ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নারী, যত্ন নিন নিজের

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২০ রবিবার, ১২:৩৫ পিএম
নারী, যত্ন নিন নিজের

আপনি নারী বলে পিছিয়ে পড়া বা অন্যের মুখাপেক্ষী কেউ নন, আপনি আর সবার মতো মানুষ- এই জ্ঞানটা সবচেয়ে জরুরি। আপনি ভালো থাকবেন না খারাপ থাকবেন, তার জন্য অন্য কেউ নয়, সবার আগে দায়ী আপনি নিজে। তাই নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্কটা ঠিক রাখতে হয় সবরকম পরিস্থিতিতে। প্রতিদিন নিজেকে একটু যত্ন করতে হয়, যাতে শরীর ও মন দুই ভালো থাকে। একজন নারীর নিজের যত্ন দরকার সবার আগে।

প্রয়োজন ব্যায়ামের

দিনের শুরুটা হওয়া উচিত এক্সারসাইজ দিয়ে। হেভি ওয়র্কআউটের দরকার নেই সকালে। হালকা ফ্রিহ্যান্ড, একটু জগিং বা মর্নিংওয়াক। কোনোকিছু না পারলে সকালে উঠে, বারান্দায় বা খোলা আকাশের নিচে অন্তত আধঘণ্টা সময় কাটান। মনটা ফ্রেশ হতে বাধ্য। আর দিন শুরু করার জন্য এই ফ্রেশ মুডটা খুব দরকার। মেডিটেশনও খুব কাজে দেবে আপনার।

মন দিন সাজগোজ, রূপচর্চায়

এতো কাজের চাপ, সবকিছু সামলানো, সারাদিন দৌড়ের পর নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়টাও নেই। দিনশেষে আয়নায় দাড়ালে দেখবেন রুক্ষ ত্বক, চোখের নিচে কালি, যত্নহীন এলোমেলো চুল। মানে যত্ন নেই নিজের। নিজের পছন্দের শাড়ি-পোশাকগুলোও পড়ে আছে, পরার সময় নেই। কিন্তু আপনি অন্য সবার কথা ভাবতে ভাবতে নিজের দিকে তাকাচ্ছেন না, চেহারাটাকে মলিন করছেন- এটা তো ঠিক না। সময় নিয়ে মনমতো সাজগোজ করুন, মুখ-চোখের জীর্ণতা দূর করুন, সুন্দর পছন্দের পোশাকটি পরুন। যেমন সাজে নিজেকে দেখতে ভাল লাগে, তেমনটা সেজে ফেলুন। দেখবেন মন ভালো লাগছে। আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে যখন স্নিগ্ধ দেখাবে, নিজেকে অবশ্যই পরিপূর্ণ লাগবে।

দিনশেষে নিজের জন্য অল্প একটু সময় বরাদ্দ রাখলেই ত্বককে সুন্দর এবং বলিরেখা মুক্ত রাখা সম্ভব। নাহলে কাজের চাপে খুব সহজেই বুড়িয়ে যাবেন আপনি। তাই এখন থেকে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিন।

পরিবার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ

জীবনে যতকিছুই হোক, মনে রাখবেন আপনার পাশে সবসময় পরিবার রয়েছে। এজন্য কোনো অবস্থাতেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। সমস্যাগুলো তাদের কাছে শেয়ার করুন, তারা কোনোকিছু বুঝতে সমস্যা হলে ভালোভাবে বোঝান। আপনাকে নিয়ে হয়ত তাদের অনেক চিন্তা, তাদের বোঝান যে সেই চিন্তাগুলো কাটানোর সক্ষমতা আপনার রয়েছে। দেখবেন তাদের পূর্ণ সাপোর্ট আপনি পাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাবধান

হাতের মুঠোয়, চোখের সামনে সামাজিক মাধ্যম তো সবসময়েই রয়েছে। কিন্তু আপনাকে এক্ষেত্রে অনেক সাবধানে থাকতে হবে। আপনি নিজের স্বকীয়তা অবশ্যই বজায় রাখবেন। আপনাকে দুর্বল বা অবলা ভেবে কেউ যাতে সুযোগ নেওয়া, অশালীন মন্তব্য করা, কোনোরকম প্রস্তাব দেওয়ার মতো কাজগুলো করতে না পারে সেজন্য নিজেকে শক্ত করুন। মোটকথা সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে সাহসী রাখুন।

পেটপুরে খাওয়া-দাওয়া করুন

মানুষের শরীরের সবচেয়ে মৌলিক প্রয়োজন হল খাবার। অপরিকল্পিত ডায়েটে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেশি, তেমনই তা ডিপ্রেশনেরও কারণ। প্রথমত, সকালে উঠে এমন কিছু খাওয়া উচিত যা শরীরের পক্ষে ভালো। দিনের অন্যান্য খাবারগুলোর মধ্যে অন্তত একটা কমফোর্ট ফুড রাখা প্রয়োজন।

প্রতিকূলতা আসবেই, তাতে ভাঙলে চলবে কেন!

প্রতিদিনই আমাদের কিছু না কিছু অপ্রীতিকর বিষয়ের সামনে পড়তে হয়। সেটা হতে পারে অন্য সম্পর্কের টানাপোড়েন, আর্থিক সমস্যা অথবা পেশাগত টেনশন। আবার আপনি সমাজবিরুদ্ধ, নিজে স্বাধীনভাবে চললেও আপনাকে অতি প্রিয়জনেরাই কতগুলো কথা শুনিয়ে দেবে। এমনটা ঘটলে অনুভূতিপ্রবণ মানুষেরা অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে যান। সবসময় সব সমস্যার সুরাহা হয়ও না। কিন্তু নিজের মনকে যত্ন না করলে তেমন পরিস্থিতি থেকে বেরোনোও কঠিন। এই সময়গুলোয় একান্তে নিজেই নিজের কাউন্সেলিং করুন, গান শুনুন বা হেঁটে আসুন।

গান গাইতে ভালোবাসেন?

কোনো এককালে গান শিখতেন বা গানের গলাটা বেশ ভালোই লাগে গুনগুন করলে। এখনো হয়ত আর গাওয়া হয় না। মন চায় না, সময়ও নেই। কিন্তু মাঝেমাঝে গাইতেই পারেন প্রিয় কোনো গান। নিজের জন্য গান, অন্যকে শোনাতে চাইলে রেকর্ডও করে রাখতে পারেন। দেখবেন ভালো লাগছে, কেউ প্রশংসা করলে আরও ভালো লাগছে।

একটু জ্ঞান বাড়ান

যত জ্ঞানের পরিধি বাড়বে, ততই বাড়বে আত্মবিশ্বাস। তাই নিজেকে যত্ন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, বই, ম্যাগাজিন, গুগল সার্চে প্রতিদিনই কিছু না কিছু নতুন শেখা।

আর মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন দিনের মধ্যে কিছু ঘণ্টা, বিশেষ করে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এটা খুবই প্রয়োজন। এই সময়টা হয় বই পড়ুন, নয়তো গান শুনুন বা সিনেমা দেখুন।

কিছুক্ষণ হাঁটুন

কর্মজীবী নারীদের দিনের অধিকাংশ সময় কাটে চেয়ারে বসে থেকে। ফলে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। তাই প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় কিংবা ফেরার সময়ে জ্যামে বসে না থেকে কিছুক্ষণ হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে, অতিরিক্ত মেদ কমবে এবং ত্বক ভাল থাকবে। তবে রোদ থাকলে হাঁটার সময় ছাতা এবং সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ