার স্মৃতি আকড়ে তারা কীভাবে বাঁচবে, সেটাও তো ভাবতে হবে আপনাকে।

দুঃখ সাময়িক

জীবন অনেক বড়। কিছুদিন বিবেচনায় পুরো জীবন মাপা যায় না। আর অল্পদিনের কষ্টেই জীবনটাকে শেষ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন? প্রকৃতির ওপর ভরসা রাখুন। বার বার বলুন, আমার ভালো হবেই, অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন হবেই।

কোনো মদ্যপান বা নেশা করবেন না

মদ্যপান করা বা মাদক সেবন করা থেকে বিরত থাকুন। বিষণ্ণতা কাটাতে এগুলো সাহায্য তো করেই না, বরং আপনাকে আরো হতাশায় জড়িয়ে ফেলে। এর বদলে নিজেকে কর্মক্ষম রাখুন। কাজের মধ্যে ডুবে থাকুন। পাশাপাশি পছন্দের কাজগুলো করতে চেষ্টা করুন।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ