ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সাজ-পোশাকে একুশ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার, ১১:২২ এএম
সাজ-পোশাকে একুশ

উৎসব আর রঙের মাস ফেব্রুয়ারি। ভালোবাসা দিবস, ফাল্গুনের পর আসছে ২১ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। উৎসব বা যেকোনো ইভেন্ট যে আমরা শুধু মনে ধারণ করি তা নয়, ফ্যাশন পোশাকেও আছে বিভিন্ন রং আর বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। তেমনি একুশও বাঙালিদের জন্য নিয়ে আসে নতুন রঙ আর ফ্যাশনের ছোঁয়া। ভাষা শহীদদের হারানোর শোককে সাদা-কালো রঙে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি আমরা।

শুধু যে সাদা-কালো রঙকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাই নয়। একুশের বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে পোশাকে বর্ণমালার ব্যবহার ব্যাপক জনপ্রিয়। আর পোশাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একুশের গান, কবিতা, স্লোগান ও বাংলা ভাষায় রচিত বিভিন্ন পঙক্তিমালাও। যার সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা গৌরবগাথা। এছাড়াও শহীদ মিনার, মানচিত্র, পতাকাসহ একুশের বিভিন্ন চিত্রের প্রকাশ ঘটেছে একুশের পোশাকে।

রং ও কাপড়

একুশের চেতনার সঙ্গে মিলিয়ে পোশাকে সাদা-কালো রঙের প্রাধান্য থাকলেও এখন আর তা এই দুটি রঙের মধ্যে আটকে নেই। একুশ এখন সর্বজনীন। তাই রঙের ব্যবহারও সর্বজনীন। সাদা, কালো, লাল, সবুজ, হলুদ, নীল সব রঙেই সাজছে একুশের পোশাক। কাপড়ের ক্ষেত্রে সুতির প্রাধান্য থাকলেও তাঁত, মসলিন, সিল্ক প্রভৃতির ব্যবহারও বাড়ছে।

নকশা ও পোশাকের ধরন

এ বছর একুশের পোশাকের নকশায় বর্ণমালা, ভাষা ও ভাষাশহীদদের পাশাপাশি দেশজ চেতনা ও ঐতিহ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। পোশাকের মধ্যে নকশিকাঁথা ফোঁড়, ব্লক, স্প্রে-ব্লক, অ্যাপলিক, ক্যাটওয়াক, স্ক্রিন, হ্যান্ডপেইন্ট, এমব্রয়ডারির কাজ চোখে পড়ার মতো।

পোশাক হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে ছেলেদের নানা রঙের টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, চাদর এবং মেয়েদের ফতুয়া, টপস, সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি। শিশুদের জন্যও রয়েছে নানা আয়োজন। এসব পোশাকের জমিনে নানা রঙে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলা ভাষা ও আন্দোলনের ইতিহাস।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন

একুশের ভাবনার সঙ্গে মিল রেখে পোশাকে বর্ণমালার ব্যবহার ব্যাপক জনপ্রিয়। সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে একুশের গান, কবিতা, স্লোগান ও বাংলা ভাষায় রচিত বিভিন্ন পঙিক্তমালা। যেখানে ফুটে উঠেছে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা গৌরবগাথা। এ ছাড়া শহীদ মিনার, মানচিত্র, পতাকাসহ একুশের বিভিন্ন চিত্রের নান্দনিক প্রকাশ ঘটেছে এবারের পোশাকে।

একুশের পোশাকে মেয়েদের প্রথম পছন্দ শাড়ি। সাদাকালো কিংবা নীলের পটভূমিতে একুশের বর্ণমালাকে ধারণ করা শাড়িতে কাপড়ের ক্ষেত্রে সুতির প্রাধান্য থাকলেও তাঁত, মসলিন, সিল্ক প্রভৃতির ব্যবহারও বাড়ছে। সালোয়ার-কামিজে সাদাকালোর প্রচলিত ধারার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে ধূসর, কালচে সবুজ ও তামাটে রঙ। বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্লক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ঘন বুনোটের অ্যামব্রয়ডারি, নানা রঙের সুতার নকশার ব্যবহারে সালোয়ার-কামিজের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আধুনিক তরুণীরা চুড়িদার বা সালোয়ারের সঙ্গে কলার ফুল ও হাফ স্লিভ পোশাকগুলো পরতে পারেন একুশের আয়োজনে। বর্ণমালার সাজে ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের ডিজাইন।

মেয়েরা চুলে সাদামাটা বেণি বা খোঁপা করতে পারেন। চোখে কালো আইশ্যাডো ব্যবহার করাই মানানসই। এরপর আইভ্রুর ঠিক নিচে সিলভার হাইলাইটার দিন। যারা কাজল ব্যবহার করেন তারা একুশের সাজের সঙ্গে কাজল যুক্ত করে নিতে পারেন। ঠোঁটে হালকা স্বাভাবিক রঙয়ের লিপস্টিক ব্যবহার করুন।

নেইলপলিশে এখন বিভিন্ন রঙ ব্যবহার হয়। এদিনে নখে কালো নেইলপলিশের ওপর সাদা রঙ দিয়ে এঁকে নিতে পারেন বাংলার বিভিন্ন বর্ণ।

ছেলেরা মাথায় বাংলাদেশের পতাকার রঙয়ের কোনো ফেট্টি বা হাতে লাল-সবুজের কোনো ব্রেসলেটও আমাদের পরিচয় ফুটিয়ে তুলে।

সকলের গালে রংতুলির ছোঁয়ায় জন্ম নেয়া বর্ণমালা আর একুশের মিনারও হতে পারে সাজের অনুষঙ্গ।

ফ্যাশন হাউজগুলো এখন ছোট্ট শিশুদের জন্যও একুশের আয়োজনে পোশাক নিয়ে এসেছে। ইচ্ছে করলে আপনার ছোট্ট সোনামনির জন্য কিনে নিতে পারেন পছন্দের পোশাকটি। আর হাতে সময় পেযে যারা শিশুর জন্য পোশাকটি নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি করেছেন তারা রইলেন এগিয়েই। প্রভাত ফেরী কিংবা একুশের সারা দিন শিশুদের গালে চিত্রশিল্পীর তুলির আঁচরে খেলা করুক শহীদ মিনার নয়তো অ আ ক খ।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ