ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সবসময় গুছিয়ে রাখুন নিজেকে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২০ বুধবার, ০৩:৪১ পিএম
সবসময় গুছিয়ে রাখুন নিজেকে

বাবা-মা, অভিভাবকের কাছাকাছি তাদের আদর-যত্নে থাকতে থাকতে আমরা একটা সময় অনেকটা বড় হয়ে যাই। নিজের দেখভাল করা, নিজেকে নতুন করে সাজানোর সুযোগ চলে আসে। পড়াশুনা বা জীবন-জীবিকার তাগিদে একা হয়ে যেতে হয় বা একা থাকতে হয়। নতুন জীবন, নতুন স্বাধীনতা এবং কিছুটা একাকীত্ব- সবমিলিয়ে জীবনটা কিছুটা এলোমেলো, একঘেয়ে হয়ে যেতে পারে। একা থাকা মানে সবকাজে আপনার কর্তৃত্ব। সৌখিনতা, আবদার সবই নিজের কাছে। তাই নিজের জন্য শৃঙ্খলা তৈরি করুন, নিজের জীবনটা নিজের হাতেই গুছিয়ে ফেলুন ঠিক এইভাবে-

১. প্রত্যেকের জীবনে আনন্দ-কষ্টের অধ্যায় থাকে। নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চাইলে নতুনভাবে নিজের জীবন শুরু করুন। একা থাকার ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবুন। ছোটখাটো সমস্যার ভিড়ে আত্মনির্ভরশীল আপনাকে আবিষ্কার করার আনন্দ নিতে পারে। উইকএন্ডে নতুন কোনো জাগায় ঘুরতে যান। হাতের ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন ক্যামেরায় ন্যাচারাল ফটোগ্রাফির আনন্দে মেতে থাকতে পারেন কিছুটা সময়। তবে অবশ্যই কোথায় যাচ্ছেন সে জায়গা সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিয়ে যেতে হবে।

২. নিজের পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে থাকতে হলে একা লাগাটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই একাকিত্ব যেন কখনই আপনাকে বিরক্ত না করে ফেলে। তাই আপনার পছন্দের বিষয়টি প্রাধান্য দিন। এক্ষেত্রে নাচ, গান, ছবি আঁকার কোনো ক্লাসে ভর্তি হয়ে যেতে পারেন। সমমনস্ক মানুষদের সঙ্গে ফোন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন, ভালো লাগবে।

৩. ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেও অনেকটা সময় যায়। পছন্দের পর্দা, পেইন্টিং শো-পিস দিয়ে মনের মতো করে ঘর সাজান। একা থাকেন, নিজের রান্নাটা নিজেই করে নিন না। এতে যেমন বুয়ার ঝামেলা থাকবে না, তেমনি টাকাও বাঁচবে। ছুটির দিনে সারা সপ্তাহের মিল প্ল্যান করে বাজার করুন। এতে জিনিসপত্র কম নষ্ট হবে।

৪. একা থাকলে নিজের শরীর সুস্থ রাখা জরুরি। সেজন্য আগে থেকে সংগ্রহে রাখুন সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশির ওষুধ থার্মোমিটার, পেইন কিলার। ফার্স্ট এড বক্সে ব্যান্ডেজ গজ তুলা অ্যাস্টিসেপটিক অয়েন্টমেন্ট রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। শরীর খারাপ করলে প্রতিবেশীদের জানিয়ে রাখুন। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও ভাবুন।

৫. নিজের সঙ্গে সময় কাটান। কাছে রাখুন পছন্দের গল্পের বই, সিনেমা এবং গানের কালেকশন। সকাল বেলা চায়ের কাপে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে এরা সঙ্গী হিসেবে অনবদ্য।

৬. বর্তমানে সারাবিশ্বেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা এক ভয়াবহ ব্যাধি বলে স্বীকৃত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন লোক এই বিষণ্ণতা ব্যাধিতে ভুগছে যা তাদেরকে অক্ষমতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা সাধারণত কোনো কাজ শুরু করে ব্যর্থ হলেই হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু আমাদের উচিত হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করা। বিষন্নতায় ভুগতে থাকা মানুষের মনে বিভিন্ন রকম নেগেটিভ চিন্তা ঘুরপাক খায়। তাই সর্বপ্রথম এই নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে মন থেকে দূর করার চেষ্টা করুন। যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করুন। তাছাড়া আনন্দদায়ক কাজের মধ্যে সময় কাটানোর মাধ্যমেও হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৭. যে জিনিসগুলোর ব্যবহার শেষ অথবা আর প্রয়োজন নেই সেগুলোই অপ্রয়োজনীয় জিনিস। এই ধরণের জিনিসপত্র তাড়াতাড়ি সরিয়ে ফেলা উচিত। কেননা এগুলো প্রয়োজনীয় জিনিসের সঙ্গে মিশে যায় এবং ঘরের বাড়তি জায়গা দখল করে রাখে। যার ফলে ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং ব্যবহারকারিকে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। তাই প্রয়োজন হবে না এমন জিনিস যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে ফেলুন। এটি আপনাকে স্বাচ্ছ্যন্দে থাকতে বেশ সহযোগিতা করবে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ