ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গরম পানির ব্যবহার করুন বুঝেশুনে

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৮:০৯ এএম
গরম পানির ব্যবহার করুন বুঝেশুনে

এই শীত থেকে বাঁচতে আমাদের চেষ্টার তো কোনো শেষ নেই। পোশাক, খাবার দাবার সবক্ষেত্রেই ঠাণ্ডা বাঁচিয়ে চলতে হচ্ছে আমাদের। আর এক্ষেত্রে আমাদের অনেক বড় সহায়ক গরম পানি। শীত বা গরম, সবকালেই গরম পানি আমাদের জন্য উপকারী। তবে সেটা অবশ্যই উষ্ণ গরম পানি।

কিন্তু শীতকালে গরম পানির চাহিদা বেড়ে যায় অনেকখানি। আবার অনেকে ভাবেন খুব বেশি গরম পানি শরীর আর ত্বকের জন্য ক্ষতিকরই হচ্ছে বোধহয়। কড়া গরম পানি ক্ষতিকর হতে পারে, তবে উষ্ণ গরম পানি মোটেই ক্ষতিকর না, বরং উপকারী। নিজেই থাকছে সেই আলোচনা- 

১. খেতে বসে পানি খাওয়া খুব একটা উপকারী নয়। এর ফলে হজমে নানা সমস্যা দেখা দেয়। খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে বা পরে যদি এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানি খাওয়া যায় তাহলে অ্যাসিডিটি, বদহজমের মতো একাধিক সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এই পানি খাবার দ্রুত হজমেও সাহায্য করে।

২. দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন যারা, তারা সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানি খেতে পারলে পেট সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

৩. সাধারণ তাপমাত্রার পানির চেয়ে উষ্ণ গরম পানি খেতে পারলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা একটু হলেও বাড়ে এবং ঘাম ঝরে বেশি। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় উপাদান ঘামের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে যায়। এতে শরীর দ্রুত ডিটক্স বা ব্যথামুক্ত হয়।

৪. দ্রুত মেদ ঝরাতে উষ্ণ গরম পানি বেশ কার্যকর। এই পানি খেলে শরীরের মেটাবলিক রেট বাড়ে এবং বেশ ক্যালরি পোড়ে। হালকা গরম পানি ক্ষুধাবোধ কমিয়ে ওজনও কমাতে পারে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানির সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারলে মেদ ঝরবে দ্রুত।

৫. প্রতিদিন সকালে খালিপেটে হালকা গরম পানি খেলে যেমন শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়ে, তেমনি এই তাপমাত্রা শরীরের শিরা, ধমনীতে রক্তচলাচলের গতিও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করে। রক্ত চলাচল ঠিক থাকলে হৃদরোগ সংক্রান্ত যাবতীয় রোগের উপশম ঘটে।

৬. দীর্ঘদিন ধরে বাতের ব্যথায় ভুগছেন যারা, তারা এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন একগ্লাস উষ্ণ গরম পানি খান। ফলে শরীরের সক্ত সঞ্চালন বাড়বে, শরীরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় উপাদান ঘামের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে যাবে। ফলে ব্যথাবোধও কমে আসবে। এর সঙ্গে সঙ্গে ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যা থেকেও মুক্তি মিলবে।

৭. পুষ্টিবিদরা বলেন, পেট পরিষ্কার থাকলে শরীরের অনেক রোগ কাছে আসতে পারে না। পেট পরিষ্কার থাকলে ত্বকও থাকে ঝকঝকে, উজ্জ্বল। প্রতিদিন সকালে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে বা পরে একগ্লাস হালকা গরম পানি খেলে ত্বকে জমাট বাধা তেল, ধুলোবালি থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যাবে।

গরম পানিতে গোসল

খাওয়ার মতোই সবসময় উষ্ণ গরম পানিতে গোসল দিতে হবে। ভুলেও কখনো কড়া গরম পানিতে গোসল করতে যাবেন না। এই শীতকালেও না। কারণ এতে আপনার শরীর এবং ত্বক দুটোরই ক্ষতি হবে। এই শীতে গরম পানিতে গোসল করলে অনেকগুলো উপকার পাবেন। যেমন-

গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে। পেশিগুলোও আরাম অনুভব করে। শারীরিক ও মানসিক শান্তির কারণে তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসে। ফলে যারা অনিদ্রায় ভোগেন তাদের গরম পানি গোসল করা উচিত।

গরম পানিতে গোসল করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। যাদের মাথাব্যথা আছে এর ফলে তাদের এ যন্ত্রণার উপশম হয়।

সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ইত্যাদি থাকলেও গরম পানিতে গোসল করা উচিত। নিশ্বাসে সমস্যা হলেও গরম পানিতে গোসল উপকারে আসে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে গরম পানিতে গোসল রক্ত থেকে গ্লুকোজের পরিমাণ কমাতে পারে। এর ফলে ওজন কমে।

বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতেও গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন।

উচ্চ-রক্তচাপের সমস্যা থাকলেও গরম পানি দিয়ে গোসল উপকারী। এর ফলে স্ট্রেসমুক্ত হওয়া যায়। শরীর ফিট থাকে।

ত্বক সুস্থ রাখতেও গরম পানি দিয়ে গোসল করা উচিত। এর ফলে ত্বক থেকে মরা কোষ বেরিয়ে যায়।

নিয়মিত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে মস্তিষ্ক শান্ত থাকে। এটি বুদ্ধি বাড়াতেও সাহায্য করে।