ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বছর শেষে ক্ষমা করুন, ক্ষমা চেয়ে নিন

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০৮:৩৬ এএম
বছর শেষে ক্ষমা করুন, ক্ষমা চেয়ে নিন

ঘুম ভেঙেই আজ মনে হচ্ছে- এই রে, আজকে তো বছরের শেষদিন। কাল থেকে আবার নতুন বছর, আবার নতুন করে কত চিন্তা, কত পরিকল্পনা আর এই বছরের চেয়ে আরেকটু ভালো থাকার চেষ্টা। হ্যাঁ, অবশ্যই এই বছরের চেয়ে আসছে বছরে সবাই ভালো থাকতে চাইবে। আমরা ভালো থাকাকে কঠিন আর প্রায় অসম্ভব মনে করি। মনের দুঃখে প্রায়ই বলি, আমার পক্ষে বোধহয় ভালো থাকা সম্ভব না, সুখ বোধহয় আমার কপালে নেই। কারণ আপনি দেখেন যে চারপাশের অনেককিছুই আপনাকে ভালো থাকতে দেয় না, মনের মধ্যে অনেক খুতখুতানি ভালো না থাকার অন্যতম সব কারণ।

ভালো থাকতে গেলে আগে মন থেকে খুতখুতানি দূর করতে হবে, নিজেকে ভারমুক্ত করে তুলতে হবে। এই যেমন আপনি কারো ওপর অভিমান করে আছেন, রাগ পুষে রেখেছেন। এতে আপনি শান্তি পাচ্ছেন না। আবার এমনও হতে পারে যে আপনার প্রতি কেউ রেগে আছে, আপনি তার কাছে ন্যুনতম ক্ষমাও চাইতে পারছেন না। দ্বিধা-সংকোচ আর অশান্তি একসাথেই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

বছর শেষের দিনে নতুন বছরের আগমনে একটা পরিকল্পনা করেই ফেলুন তো, দেখুন কেমন শান্তি। এই শেষদিনে মনে রাগ বা অপরাধবোধ পুষে না রেখে ক্ষমা করে দিন, ক্ষমা চেয়ে নিন। আপনি এতে হালকা হয়ে যাবেন, সামনের দিনগুলোও ভালো হয়ে যাবে।

ক্ষমা চাইতে লজ্জা করছে? এই পথ একবারেই সোজা-

আপনার ভুল স্বীকার করুন

‘আমি তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি, সব বিবেচনায় আমাকে মাফ করে দাও’- এভাবে বলে ফেলুন। ক্ষমা চাওয়ার সময় অজুহাত দেখাবেন না যে, এজন্য করিনি বা এজন্য ভুল হয়েছে বলবেন না। সরাসরিভাবে বিনয়ের সঙ্গে ক্ষমা চান।

সরলতার প্রকাশ ঘটান

আপনি যে খারাপ ব্যবহার করে মন থেকে অনুতপ্ত, সেটি আপনার কথায় তাকে বুঝিয়ে দিন। কথা বলুন বিনয়ী সুরে ও নরম ভাষায়। আপনার বিনয়ের সম্পূর্ণ উপস্থাপন করুন।

আর কখনও এমন হবে না

আমার কাছ থেকে তুমি আর এমন খারাপ ব্যবহার পাবে না- এটি তাকে বলুন। আপনার জীবনে তার ভূমিকা তুলে ধরুন। আপনার চলার পথে তাকে আপনার কতটুকু প্রয়োজন সেটি বোঝান।

আমি নিশ্চয়ই তোমাকে ভুলবো না

যখন ক্ষমা চাইবেন, তখন তাকে বুঝিয়ে দিন- আপনি তাকে কত গুরুত্ব দেন আপনার জীবনে। আপনার জীবনের একটি অংশজুড়ে যে, সে আছে সেটি তাকে বুঝতে দিন।

মন থেকে ক্ষমা করুন

কাউকে কষ্ট দিয়ে কেউ সুখী হয় না। এই কথাটি যদি মানেন, তা হলে অবশ্যই তাকে আপনার মন থেকে ক্ষমা করতে হবে। আর তা না হলে বরং আপনি নিজেই কষ্ট পাবেন। দরকার কী কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজে কষ্ট পাওয়া।

তার কথা মন দিয়ে শুনুন

নিশ্চয়ই তিনি আপনার নামে অনেকগুলো অভিযোগ নিয়ে আছেন। তার আগে তার কথা মন দিয়ে শুনবেন। এরপর তার যা যা অভিযোগ সেসবের সমাধান দিন ঠাণ্ডা মাথায়।

সাহায্য করুন

যদিও সে আপনাকে শত্রু মনে করে, তাও তার ক্ষতির চিন্তা করবেন না। পাওয়ার আশা না করে ত্যাগ করুন। দেখবেন একদিন তিনি মন থেকে বুঝতে পারবেন, আপনি তার জীবনে কত দামি একজন ব্যক্তি।

কীভাবে ভুলে যাবেন বা ক্ষমা করে দেবেন

যার কথা ভাবলেই ঘেঁটে যান প্রতিনিয়ত, তার কথা ভাবাই ছেড়ে দিন। আর তাঁকে ভুলতে গেল প্রথমেই তার ওপর রাগগুলো সরিয়ে নিন। ক্ষমা করে দিন তাঁকে। দেখবেন আপনার স্ট্রেস কমে গেছে অনেকটাই।

দুশ্চিন্তায় ভুগছেন অথচ কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না কিছুতেই। আসলে নানা কারণেই আমাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাসা বাঁধতে পারে। এই চিন্তাকে কিছুটা হালকা করতেও ক্ষমা করে দিন। এমনকি দোষী যদি আপনি নিজেও হন, তাও নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন। দেখবেন সমস্যার অনেকটা সমাধান পেয়ে যাবেন হাতেনাতেই।

যতদিন আপনি খারাপ চিন্তাগুলো মনে রেখে দেবেন, ততদিন কোনোভাবেই মানসিক শান্তি আপনার নাগালে আসবে না। তাই ক্ষমা করতে শিখুন, আর ভুলে যান সেসব তিক্ত মুহূর্ত। এরপর খেয়াল করুন দিব্যি খোশমেজাজে দিন চলছে। মনের ভার কমায় মানসিকভাবেও শান্তি পাবেন আপনি।

যতবার তাঁর মুখটা মনে পড়ছে রাগে, তিক্ততায়, ঘেন্নায় শিউরে উঠছেন তো! এই অবস্থায় তাঁর মুখটা ভুলে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তার ভুল ভ্রান্তিগুলো ক্ষমা করে দিন। দেখবেন নিজে থেকেই মুখটা মিলিয়ে গেছে একদিন। আর এতে ভালো থাকবেন আপনি এবং আপনার আশেপাশের মানুষজন।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ