ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে রাখুন দাম্পত্যজীবন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২০ রবিবার, ০৮:০০ এএম
সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে রাখুন দাম্পত্যজীবন

মানুষের জীবনের প্রায় পুরোটাই এখন উঠে এসেছে ফেসবুকে, অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। ছুটির দিনে দুপুরে বানানো স্পেশাল খাবার-দাবার থেকে শুরু করে সদ্য কেনা নতুন ড্রেস, সবকিছুর ছবিই আমরা শেয়ার করি ফেসবুকে। কিন্তু ফেসবুকে ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করার আগে একটু সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে অনেক সময়ই জীবনে অশান্তি আসতে পারে।

আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অন্যের সুখ দেখে হিংসাবোধ করেন। আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদেরকে উৎসাহিত করবে। আবার আপনার বন্ধু তালিকায়েএমন অনেক মানুষও হয়তো আছেন, যারা ব্যক্তিগত জীবনে একাকী-নিঃসঙ্গ। আপনার ছবি তাদের মনে দুঃখবোধ জাগিয়ে তুলবে।

তাই এখনই সাবধান হোন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার আগে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন-

বেডরুমের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করাই ভালো

শোওয়ার ঘর কিন্তু আপনাদের একমাত্র এবং সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গা। বেডরুমে তোলা সেলফি বা ঘুমন্ত সঙ্গীর ছবি ফেসবুক বা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে সেটা খুবই হাস্যকর বা লজ্জাকর হয়ে উঠতে পারে। দুজনে ভালোবাসার অনেক ছবিই পোস্ট করতে পারেন। কিন্তু সেটা বারান্দা, ছাদ, বাড়ির বাইরে হোক, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বেডরুমটা দূরে রাখুন।

দাম্পত্যজীবনের খুঁটিনাটি শেয়ার করবেন না

স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত খুঁটিনাটি নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বেশি কথা না বলাই ভালো। সংসারের সব গল্পগুলো নিতান্তই আপনাদের। সেগুলো ইন্টারনেটে উজাড় করবেন না। আপনার ব্যক্তিগত সব তথ্য সোশাল মিডিয়ায় চলে গেলে আপনাদেরই সমস্যা হতে পারে। অন্যেরা আপনার সম্পর্কে খুতখুতে ধারণা করতে পারে। কেউ এটাকে বাড়াবাড়ি আবার কেউ এটাকে ন্যাকামিও আখ্যা দিতে পারে।

পরস্পরকে দেওয়া প্রতিটি উপহারের ছবি শেয়ার না করাই ভালো

সারাক্ষণ যদি একে অন্যকে দেওয়া উপহার, সারপ্রাইজ, ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশগুলো দেখাতে শুরু করেন তা হলে মনে হতে পারে আপনি কিছু একটা প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। বিবাহবার্ষিকী বা এনগেজমেন্টের মতো বড়ো ঘটনার বাছাই করা ছবি পোস্ট করতেই পারেন, তবে বাড়াবাড়ি যেন না হয়। কিন্তু হুট করে সঙ্গী কি দিলো, কেন দিলো- এগুলো সবার কাছে ভালো নাও লাগতে পারে, তুচ্ছ লাগতে পারে।

দাম্পত্যকলহের কথা সামাজিক মাধ্যমে একদমই নয়

পারিবারিক অশান্তির কথা সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা মানে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনা। সঙ্গীর কোনও কাজ আপনার অপছন্দ হলে সেটা নিয়ে তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। একইভাবে বন্ধু বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামত প্রয়োজন হলে সেটাও সাক্ষাতে আলোচনা করুন, সোশাল মিডিয়া মারফত নয়। কারণ আপনাদের দাম্পত্য কলহ কখনো না কখনো ঠিক হয়ে যাবে। আপনাদের মধ্যে ভালোলাগা, ভালোবাসা ঠিক থাকলে কলহ বেশিদূর যাবে না, আপনাআপনি ঠিক হয়ে যাবে। পরে যখন দেখবেন এরই মাঝে অভিযোগ আর রাগে সবাইকে জানিয়ে দিলেন সবটা, নিজেরই লজ্জায় মাথা কাটা যাবে।

নিজেদের ব্যক্তিগত সময়গুলোকে ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করুন

নিজেদের একান্ত মুহূর্তুগুলো ব্যক্তিগত রাখতে চেষ্টা করুন। শুধু বেডরুম নয়, আপনারা দুজন মিলে হয়তো কোথাও বেড়াতে গেলেন, কোথাও খেতে গেলেন। সেখানকার সব ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার আসলে তো কোনো প্রয়োজন নেই। বন্ধুদের সাথে আপনার যাপিত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত শুধু লাইক-কমেন্টের আশায় শেয়ার করার কোনো অর্থ নেই। সবকিছুরই বেশি বেশি শো অফের কোনো দরকার নেই।

বাংলা ইনসাইডার