ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অফিসে বসে মুটিয়ে যাচ্ছেন, সমাধান কি?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারি ২০২০ সোমবার, ০৮:০২ এএম
অফিসে বসে মুটিয়ে যাচ্ছেন, সমাধান কি?

অনেকেরই অভিযোগ, এই এতগুলো ঘণ্টা অফিসে বসে বসে শরীর দিন দিন ফুলছেই, মোটাই হচ্ছে। স্বাভাবিক, এভাবে একটানা বসে কাজ করলে শরীরে মেদ জমে। আবার এক্সারসাইজ করার সময় হয় না বলে এই মেদ পাকাপোক্তভাবে শরীরে জমতে থাকে।

প্রতিদিন আট থেকে নয় ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকলে শরীর চালনা কম হয়। ফলে ক্যালোরিও খরচ হয়না পর্যাপ্ত পরিমাণ। অনেকেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় খোঁজে। তবে দরকার নেই আলাদা সময়ের। আপনার চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই। কাজ করতে করতেই শরীরের মেদ কমানো সম্ভব। সেটা আপনার সাধ্যের মধ্যেই।

সেই টিপসগুলোই জানাচ্ছি আপনাদের-

১. অফিসে প্রতি এক বা দুইঘণ্টা পর পর ১০-১৫ মিনিটের ব্রেক নিতে পারেন। সেই সময়টুকুতে হাঁটুন। অফিস ফ্লোর বা করিডরে হাঁটতে পারেন, লম্বা কোনো বারান্দা বা ছাদে গিয়েও চটজলদি হেঁটে আসতে পারেন। ওই সময় ফোনে কথা বলতে হলে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে না থেকে হাঁটতে হাঁটতে বলুন। তারপর রিল্যাক্স হয়ে ফিরে এসে বসে পড়ুন।

২. আপনার অফিস এলাকায় নিশ্চয়ই অনেক সুস্বাদু খাবার পাবেন আপনি। দোকানে নিয়মিত খাওয়ার প্রবণতা না থাকলেই ভালো। এই হুটহাট যখন-তখন খাওয়া অভ্যাস আপনার জন্য ভালো না। আবার অনেক সময় বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যাওয়াটা ঝামেলা মনে করেন অনেকেই। কিন্তু মনে রাখবেন, বাড়ির খাবার আপনাকে সুস্থ রাখবে সবসময়। পথেঘাটের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ এই তৈলাক্ত খাবার বা ফাস্টফুড আপনার ওজন বাড়িয়ে থাকে।

৩. উঠে সবসময় হাঁটলে চেয়ারে বসেই হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন। হালকা ঘাড়ের ব্যায়াম করতে পারেন। এতে একনাগাড়ে বসে কাজ করার ক্লান্তি কমবে। সহকর্মীদের সঙ্গে টিপস শেয়ার করতে পারেন। অফিসে জিম থাকলে তো কথাই নেই। জিম না থাকলেও ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়ামও করতে পারেন।

৪. আমাদের মোটামুটি সবারই কাজের ফাঁকে চকোলেট, চিপস খাওয়ার  অভ্যাস আছে। একেই বসে বসে কাজ করা, তারপর আবার এই খাবার খেলে আপনার মোটা হওয়ার আমঙ্কা বাড়তেই থাকবে। টুকটাক খিদে আপনার পেতেই পারে। এজন্য ড্রাইফ্রুটস বা লো-ফ্যাট কুকিজ সঙ্গে রাখুন সবসময়। খিদে পেলে অল্প করে সেগুলোই খান। আর কাজের মাঝে নিয়ম করে পানি খেতে অবশ্যই ভুলবেন না।

৫. আপনি বাস, গাড়ি বা রিকশা ছাড়া হয়ত অফিসেই যান না। সেই ফাঁকে একটু হাঁটার কথা আপনি হয়ত ভুলেই যান প্রতিনিয়ত, ওদিকে সময়ই তো পান না হাঁটার। এক কাজ করুন, অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক বা দুই স্টপেজ আগে বাস বা অফিসের গাড়ি থেকে নেমে পড়তে পারেন। এতে হাঁটার অভ্যেস তৈরি হবে। সপ্তাহে দু-একদিন অফিসের লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে উঠুন।

৬. অনেকক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে ব্যথা বাড়ে, সেই সঙ্গে শরীরে পানি জমে, শরীর স্থুলও হতে পারে। তাই মাঝে মাঝে পা মেঝে থেকে অল্প উপরে তুলে রাখুন। এবার দুই পায়ের পাতাকে উপর দিকে করে নিজের শরীরের দিকে টেনে রাখুন দশ সেকেন্ড। তারপর ছেড়ে দিয়ে ঠিক উলটো দিকে অর্থাৎ শরীরের বাইরের দিকে ঠেলে দিন পায়ের পাতাকে। এইভাবে দশ সেকেন্ড করুন। এই ব্যায়ামে আপনার ক্যালোরিও ঝরবে আবার পায়ের ব্যথাও কম হবে।

৭. খুব বেশি পরিমাণ চা বা কফি খাবেন না অফিসে। ক্যাফেইন এবং চা-কফিতে থাকা মিষ্টি আপনার স্বাস্থ্যকে বাড়িয়ে দিতে পারে। চিনি ছাড়া বা চিনি কম দিয়ে লাল চা খেতে পারেন। নয়ত গ্রিন টি খেতে পারেন, যেটি আপনার শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো হয়। কোল্ড ড্রিঙ্কস বা মিষ্টি জাতীয় ড্রিঙ্কস পান করবেন না।

৮. আর সকালের নাস্তাটা বাসা থেকে করে বের হওয়াটা ভালো। আর দেরি হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন নাস্তা। নয়ত আপনি অফিসে গিয়ে দিনটাই শুরু করবেন পরোটা নয়ত ভাজাপোড়া দিয়ে। এতে করে আপনার শরীর আরও বেশি মোটা হওয়ার রসদ পাবে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ