ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ওষুধ খাওয়ার নিয়মগুলো জানেন তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার, ০৭:৫৯ এএম
ওষুধ খাওয়ার নিয়মগুলো জানেন তো?

রোগ হলে ওষুধ খাবেন, চিকিৎসা করবেন- এটাই তো নিয়ম। আপনার শারীরিক অবস্থা বুঝে শরীরকে ঠিকঠাক রাখার দায়িত্ব চিকিৎসকের। রোগ নির্ণয় হলে অবস্থা বুঝে আপনাকে ওষুধ খেতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শমতোই। কিন্তু ওষুধপথ্য খাওয়ার ব্যাপারে আমরা মাঝেমধ্যে বেশ মাতব্বরি করে ফেলি। নিজে নিজে কোনো ওষুধ খাওয়া, নিজের দায়িত্বেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া, একসঙ্গে অনেক ওষুধ খাওয়ার মতো কাজগুলো আমরা করে ফেলি। কিন্তু এগুলোতে হিতে বিপরীত হতে পারে। ওষুধ খাওয়ার সময় কিছু ভুলের কারণে এর সম্পূর্ণ উপকারিতাটা পাইনা আমরা। এসব ভুল পরবর্তীতে শরীরে ব্যাপক ক্ষতি করে। তাই আপনার জন্য ওষুধ সেবনের কিছু সাধারণ নিয়মাবলী থাকছে আজকের আয়োজনে-

ডোজ বাদ দেওয়া

একটা বদঅভ্যাস আমাদের অনেকেরই আছে। বেশিরভাগ সময়েই ওষুধ সেবন শুরুর পর একটু ভালো হয়ে গেলে ওষুধ খাওয়া বাদ দিয়ে দিই অথবা ওষুধ খাওয়ার প্রতি অতটা মনোযোগ দিই না। এটি পরবর্তী সময়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই অবশ্যই ওষুধের ডোজ শেষ করতে হবে।

অ্যান্টাসিড সেবনের ক্ষেত্রে

সাধারণ অ্যাসিডিটির সমস্যায় অ্যান্টাসিড কমবেশি আমরা সবাই ই খাই। কিন্তু এতেও আমরা ভুল করে ফেলি। আমরা সব ওষুধের সঙ্গে মিলিয়ে অ্যান্টাসিড খাই, যেটি একেবারেই ঠিক নয়। অ্যান্টাসিড অন্যান্য ওষুধের প্রভাবকে নষ্ট করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে বা এক ঘণ্টা পরে অ্যান্টাসিড গ্রহণ করুন।

একসঙ্গে বিভিন্ন ওষুধ খাওয়া

চিকিৎসককে দেখাতে গেলে আগে কোনো ওষুধ খাচ্ছেন কি না, সেটি জানিয়ে দিন। আর সেই ওষুধ এখন চালানো যাবে কি না, সেটিও জেনে নিন। কেননা, কখনো কখনো একটি ওষুধ আরেকটি ওষুধের প্রভাবকে কমিয়ে দেয় বা বাড়িয়ে দেয়। একে বলে মিথস্ক্রিয়া (ইন্টারঅ্যাকশন)। এটি কখনো কখনো খুব বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঘড়ি ধরে ওষুধ না খাওয়া

ওষুধ সেবনের জন্য সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওষুধ খাওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় তৈরি করে নিন; প্রতিদিন সে অনুযায়ী ওষুধ খান। যেমন- যদি কোনো ওষুধ আগের দিন সকালে খান, পরের দিন যেন সেটি খেতে খেতে বিকেল না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। নির্দিষ্ট সময় মেনে ওষুধ খেলে ওষুধের গুণাগুণ পুরোপুরি পাওয়া যায়।

দুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা

দুধের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম। এ কারণে এটি অনেক সময় বিভিন্ন ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া করে। এটি ওষুধকে অকার্যকর করে ফেলতে পারে। তাই ওষুধ গ্রহণের সময় চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন, দুধ খেতে কোনো অসুবিধা রয়েছে কি না।

ধূমপান

আপনি যদি অতিরিক্ত মাত্রায় ধূমপান করেন, তাহলে ওষুধের ভালো প্রভাব আপনি তেমন পাবেন না। ধূমপান ওষুধের ভালো প্রভাবকে কমিয়ে দেয়। যখন ওষুধ খাচ্ছেন, চেষ্টা করুন ধূমপান না করতে।

খাবার কতক্ষণ পরে ওষুধ

খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওষুধ খেয়ে নেবেন না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবার খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে বা পরে ওষুধ খান। এছাড়া কিছু ওষুধ রয়েছে, যেগুলো খালি পেটে খেতে হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অ্যালার্জি হয় কিনা

অনেক ওষুধ রয়েছে, যেগুলো খাওয়ার পর অ্যালার্জির সমস্যা হয়। আপনার যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে, তবে সতর্ক হয়ে ওষুধ খান এবং খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে কোনো ওষুধ খাওয়া বন্ধ করবেন না বা শুরু করবেন না।

চা-কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে

আপনি কি ওষুধ খাওয়ার সময় চা-কফি খান? যদি এমন হয়, তবে ওষুধ খাওয়ার সময় চা কফি খাবেন না। এটি ওষুধের ভালো প্রভাবকে নষ্ট করে দিতে পারে। ওষুধ খাওয়ার আগে বা পরে চা কফি খান।

মদ্যপানে সাবধান

কিছু ওষুধ রয়েছে, যেগুলো খাওয়ার সময়ে মদ্যপান করলে শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। ওষুধ ও অ্যালকোহল আপনার জীবনকে ঝুঁকির মধ্যেও ফেলে দিতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার সময় এ বিষয়টি খেয়াল রাখুন।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের ওষুধ

যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী হন এবং ওষুধ খান, তবে খাবার বাদ দেবেন না। খাবার এবং ওষুধের সময় কখন হওয়া উচিত, এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিলেই ভালো হয়।

একই ওষুধ খাওয়ার বিষয়ে

যদি একই ব্র্যান্ডের ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে খেয়ে থাকেন, তাহলে সেই ব্র্যান্ডের ওষুধই পরবর্তী সময়ে খাওয়া ভালো। আপনার শরীর সেই ব্র্যান্ডের ওষুধের ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া দেবে। তবে এ বিষয়ে শরীরের অবস্থা বুঝে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেলেই সবচেয়ে ভালো।

কোমল পানীয় এবং ফলের রস

ওষুধ খাওয়ার সময় কোমল পানীয় বা ফলের রস খেতে পারবেন কি না, সেটি চিকিৎসকের কাছে জেনে নিন। কিছু কোমল পানীয় রয়েছে, যেগুলো ওষুধের প্রভাবকে কমিয়ে দিতে পারে। সবচেয়ে ভালো হয়, ওষুধ সেবনের সময় এসব পানীয় এড়িয়ে গেলে।

গর্ভাবস্থায় এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়

গর্ভাবস্থায় সব ধরনের ওষুধ সেবন করবেন না। এ সময়ে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আর যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তারও ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এ সময় বিভিন্ন ওষুধ খেলে শিশুর শরীরে সমস্যা হতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসককে আপনার এবং শিশুর শরীরের অবস্থা ভালোভাবে জানান।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ