ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বদলাচ্ছে আবহাওয়া, রোগবালাই নিয়ে সাবধান

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার, ০৮:০৭ এএম
বদলাচ্ছে আবহাওয়া, রোগবালাই নিয়ে সাবধান

প্রকৃতি বদলাচ্ছে, কেমন একটা ঠাণ্ডা আবহাওয়া টের পাচ্ছি আমরা। দিনের বেলা কিছুটা গরমবোধ হলেও সকালে আর রাতে শীত শীত লাগছে। এই সময়টাতে না খুব বেশি ঠাণ্ডা বা খুব বেশি গরম থাকে না। মোটামুটি সুন্দর একটি আবহাওয়া।

কিন্তু বেলা বাড়তে না বাড়তেই রোদ, হালকা গরম শুরু হতে থাকে। এই গরম আর হালকা ঠাণ্ডার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে আমাদের শরীরে। ঋতু পরিবর্তনের বিভিন্ন রোগবালাই শুরু হতে থাকে। আবহাওয়ার তারতম্য, ঋতু পরিবর্তন, বাতাসে আর্দ্রতার ওঠানামার কারণে জ্বরের প্রকোপ দেখা দেবে। ঋতু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট এই জ্বর বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাস যখন বেড়ে যায়, তখন ভাইরাল ফিবার, ভাইরাল রাইনাইটিস, সাইনোসাইটিস এগুলো হয়। আর আমাদের শরীরের সঙ্গে যে একটি ভারসাম্য থাকে এখানে পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় কাশি হয়, সর্দি হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের পরিবর্তন হয়, এটি হলো প্রধান কারণ। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে অনেক বেশি।

কোন রোগে সাবধানতা বেশি প্রয়োজন

শীত আসতে থাকলে মূলত আমাদের শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো বাড়ে বেশি। শীতে বাতাসের তাপমাত্রা কমার সঙ্গে আর্দ্রতাও কমে যায়, যা শ্বাসনালীর স্বাভাবিক কর্মপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে ভাইরাসের আক্রমণ সহজ হয়। এছাড়া ধূলোবালির পরিমাণ বেড়ে যায়। ঠাণ্ডা, শুষ্ক বাতাস হাঁপানি রোগীর শ্বাসনালীকে সরু করে দেয়, ফলে হাঁপানির সমস্যা বাড়ে।

এছাড়া এসময় নাক বন্ধ হয়ে যায়, অনবরত পানি ঝরতে থাকে, হাঁচি আসে। হালকা জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথা ব্যথা, শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা, দুর্বল লাগা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। এটা মূলত শ্বাসতন্ত্রের উপরের অংশের রোগ।

এসময় ইনফ্লুয়েঞ্জাও বেশ সমস্যার কারণ হতে পারে। এই রোগের ক্ষেত্রে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়- জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা খুশখুশ করা, হাতে-পায়ে ব্যথা বা শরীর ম্যাজম্যাজ করা ইত্যাদি। ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে ভয় না পেয়ে বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাদ্য, প্রচুর পরিমাণে পানি পান ও ভিটামিন সি-যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। গলাব্যথা বা গলা খুশখুশ করলে গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করলে আরাম পাবেন।

শীতের শুরুতে ফুসফুসের পাশাপাশি সাইনাস, কান ও টনসিলের প্রদাহও বাড়ে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। এছাড়া যাদের হাঁপানি বা অনেকদিনের কাশির সমস্যা যেমন ব্রংকাইটিস আছে, এই আবহাওয়ায় তাদের কষ্টও বাড়ে।

শীতের শুষ্কতায় অনেকের ত্বক ফেটে যায় এবং চর্মরোগ দেখা দেয়। শীত খুব তীব্র হলে হৃদযন্ত্রের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। শীতের শুরুতে মশার খুব উপদ্রব বাড়ে। তাই মহাবাহিত রোগ থেকে সাবধান।

কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। তুলসী পাতার রস, আদার রস, বাসক পাতার রস, কালিজিরা প্রভৃতি ঔষধি দ্রব্যের ব্যবহারও উপসর্গ কমাতে পারে। যদি রোগের তীব্রতা বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

শিশুদের জন্য নিউমোনিয়া একটি সাধারণ রোগ। নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হবে। গ্রহণ করতে হবে যথাযথ ব্যবস্থা চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী।

ঠাণ্ডা পানি, ঠাণ্ডা খাবার পরিহার করা, বাইরে বের হওয়ার সময় স্কার্ফ বা মাফলার দিয়ে মাথা, কান ও নাক ঢেকে রাখা, হাতে ও পায়ে মোজা ব্যবহার করা প্রয়োজন। কোনো খাবারে যদি অ্যালার্জি থাকে, তবে সেটি এড়িয়ে চলতে হবে। বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রে আপনার ঘরটিকে যতটা সম্ভব উষ্ণ রাখতে চেষ্টা করুন। এছাড়া যদি ইনহেলারে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তবে সেটি সঙ্গে রাখুন।

শীতের সময়টাতে সুস্থ থাকতে, নিজেকে ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচাতে এই পদক্ষেপগুলোর কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন-

১. ঠাণ্ডা খাবার ও পানীয় একেবারে পরিহার করুন। পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণ, কাঁচাসবজির সালাদ,ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’যুক্ত ফলমূল গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে দেহকে রাখবে সুস্থ।

২. নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে হবে। নিয়মিত ও পরিমিত কায়িক পরিশ্রম। আপনার ঘরবাড়ি তথা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। হাত ধোয়ার অভ্যাস করা, বিশেষ করে নাক মোছার পর পর; বাইরে থেকে আসার পর এবং খাদ্যবস্তুর সংস্পর্শে আসার আগে হাত ধোয়া। বাইরের ধুলোবালি এসময় খুব বিরক্ত করে। এজন্য বাইরের ধুলো এড়াতে ভালো হয় মাস্ক ব্যবহার করলে।

৩. ধূমপান পরিহার করুন। সিগারেটের ধোয়া শ্বাসকষ্ট, ব্রংকাইটিসের সমস্যা বাড়ায়। আর সবসময় ঘরের দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ করে দিয়ে একটি নির্মল বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিয়ে নিন।