ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জেনে নিন ফেসবুক ব্যবহারের ১০ আদবকেতা

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার, ০৮:৩০ এএম
জেনে নিন ফেসবুক ব্যবহারের ১০ আদবকেতা

অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা কোনো মিটিং চলছে। আপনার পাশে বসে থাকা সহকর্মীটি আপনমনে ফেসবুকে মগ্ন। ওদিকে মেসেঞ্জারের আওয়াজে আপনার সবাই বিরক্ত। বন্ধুমহলে আড্ডার সময়েও এমনটা ঘটে আজকাল। আবার অনেকে ফেসুবকে অপরিচিত আইডিগুলোতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বিরক্তির জন্ম দিয়ে সেই আইডিগুলো থেকে ব্লকও খেয়েছেন কয়েকবার। এগুলো হয়ত অন্যের কাছে ভালো দেখায় না। আপনি যে ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এতো সক্রিয়, সেখানের কিছু আদবকেতা, নিয়মকানুনও তো আপনাকে জানতে হবে।

সাম্প্রতিককালে অন্যান্য নেশার মতো ফেসবুকও একটি নেশা। অন্য সব নেশার মতো এই ফেসবুকও আমাদের একেবারে গ্রাস করে ফেলতে পারে। ফেসবুক ব্যবহার আপনার দিনলিপির একটা অংশ, কিন্তু ফেসবুকই যেন আপনার পুরো দিন খেয়ে না ফেলে—এ ব্যাপারে সচেতন হন। সারাক্ষণ আপনি ফেসবুক ব্যবহার করলে আপনি এটায় আসক্ত হয়ে যাবেন। যার কারণে আপনার ব্যক্তিগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মনে রাখবেন, ফেসবুক জীবনের খুব ক্ষুদ্র একটি অংশ, পুরো জীবন নয়।

তাই আপনার জন্য থাকছে ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ১০টি আদবকেতার কথা জানাচ্ছি আজকে, অবশ্যই এগুলো আপনার জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ-

১. একটা জিনিস সবসময়ে মনে রাখবেন যে, ফেসবুকে আপনার অনেক ধরনের বন্ধু আছে, তারা নানা মতের, নানা বয়সের। এদের মধ্যে কেউ আপনার আত্মীয়, অফিসের সহকর্মী, ব্যবসায়িক পার্টনার, স্কুলের বন্ধু, অল্প পরিচিত কিংবা একদমই অপরিচিত কেউও হয়তো এই তালিকায় রয়েছেন। কাজেই যেকোনো কিছু পোস্ট করার আগে ভাবুন, যা লিখছেন তা সবার দেখার উপযুক্ত কি না। যদি তা না হয়, তাহলে এ রকম কিছু পোস্ট করতে যাবেন না। এতে নিজেই ছোট হবেন, বিব্রত হবে অন্যেরা।

২. আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাঁরা সঙ্গীর সঙ্গে একটু রাগারাগি বা ঝগড়া হলেই তা প্রকাশ করেন ফেসবুকেই। অথচ আমরা ভুলে যাই, সম্পর্কের মধ্যে মন-কষাকষি, ঝগড়া তো হবেই। আবার তা মিটেও যাবে। তাই এটি আয়োজন করে ফেসবুকে প্রচার করার কোনো মানেই হয় না। এতে সঙ্গীর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের তিক্ততা বাড়বে, কমবে না। আর আপনার সম্পর্কের সমস্যা অন্য কেউই বা জানবে কেন!

৩. একেবারে অচেনা কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবেন না। এটা খুবই সাধারণ একটি ভদ্রতা। এছাড়া মিউচুয়াল ফ্রেন্ড দেখলেই কাউকে বন্ধুত্বের অনুরোধ করতে যাবেন না। এতে আপনার পুরনো বন্ধুটিও আপনাকে ভুল বুঝে দূরে সরে যেতে পারে। কিছুটা হলেও তাকে চিনতে হবে, অন্তত নামে হলেও।  

৪. নিজের ঠিকানা, ফোন নম্বর, ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকে দিয়ে রাখবেন না। এতে ব্যক্তিগতভাবে নানা বিপত্তিতে পড়তে পারেন। কিছুক্ষণ পর পর আমি এখানে আছি, এটা করছি, ওটা খাচ্ছি, এই মুভি দেখছি—এসব পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন। এতে ব্যক্তিত্ব হ্রাস পায়।

৫. কমেন্টের ব্যাপারে সচেতন হবেন। অন্য কারো পাতায় এমন মন্তব্য করবেন না, যা নিয়ে তিনি বিব্রত হবেন। কারো ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলাবেন না।  আর এমন কোনো ছবি পোস্ট করবেন না, যা আপনার ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে। এমন ছবি পোস্ট করার আগে অন্তত দ্বিতীয়বার ভেবে দেখুন, এটা আপনার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায় কি না।

৬. খুব কাছের বন্ধুদের সঙ্গে মজা করা ছাড়া অন্য কাউকে পোক করতে যাবেন না। এতে বিরক্তির কারণ হবেন। কেউ আপনার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট রিমুভ করে দিলে তাকে আবার বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠিয়ে নিজেকে তার কাছে হাস্যকর বানাবেন না।

৭. ঘন ঘন কাউকে ট্যাগ করে তাঁর বিরক্তির কারণ হবেন না। মনে রাখবেন, আপনার লেখা বা ছবি বার বার ট্যাগ করে আপনি কারো প্রিয় হতে পারবেন না। সারাদিন ধরে স্ট্যাটাস দিতে থাকবেন না। আপনার একটা লেখা বা ছবিকে আগে অন্যদের হজম করার সুযোগ দিন।

৮. অফিসে কাজের সময় ফেসবুক ব্যবহার না করাই ভালো। এতে আপনার মনোযোগ তো নষ্ট হবেই, আপনার সহকর্মীরাও আপনাকে নিয়ে সমালোচনা করার সুযোগ পেয়ে যাবে। এমনকি ফেসবুক ব্যবহার করার কারণেও আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।

৯. আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে ছদ্মনাম রাখবেন না। প্রোফাইল পিকচারে সব সময় নিজের ছবি রাখুন, নায়ক-নায়িকা বা ফুল, পাখি, পরিদের ছবি পরিত্যাগ করুন। তা না হলে আপনার পরিচিত মানুষও আপনাকে অচেনা ভাবতে পারে। এমনকি অনেকে ভুল বুঝতেও পারে।

১০. ফেসবুকে অনেকেই কোটেশন পোস্ট করেন। গবেষণা মতে, বেশিরভাগ লোক এ ধরনের পোস্ট পছন্দ করেন না। তাই বাণী চিরন্তনী থেকে বিরত থাকুন। বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আড্ডায় কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপের সময় ফেসবুক খুলে বসবেন না।