ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কখন খাবেন গ্রিন টি, কেন খাবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার, ০৮:০২ এএম
কখন খাবেন গ্রিন টি, কেন খাবেন?

আরামদায়ক আলস্য হোক কিংবা কাজের প্রচণ্ড চাপে একটু বিশ্রামের ফাঁকে- এক কাপ গরম চা হলে যেন মনটাই ভরে যায়। কিন্তু হুটহাট করে যেকোনো চা খেয়ে নিলেন, আপনার শরীরের জন্য কি সব চা সবসময় ভালো হয়? অবশ্যই না। আমরা ভাবি যে একটা চা হলেই হলো। কিন্তু সব চা আপনার জন্য ভালো নাও হতে পারে। আর তাই গ্রিন টি খাওয়ার পরামর্শ দেন সব বিশেষজ্ঞরা। 

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য উপকারিতা সমৃদ্ধ গ্রিন টি নিয়মিত পানের পরামর্শ দেওয়া হয় সবাইকে। চা বা পানীয়, সব খাবারই গ্রহণের নির্দিষ্ট ও সঠিক সময় থাকে। গ্রিন টি পানের জন্যেও রয়েছে নির্দিষ্ট সময়।

আমরা না জেনেই অনেকে খাবার খাওয়ার পরপর ও খাবার খাওয়ার মাঝে গ্রিন টি পান করেন, কিন্তু এই সময় গ্রিন টি পান করা উচিৎ নয়। কারণ এই অভ্যাসটি একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। গ্রিন টিতে থাকে ফেনল নামক এক ধরনের কেমিক্যাল উপাদান। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণের মাঝে গ্রিন টি পানে যে সমস্যাটি দেখা দেয়- এতে উপস্থিত ফেনল গ্রহণকৃত খাদ্য উপদান থেকে শরীরকে আয়রন শোষণ বাধাগ্রস্ত হয়।

এছাড়া খাবার খাওয়ার পর ও খাবার খাওয়ার মাঝে গ্রিন টি পান করা ও দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পরেও গ্রিন টি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ গ্রিন টি দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারের প্রোটিনকে শরীরে তার উপকারিতা বিস্তার করতে বাধা প্রদান করে এবং গ্রিন টি পানের ফলে মেটাবলিজম বৃদ্ধি পাওয়া ব্যহত হয়। যারা ওজন কমানোর উদ্দেশে গ্রিন টি পান করেন, তাদের এ বিষয়ের প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

এছাড়া যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, গ্রিন টি পানের সময়ের বিষয়ে তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। নতুবা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব কারণ বিবেচনা করেই সকালে খালি পেটে কিংবা বিকালে হালকা ঘরানার নাশতার সঙ্গে গ্রিন টি পানের পরামর্শ দেওয়া হয়। যা একইসাথে শরীর সুস্থ রাখতে, মেটাবলিজম বৃদ্ধিতে ও ওজন কমাতে সহায়তা করবে।

কেন খাবেন গ্রিন টি

অনেকেই মনে করেন, চা যদি খেতেই হয় তবে গ্রিন টি খান। অন্য চায়ের চেয়ে কেন গ্রিন টি ভালো কেন, সেটাই জানবো আজ। দেখে নিন এই চা কতো উপকার করছে আমাদের-

গ্রিন টিতে রয়েছে ফ্লেভোনয়েড নামক একটি উপাদান, যা আসলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি এমন একটি শক্তিশালী উপাদান যা সব দিক থেকে শরীরকে চাঙ্গা রাখে। গ্রিন টি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া কেটেচিন নামেও একটি উপাদান থাকে এই চায়ে, যা ভিটামিন ‌`ই` ও `সি`-এর থেকেও বেশি শক্তিশালী, যা শরীরে প্রবেশ করে একাধিক উপকার করে। ওজন কমায়

গ্রিন টি ওজন কমায়। গ্রিন টি হজম প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। গ্রিন টি উপস্থিত কেটাচিন পেটের মেদ ঝরাতে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই অতিরিক্ত ওজন কমাতে নিয়মিত গ্রিন টি খেতে পারেন।

কর্মক্ষমতা বাড়ায়

সকাল ঘুম খেকে উঠে যদি গ্রিন টি পান করেন, তবে সারাদিন আপনি থাকবেন সতেজ ও প্রাণবন্ত। গ্রিন টি শরীরের স্টেমিনা তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি করে, তাই পুরোদিন ধরে শরীর চনমনে থাকে। গ্রিন টি পান করলে আপনার কর্মক্ষমতা বাড়বে। আপনি যদি দিনের মধ্যে কয়েকবার গ্রিন টি পান করেন, তবে তা আরও বেশি উপকারে আসবে।

রোগ-প্রতিরোধ

শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গ্রিন টির কোনো বিকল্প নেই। যারা অ্যালার্জিতে খুব ভোগেন তারা নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে ভালো। এছাড়া গ্রিন টি খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটলে অ্যালার্জির মতো রোগ ধারেকাছেও আসতে পারে না।

ক্যানসার

গ্রিন টিতে থাকা ইজিসিজ নামক উপাদানটি ক্যানসার সেলকে ধ্বংস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সে কারণেই বিশেষজ্ঞরাও নিয়মিত গ্রিন টি খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

স্মৃতিশক্তির উন্নতি

স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি নানাভাবে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে অ্যালার্টনেসও বাড়াতেও এই পানীয়টি বিশেষ ভূমিকা নেয়। সে কারণেই তো সকাল-বিকাল এই চা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

হার্ট অ্যাটাক

প্রতিদিন গ্রিন টি খেলে আপনার হার্ট খুব ভালো থাকবে। নিয়মিত গ্রিন টি খেলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৪৬-৬৫ শতাংশ কমে যায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

নিয়মিত ২-৩ কাপ করে গ্রিন টি খাওয়া শুরু করলে শরীরে রক্তের প্রবাহ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে না। তাই আপনার পরিবারে যদি এই রোগের ইতিহাস থাকে, তা হলে প্রতিদিন ডায়েটে গ্রিনটি অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না।

ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমায় 

সারা বিশ্বের মধ্যে আমাদের দেশ ডায়াবেটিস কয়াপিটালে পরিণত হয়েছে। তাই তো এমন পরিস্থিতিতে যদি সুস্থভাবে বাঁচতে চান, তাহলে গ্রিনটি আপনার বড় সমস্যার সমাধান।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ