ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চাইলে…

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার, ০৯:১০ এএম
একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চাইলে…

‘বড় হয়ে কি হতে চাও তুমি’- ছেলেবেলায় এই প্রশ্ন শুনলে আমরা হয়ত উত্তর দিতাম ডাক্তার হবো, ইঞ্জিনিয়ার হবো নয়ত শিক্ষক হবো। এগুলো তো ছেলেবেলার ভাবনা। কিন্তু এই ভাবনা পূরণ করতেও তো অ্যাকাডেমিক জীবন আর নিজের সত্ত্বাকে প্রস্তুত করে তুলতে হয়। এই ধরুন কেউ শিক্ষক হবে, মানে তার জ্ঞানকে অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। একজন শিক্ষককে অন্যরকম আদর্শ ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়। আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আদর্শ শিক্ষক হয়ে ওঠার কিছু দিক আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো-

সবসময় প্রস্তুত থাকা

একজন আদর্শ শিক্ষক নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখেন। ছাত্রছাত্রীদের যেকোনো সমস্যার সমাধানে যেন তিনি এগিয়ে আসতে পারেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকেন এবং তাদের সার্বিক প্রয়োজনে সাহায্য করে থাকেন।

সবসময় পড়াশোনার মধ্যে থাকা

পড়াশোনা ছাড়া একজন আদর্শ শিক্ষকের জীবনে আর কিছুই করার থাকে না। নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখেন পড়াশোনা করে। তার আরও অনেক বেশি জানার আগ্রহ থাকে যেন তিনি তার জ্ঞানটুকু ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারেন। তারা পড়তে অনেক বেশি ভালোবাসেন।

সব ধরনের পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া

এমন অনেক মানুষ আছে যারা যেকোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন না। ফলে অনেক ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। কিন্তু একজন আদর্শ শিক্ষক নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করে ফেলেন যেন যেকোনো ধরনের পরিস্থিতিতে নিজেকে খুব সহজে মানিয়ে নিতে পারেন এবং যেকোনো ধরনের পরিবর্তনে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেন।

শিক্ষার্থীদের সত্যের পথে চালিত করা

একজন আদর্শ শিক্ষক তার ছাত্রছাত্রীদের সবসময় সত্যের পথে চালিত করে থাকেন। কেননা তার কাছে অন্যায়ের কোনো আশ্রয় নেই। তিনি ছেলেমেয়েদের সবসময় ন্যায়ের সাথে চলতে পরামর্শ দেন এবং সত্যের আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলতে নির্দেশ দেন।

শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া

একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট উপায়ে পড়িয়ে থাকেন এবং সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকেন। তিনি ভালো করে জানেন যে উৎসাহ ছাড়া একজন শিক্ষার্থী ভালোভাবে এগোতে পারে না। এ কারণে ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে থাকেন সঠিকভাবে এগিয়ে যেতে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আত্মিক বন্ধন জরুরি

একজন আদর্শ শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের সাথে এক ধরনের আত্মিক বন্ধন তৈরি করে ফেলেন। যার ফলে ছাত্রছাত্রীরা যেকোনো সমস্যায় শিক্ষকের কাছে চলে যান এবং তিনি তা খুব সহজ উপায়ে সমাধান করে দেন।

আনন্দের সঙ্গে পড়ানো

একজন আদর্শ শিক্ষক ভালোভাবেই জানেন কোন উপায়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালে তারা বিষয়টিকে খুব সহজই গ্রহণ করতে পারবে এবং কোনো ধরনের বিরক্ত লাগবে না। তাই তিনি পড়ানোর মাধ্যমটিকে আনন্দময় করে তোলেন। এতে করে ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে এবং পড়ায় মনোযোগী হয়।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর দৃষ্টিতে একজন অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষকের মোটামুটি চারটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য থাকে। আর এই চারটি বৈশিষ্ট্য তিনি তুলে ধরেছেন নিজের এক শিক্ষককে নমুনা হিসেবে ধরে।

যেকোনো বিষয়ে উদ্দীপনা

গেটসের মতে, একজন অনুপ্রেরণাদায়ক শিক্ষক কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট থাকেন না। ফেইনম্যান (গেটসের শিক্ষক) একবার বিলকে আগুনের বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তখন কথাগুলো বলার সময় ফেইনম্যান দারুণ উত্তেজিত ছিলেন। গেটস লিখেছেন, আমার দেখা যত শিক্ষক আছেন, তাঁদের মধ্যে এই মানুষটি অদ্ভুত রকমের উদ্দীপনা জাগাতে পারেন শিক্ষার্থীর মনে। এমন কোনো বিষয় নেই, যার মধ্যে এই শিক্ষক আকর্ষণ খুঁজে পান না।

কঠিনকে সহজ করে দেখা

পদার্থবিদ্যা কঠিন বিষয় হতে পারে। কিন্তু এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁরা পাথরও গলিয়ে ফেলেন অনায়াসে। বিল জানান, একবার ফেইনম্যান ক্যালিফোর্নিয়ার একটি স্কুলে পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে লেকচার দিচ্ছিলেন। ওই ক্লাসের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তু ক্লাসের পর প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন পদার্থবিদ হয়ে গেলেন। এটাই আসলে শিক্ষকের ক্যারিশমা। কিভাবে যেন তাঁরা কঠিন বিষয়কে সহজ করে তোলেন।

বিষয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা

এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁরা পড়ানোর সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ থাকে না। কিন্তু একজন ভালো শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য হলো, বিষয়টির সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে ফেলেন। শিক্ষার্থীরা চাইলেও আর সেখান থেকে বের হতে পারে না।

আগ্রহের সীমারেখা নেই

অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁদের আগ্রহ কোথাও সীমাবদ্ধ থাকে না। পদার্থবিদ্যার শিক্ষক হয়েও ফেইনম্যান অন্য বিষয়ের লেখা অনুবাদের চেষ্টা চালিয়েছেন। এতেও তাঁর আগ্রহের কমতি ছিল না। বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখেছেন মনপ্রাণ দিয়ে। এমনকি ক্লাস নেওয়ার আগেও নিজেকে উত্ফুল্ল রাখতে তিনি বঙ্গ বাজিয়ে আসতেন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ