ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এই শীতের সঙ্গী সরিষার তেল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার, ০৪:৪২ পিএম
এই শীতের সঙ্গী সরিষার তেল

ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের সঙ্গে কোনো ভর্তা বা ভুনা খিচুড়ি, ইলিশ মাছে খানিকটা সরিষার তেল স্বাদকে একেবারে অন্যমাত্রায় নিয়ে যেতে পারে। এ তো গেলো রসনাবিলাসের ক্ষেত্রে সরিষার তেল। আমাদের ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রেও কিন্তু এই সরিষার তেলের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে এই শীতের দিনে সরিষার তেলের খুব চল। ঐতিহ্যগতভাবে এই তেল আমাদের পূর্বপুরুষেরা ব্যবহার করে আসছেন। ওমেগা আলফা ৩ ও ওমেগা আলফা ৬ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস হওয়ায় সরিষার তেলকে স্বাস্থ্যকর তেল বলা হয়। এর ঔষধি গুণাগুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে এই তেল। ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্যের জন্য সরিষার তেলের অসাধারণ উপকারিতার কথা জেনে নেওয়া যাক-

এখন ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা বেশ প্রকট আকার ধারণ করছে। শৈত্যপ্রবাহ, বাতাসে ধূলাবালি বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন সবাই ঠাণ্ডাজনিত সব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রায়শই।

সেই প্রাচীনকাল থেকে সরিষার তেল ঠাণ্ডাজনিত রোগে অধিক ব্যবহার হয়ে আসছে। কারণ সরিষা তেলে রয়েছে হিটিং প্রোপার্টিজ যা বুকে জমে থাকা কফ বের হতে সাহায্য করে। সাথে অন্যান্য ঠাণ্ডার রোগ যেমন- মাথাব্যথায়, নাক দিয়ে পানি পড়া ও হাতে পায়ে মালিশে ও বেশ কার্যকর। ছোটবেলার মায়ের হাতের গরম রসুন-সরিষার তেল মালিশ কিন্তু তার বড় উদাহরণ।

শীতকাল এলেই যাদের জয়েন্ট পেইন শুরু হয় তারা সরিষার তেলে নিয়মিত মালিশ করলে বেশ উপকার পেতে পারেন। কারণ নিয়মিত ব্যথা স্থানে মালিশের ফলে রক্ত প্রবাহের মাত্রা বেড়ে যায় এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। মালিশের তেলে সরিষার তেল ব্যবহার করে থাকেন অনেকেই।    

অ্যাজমার সমস্যা অনেকেরই আছে। শীতকালে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। আর এই রোগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্থায়ী কোনো প্রতিষেধক নেই। সরিষার তেল অ্যাজমা রোগীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারি। নিয়মত বুকে সরিষার তেলের মালিশ আপনাকে অনেকটা আরাম দিবে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া। নিয়মিত মধুর সঙ্গে মিশিয়ে এক টেবিল চা-চামচ দিনে তিনবার খেলে বেশ আরাম পাওয়া যায়

শীতকালে ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়। সরিষার তেল ত্বকের তামাটে ভাব ও দাগ দূর করে ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করতে পারে। এজন্য বেসন, দই, সরিষার তেল ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণটি আপনার ত্বকে লাগান। ১০-১৫ মিনিট পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহার করুন।

সরিষার তেল আমাদের প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। যেহেতু সরিষার তেল খুব ঘন হয় এবং এতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই থাকে সেহেতু এই তেল ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে পারে। তাই সানস্ক্রিন লোশনের মতোই ব্যবহার করতে পারেন সরিষার তেল। তবে এই তেল যেহেতু ঘন তাই ত্বকে লাগানোর পর ভালো ভাবে ঘষে নিতে হবে যেনো অতিরিক্ত তেল লেগে না থাকে। অন্যথায় অতিরিক্ত ধুলাবালি জমা হয়ে ত্বকের ভালোর চেয়ে খারাপই হতে পারে বেশি।

শুষ্ক ঠোঁটের যত্নে সরিষার তেল চমৎকার প্রতিকার হিসেবে কাজ করে যেখানে লিপবাম বা চ্যাপস্টিক সরিষার তেলের তুলনায় কম কার্যকর। ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনার ঠোঁটে এক বা দুই ফোঁটা সরিষার তেল দিন। তাহলে আর কখনোই আপনার ঠোঁট শুকাবে না বা ফাটবে না।