ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আপনার শিশুটি যৌন হেনস্থার শিকার নয়তো?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:০১ এএম
আপনার শিশুটি যৌন হেনস্থার শিকার নয়তো?

হাই স্কুল হোক অথবা নার্সারি, কিংবা কিন্ডারগার্টেন, কিংবা নিজের বাড়িতে খুব কাছের লোকের কাছে- শিশুরা বোধহয় কোথাওই সুরক্ষিত নয়। এখন সময় পাল্টেছে। যুগের তালে তাল মেলাতে গিয়ে বড়দের নানা কাজে অনেক সময় দিতে হয়। বাচ্চাদের দিকে বেশি নজর অনেকেই রাখতে পারেন না সময়ের অভাবে। আর সেই সুযোগে বাচ্চা মানসিকভাবে অনেকটা দূরে চলে যায়। ফলে অনেক সময় হেনস্থা বা যৌন হেনস্থার শিকার হলেও তারা বাড়িতে বলতে চায় না। এই অবস্থায় কীভাবে বুঝবেন আপনার বাচ্চা হেনস্থার শিকার। সেই পন্থাই আজ জানাবো আপনাদের- 

হঠাৎ ভয় পাবে

কোনো নির্দিষ্ট লোকের কাছে যেতে ভয় পাওয়া অথবা কোনো দৈনন্দিন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে ভীত হওয়া একটি অন্যতম লক্ষণ। কারো কাছে যেতে না চাওয়া অথবা কারো সঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার তীব্র জেদ উদ্বেগের লক্ষণ হতে পারে যে তাদের সঙ্গে খারাপ কিছু হয়েছে। এটিও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে যখন আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করবেন শিশুরা যৌন নিগ্রহকারী কি করেছে তা গোপন রাখতে পারে। তাই কৌশলে প্রশ্ন করুন।

ব্যক্তিত্বে হঠাৎ পরিবর্তন

একজন শিশু সাধারণত শান্ত বা আগ্রাসী ভাবে বেড়ে উঠতে থাকে। কিন্তু খুব শান্ত থেকে খুব আগ্রাসী অথবা খুব বহির্গামী থেকে খুব শান্ত ও অন্তর্মুখী হওয়া মানে বুঝতে হবে তার সঙ্গে কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেছে। আপনি অবশ্যই খোঁজ নেবেন।

আগুন ধরানো অথবা আগুনের প্রতি তীব্র আকর্ষণ

 আগুনের প্রতি আকর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে এবং আগুনের প্রতি আকর্ষণের সঙ্গে শিশুদের যৌনতার প্রতি অতি আগ্রহের সম্পর্ক থাকতে পারে যা যৌন নিগ্রহ থেকে উদ্ভূত- এটা স্বয়ং গবেষণাই বলছে। খুব অল্প বয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে আগুন অঙ্কন অথবা লাল চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে যৌন নিপীড়ন প্রকাশ পেতে পারে।

খাবারের প্রতি হঠাৎ অনীহা দেখা দিতে পারে

অতিরিক্ত খাওয়া অথবা কম খাওয়াও একটি লক্ষণীয় বিষয় হতে পারে। অ্যামারেন্থ বলেন, যেসব কিশোরী যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন তারা খাওয়া কমিয়ে দিতে পারেন অথবা মেদবহুল হতে চাইতে পারেন যাতে তাদেরকে যৌন নিগ্রহকারীর কাছে কম আকর্ষণীয় মনে হয়। বিভিন্ন গবেষণাতে এটা বার বার প্রমাণিত হয়েছে।

কাউকে নিয়ে আতঙ্কবোধ করা

কোনো একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে কি আপনার বাচ্চা আতঙ্কিত? আপনি আচমকা কারও নাম বললে কি বাচ্চা ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে? খেয়াল করে দেখুন তো। হতে পারে তিনি আপনাদের পরিচিত, নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বাড়িতে। অথবা স্কুল বা পাড়া-প্রতিবেশী। এমন হলে অবশ্যই বাচ্চার কাছে বসে ধৈর্য্য ধরে জানার চেষ্টা করুন।

মুড সুইং করা

শিশুরা ছোট বয়সে একটা সময় পর্যন্ত বিছানা ভিজিয়ে ফেলে। এটা সবার ক্ষেত্রেই হতে পারে। যদি দেখেন হঠাৎ করে নতুনভাবে তা শুরু হয়েছে তাহলে অবশ্যই ভাবতে হবে। কোনও লুকোনো ভয় কাজ করছে না তো শিশুর মনে? বাচ্চার মুড কি খুব তাড়াতাড়ি বদলে যাচ্ছে? সেটাও নজরে রাখুন।

অন্যমনস্ক থাকা

সবসময় অন্যমনস্ক থাকা আর একটি বিষয়। অথবা সব জিনিসই আপনার বাচ্চা লুকোতে চাইছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখুন। কোনও ঘটনা মনে গভীর দাগ ফেললেই সাধারণত বাচ্চাদের এমন আচরণ করতে দেখা যেতে পারে। শুধু বাবা-মা নয়, সকলের থেকেই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে শিশুরা।

দুঃস্বপ্নের শিকার হওয়া

শিশুরাও ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখে। বড়রা যেমন ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে রিঅ্যাক্ট করে, শিশুদের ক্ষেত্রেও সেটাই স্বাভাবিক। তবে ছোটদের সাধারণত ঘুমের সমস্যা হয় না। যদি দেখেন আপনার বাচ্চার ঘুম ঠিক হচ্ছে না তাহলে কারণ জানার চেষ্টা করুন। আর যদি দুঃস্বপ্নের শিকার হয় শিশু তাহলে নিশ্চয়ই কোনও গোলমাল রয়েছে।

অসংলগ্ন আচরণ

শিশুরা খেলনা নিয়ে খেলতে ভালোবাসে। দিনের অনেকটা সময়ই নিজের প্রিয় বার্বি ডল বা অন্য পুতুল নিয়ে খেলে। যদি দেখেন আপনার বাচ্চা পুতুল নিয়ে খেলার নাম করে বসে রয়েছে বা অন্য কোনও বস্তু নিয়ে অন্যান্য দিনের চেয়ে অসংলগ্ন আচরণ করছে তাহলে সাবধান হোন।

অস্বাভাবিক চিত্রাঙ্কন

শিশুদের চিত্রাঙ্কন যৌন নিপীড়ন ও এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিষণ্নতার লক্ষণও প্রকাশ করতে পারে, যদি ছবিতে শক্তিশালী বা বড় লোকের মাঝে তাদেরকে অসহায় দেখায়, জানাচ্ছে গবেষণা।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ