ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাংলা বাদে অন্যভাষায় কথা মানেই স্মার্টনেস?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৪:৫৬ পিএম
বাংলা বাদে অন্যভাষায় কথা মানেই স্মার্টনেস?

চেনা বা জানার যেমন কোনো শেষ নেই, নিজেকে সবজান্তা বা সব কাজে পারদর্শী হিসেবে তুলে ধরতেও আমাদের চেষ্টা কোনো ত্রুটি থাকে না। বর্তমান দিনে নিজেকে স্মার্ট প্রমাণ করা সবচেয়ে জরুরি, সেটা যেভাবেই হোক। নিজের স্বকীয়তা, ঐতিহ্য, ভাষাকে কিছুটা জলাঞ্জলি দিয়ে হলেও আমাদের স্মার্ট হতেই হবে, কালের আবর্তে গা ভাসাতেই হবে যেন।

টেলিভিশনে বিনোদনমূলক একটা টকশো দেখতে বসলেন, গানের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠানটি চলছে, গান শুনতে ভালোই লাগছিলো। কিন্তু এর মাঝে উপস্থাপক আর অতিথিদের কথাবার্তা আর ভাবভঙ্গি দেখে মেজাজ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলো। অগত্যা টেলিভিশন বন্ধ বা চ্যানেল পরিবর্তন। তাদের সেই কথোপকথনে ইংরেজি বাংলা মিলিয়ে এমন এক জগাখিচুড়ি বানিয়ে কথা বলছে যে বিরক্ত লাগাই স্বাভাবিক।

শুধু তো টিভিতেই নয়, পথেঘাটে বের হলেও অদ্ভুত বাংলিশ (বাংলা আর ইংলিশের সংমিশ্রণে ভাষার হাস্যকর নামকরণ) কথা শোনা যায়। কেউ একজন এক রিকশাওয়ালার সঙ্গে ধমকাধমকি করছে, সেটাও ইংরেজিতে, কেউ রেস্টুরেন্টে তার প্রেমিকাকে রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করছে ইংরেজিতে, একদল বন্ধু আড্ডায় মেতে ইংরেজি বাংলার এক অদ্ভুত ভাষার সৃষ্টি করেছে। আবার সামাজিক মাধ্যমে ইংরেজিকে ছোট বানিয়ে বিকৃত করে স্ট্যাটাস, চ্যাটিং এর কথা নতুন করে আর বলতে হয় না। এমনটা আজকাল সবখানে ঘটছে। ক্লাসের বিভিন্ন লেকচার, অফিসের মিটিং এমনকি লেখালেখির মধ্যেও এই বাংলিশ ঢুকে গেছে।

আমরা শিক্ষিত আর আধুনিক হচ্ছি সেটা তো সত্যি। কিন্তু নিজের এতো মূল্যবান ভাষার সঙ্গে কেন আরেক ভাষাকে মিলিয়ে আধুনিক হতে হবে, সেটাই জানার বিষয়। একটা পার্টিতে সব গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জড়ো হলো। সেখানে কেউ কোনো বাংলায় কথা বলছে না। সবাই চড়া গলায় ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলেই যাচ্ছে। আপনি ইংরেজিতে অতোটা পারদর্শী নয় বিধায় সংকোচ হচ্ছে। ভাবছেন যে ইস্, আমি এর মাঝে কথা বললে না জানি আমাকে কতোটা আনস্মার্ট মনে করছে সবাই!

এটা অনেকেরই ভাবনা। সেই ভাবনা থেকেই আসে সবখানে বাংলাকে সরিয়ে ইংরেজিতে কথা বলা।

কখন বলবেন ইংরেজি

ইংরেজি একমাত্র আন্তর্জাতিক ভাষা, আনুষ্ঠানিক ভাষাও বটে। তাই আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এই ভাষাকে নিয়মিত চর্চা করতেই হবে। আমাদের দেশের বাবামায়েরা এখন সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল কলেজে পড়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তারা তাল মিলিয়ে চলতে পারে। আরও বেশি আধুনিক হতে পারে। সে যাক। আমাদের ইংরেজিতে পড়াশুনা, পাঠ্যসূচি, প্রেজেন্টেশন, পরীক্ষায় আপনি পুরোপুরি ইংরেজি ব্যবহার করেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। আবার আমাদের অফিস আদালতের প্রেজেন্টেশন, গ্রুপ ওয়ার্কের সময়ে আপনাকে পুরোপুরি ইংরেজিতে কথা চালিয়ে যেতে হতে পারে। বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এমন অনেক সেটা প্রফেশনের খাতিরে। তবে অবশ্যই ইংরেজি বাংলা মিলিয়ে নয়। আর যখন আড্ডা, গল্প করবেন তখন ইংরেজি তো এড়িযে যাওয়াই ভালো। নিজের ভাষায় কথা বলুন। আর ইংরেজিতে বললে পুরোটাই ইংরেজিতে বলবেন, বাংলা মেলাবেন না। শুনতে ভালো লাগে না।

ইংরেজিই বলতে পারাই কি স্মার্টনেস?

অবশ্যই না। ইংরেজি সর্বজনগৃহীত ভাষা হতে পারে, কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলতে পারলেই যে আপনি পুরোদস্তুর স্মার্ট হয়ে গেলেন, এমনটা নয়। আপনি ভুলভাল ইংরেজি বললেন, তাতে বরং আপনার ইমেজটাই নষ্ট হলো। সবার সামনে আপনি অপমানিত হয়ে বসলেন। তাই প্রয়োজন ছাড়া ইংরেজিতে কথা বলতে যাবেন না। বললেও সেটা একেবারে জেনেবুঝে বলবেন।

আর স্মার্টনেস কখনো ভাষা দিয়ে আসে না। আপনি যে উচ্চশিক্ষিত এটা বোঝানোর জন্যও ইংরেজি বলতে হবে না। আপনার স্মার্টনেস আপনার বাচনভঙ্গিতে। আপনি কতোটুক জানেন সেটাই আপনার সুশিক্ষিত হওয়ার লক্ষণ। আপনাকে কতোটুকু সবাই বুঝলো, সেটাও জরুরি। তাই কথা বলুন সুন্দর করে, চলাফেরা সুন্দর করুন, শুদ্ধভাবে কথা বলুন, আপনার জানাটুকু অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিন। এতেই আপনি শিক্ষিতের প্রমাণ রাখবেন, স্মার্ট হবেন।

বাংলায় কথা বলুন

আর সবসময় নিজের ভাষাকে ভালোবাসুন। একটি শুদ্ধ বাংলা লাইন বলতে পারলে দেখবেন কতো ভালো লাগবে। নিজের ভাষাটাকে আগে ভালোভাবে আয়ত্ত্ব করুন। সবসময় মনে রাখবেন যে আপনার ভাষা যথেষ্ট ভালোবাসার। নিজের ভাষাটাকে তাই চর্চা করা জরুরি। বাসায়, বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত বাংলা চর্চা করুন। বাংলা সাহিত্যের প্রতি মনোযোগী হন। শিক্ষিত হতে চাইলে আগে নিজের ভাষা আয়ত্ত্ব করা জরুরি। তারপর অন্য যেকোনো ভাষাকে গুরুত্ব দিন।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ