ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কিছুই মনে থাকছে না আজকাল?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার, ০৮:০০ এএম
কিছুই মনে থাকছে না আজকাল?

আজকাল খেয়াল করলেন যে আপনার অনেক কিছুই মনে থাকছে না। অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট সামনে, অথচ আপনি দিব্যি ভুলে বসে আছেন যে কবে জমা দিতে হবে। আবার বাসায় এটা-ওটা কিনতে হবে, কিনতে মনে থাকছে না। মনে হলো, বয়স কি বেশি বেড়ে যাচ্ছে নাকি যে স্মৃতিশক্তিও কমছে!

স্মৃতিশক্তি কম বয়সেও কমে। বিভিন্ন মানসিক চাপ, চিন্তায় আর কাজে আপনি ভুলোমনা হয়ে যান। এতে ঘটে বিপত্তি, আপনি বিব্রত হন, অন্যকে বিব্রত করেন যখন তখন। কিন্তু ভুলে না যাওয়ার বুদ্ধিও তো কিছু রয়েছে। তার মধ্যে থেকেই কিছু চেষ্টা করে দেখুন কাজে লাগে কি না-

একটু রুটিন করে চলুন

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর বেশ সহজ উপায় হল নিজের মত করে কাজের রুটিন তৈরি করা, আর সেটা অবশ্যই পালন করা। রুটিন পালন করে কিছু করলে আমাদের মস্তিষ্ক অনেক বেশি মনে রাখতে পারে। আমরা যে কাজটা করেছি বা করবো, কোনটা করবো আর কোনটা করবো না- সেটা লিখে রাখলে সহজেই তা মনে থাকে।

‘ব্রেন গেম’ খেলে দেখতে পারেন

ভিডিও বা মোবাইলে গেম খেলে মাথা নষ্ট না করে ব্রেন গেম খেলুন। ইন্টারনেটে ব্রেন গেমের নানা রকম ভিডিও দেখুন। দাবা খেলুন। তবে ভালো না লাগলে শুধু স্মৃতিশক্তি বাড়াতে হবে বলেই ব্রেন গেম খেলব, দাবা খেলব এমনটা করতে যাবেন না। খেললে দেখবেন মাথা খুলছে, এতে স্মৃতিশক্তিও বাড়ছে।

মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখুন

রুটিন করে মস্তিষ্ককে দিনের একটা বিশেষ সময়ে ব্যস্ত রাখুন। যেমন ধরুন প্রতিদিন সকালে শব্দছকের খেলা অভ্যাস করুন। যে কাজটি করছেন, তা মন দিয়ে করুন। সব ধরনের বই পড়ুন। শিশুদের বই থেকে শুরু করে সব ধরনের বই। ছেলেবেলায় যেগুলো পড়েছেন, সিনেমা দেখেছেন- সেগুলো আবার রিপিট করুন।

পায়ের আঙুলের ম্যাসাজ করুন 

প্রতিদিন অন্তত পাঁচ মিনিট করে পায়ের আঙুল ম্যাসাজ করুন৷ প্রথমে আঙুলের ওপর থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে টিপে টিপে নীচের দিকে যান৷ মাঝেমাঝে হাতপায়ের তালুও ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। এই ম্যাসাজ মস্তিষ্কের কোষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। ফলে মস্তিস্ক আর বদ্ধ হয়ে থাকে না।

খাদ্যাভাস

খাদ্যাভাসের সঙ্গে স্মৃতিশক্তির দারুণ একটা সম্পর্ক রয়েছে। ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। গরুর দুধ, পানি বেশি করে খান। এবং অবশ্যই সময়মতো খাওয়ার অভ্যাস করবেন প্রতিদিন। খাওয়ার কথা আবার মাঝেমাঝে ভুলে যাবেন না যেন।

ভিন্ন পথ অনুসরণ করুন

এক কাজ করুন। একই পথে রোজ বাড়ি না ফিরে একটু অন্য পথে ফিরুন। একঘেঁয়েমি কোনো কাজ মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে অফিস কিংবা কাজ থেকে বাড়ি ফিরতে অন্য কোনো পথে বাড়ি ফিরলে মাথাটা নতুন কিছু দেখে আর শেখে। আবার খাদ্যাভাস পাল্টে দেখুন, পোশাকেও তারতম্য এনে দেখুন। নতুন দুই চারটে বন্ধুও বানিয়ে দেখতে পারেন।

নতুন কিছু শিখুন

নতুন কোনো কাজ শেখার চেষ্টা করলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। এই যেমন ধরুন আপনি হয়তো কাগজের প্লেন তৈরি করতে জানেন না। সেটা শিখে নিয়ে তৈরি করুন। আবার সেলাই শিখতে পারেন, নতুন রান্না শিখলেন কিছু। দেখবেন ভালো লাগছে, অনেককিছু মনেও থাকছে। মানসিক চাপ থেকে এড়িয়ে চলুন। মানসিক চাপ বাড়লে স্মৃতিশক্তি কমতে শুরু করে। বন্ধু ও পরিচিতজনের সংখ্যা বাড়ান এবং তাদের সঙ্গে গড়ে তুলুন গঠনমূলক সুন্দর সামাজিক সম্পর্ক।

কৌশলী হোন

যখন কোনো জিনিস মনে করবেন তখন বাঁ হাতের আঙুলগুলো মুঠো করে রাখুন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁ হাতে মুঠো করলে মস্তিষ্কে এমন একটা বার্তা যায় যা আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। ফোন নম্বর মনে রাখার এটা একটা দারুণ অস্ত্র। আবার কিছু মনে না আসলে চোখ বন্ধ করে বড় দম নিয়ে নিঃশ্বাস নিন, চোখের পাতা ফেলুন ঘন ঘন। এতে করে কিছু মনে রাখা সহজ হবে।

ঘুমানোর আগে করণীয়

রাতে শোওয়ার আগে নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করুন। মনে করার চেষ্টা করুন সারাদিন কী করলেন। তবে হ্যাঁ, স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। নির্ঘুম শরীর অনেকাংশেই মনের ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে। তাই ঘুম হতে হবে ঠিকঠাক।

হাঁটুন, ব্যায়াম করুন

নিয়মিত হাঁটাচলা বা জগিং শরীরকে ভালো রাখে, এটা তো সবাই জানে। কিন্তু শুধু শরীর কেন, মস্তিস্কটাকেও তো ভালো রাখতে হবে। হাঁটাচলা এবং জগিং মাথাটাকে একেবারে ফিট রাখতে পারে। প্রতিদিন হাঁটা আর জগিংএর অভ্যাস রাখা ভালো। বেশি না, ১৫-২০ মিনিট হলেই হয়। তবে মুক্ত, খোলামেলা, দুষণমুক্ত বাতাসে হাঁটবেন অবশ্যই।