ঢাকা, রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

আপনার ভুলেই পদোন্নতি আটকে নেই তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার, ০৮:০০ এএম
আপনার ভুলেই পদোন্নতি আটকে নেই তো?

জীবনে অবশ্যই সফল হতে চান? কেনই বা চাইবেন না! সফল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সবার মধ্যেই থাকে। কিন্তু চাইলেই জীবনে সবাই সফল হতে পারে না। অনেক সময় অনেকেই অনেক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও উন্নতি করতে পারে না, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করেও পদোন্নতি পান না, আবার অনেকেই তুলনামূলক কম যোগ্যতা নিয়েও নানা কৌশলে দ্রুত উন্নতি লাভ করেন।

যোগ্যতা থাকলেই যে সব সময় পদোন্নতি হয়, তা কিন্তু নয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অন্যান্য কিছু বিষয়ও জড়িত থাকে। চাকরিতে পদোন্নতি না পাওয়ার কারণগুলো কি সেটা একবার দেখে নেওয়া যাক চলুন-

১. হুট করে রেগে যাওয়া আমাদের অনেকেরই কমন একটি সমস্যা। হ্যাঁ, হুটহাট করে আমাদের রাগ হয়ে যেতেই পারে। কিন্তু সেই রাগ সবখানে দেখালে তো আপনারই বিপদ। বিশেষ করে আপনার অফিসে। এখানে আপনার রাগের তোয়াক্কা কেউ করবে না, বরং হিতে বিপরীত হবে। কারণ নিজেকে সংযত রাখতে না পারলে তা আপনার মূল্যায়ন এবং পদোন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর অতিরিক্ত রাগী লোককে এমনিতেও কেউ পছন্দ করে না।

২. আপনার কর্মস্থলে টুকটাক আড্ডা, গল্প, আলাদা সময় কাটানো হয়েই যায়। একটানা কাজ করা তো সম্ভব না। তবে বেশিরভাগ সময়ই যদি কর্মস্থলে সহকর্মীদের নিয়ে কথায়-আড্ডায় ব্যস্ত থাকেন তবে অবসরের সময় চলে এলেও পদোন্নতি আপনি পাবেন না। সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ অবশ্যই রাখতে হবে। তবে সেটা কাজের ক্ষতি করে নয় কখনোই।

৩. যোগাযোগ দক্ষতাও পদোন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখে। সহকর্মীদের সঙ্গে এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে রুচিশীল স্বাভাবিক যোগাযোগ গড়ে তুলুন। হাসিমুখে কথা বলা, নিজের এবং অন্যের সম্মান বজায় রেখে কথা বলা রুচিশীল আচরণের মধ্যে পড়ে।

৪. অফিসে কখনও কোনো সহকর্মীকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা যাবে না, কাউকে নিয়ে গুজব রটানো যাবে না। নিজেকে সবসময় পরচর্চা-পরনিন্দা থেকে দূরে রাখতে হবে। এটা করতে না পারলে পদোন্নতি বঞ্চিত হবেন, সেটাই স্বাভাবিক। আপনার ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অপছন্দ হতেই পারে, কারো প্রতি রাগ, অভিমান থাকতেই পারে। তাকে এড়িয়ে চলতে পারেন, তাই বলে তাকে কোনোভাবে আক্রমণ করা যাবে না। এতে করে আপনি উল্টো নেতিবাচক হবেন সবার কাছে।

৫. আর শুধু কাজে ডুবে থাকলেও পদোন্নতি হয় না। বস খুশি হোক বা না হোক কিছু কিছু সময়ে সত্যের পক্ষ নিতে হবে। তাহলে অফিস ব্যবস্থাপনার চোখে আপনার সততা ও দৃঢ়তা প্রকাশ পাবে। আপনাকে ভরসা করে কোনো দায়িত্ব দিতে তারা আগ্রহী হবেন।

৬. আমিই শ্রেষ্ঠ- এই মনোভাব ত্যাগ করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার মতো অন্যান্য সহকর্মীরাও কিছু না কিছু যোগ্যতা নিয়ে সেখানে কাজ করতে এসেছেন। নিজেকেই যোগ্যতম ভাবতে থাকলে আপনি অন্যদের ক্রমাগত খাটো করতে থাকবেন, যা কর্মকর্তাদের চোখে আপনার যোগ্যতাকেই খাটো করে তুলবে। ফলে পদোন্নতির পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

৭. আপনি যদি সারাক্ষণই আপনার চাকরিজীবন, অফিস এবং সহকর্মীদের নিয়ে অভিযোগ করতে থাকেন, তবে তা অবশ্যই আপনার পদোন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করবে। কারণ আপনার হতাশার কথাগুলো কোনো না কোনোভাবে অফিসের এদিকে ওদিকে ঘুরেফিরে বেড়াবে আর আপনার ওপর প্রভাব বিস্তার করবে।