ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

একসঙ্গে ১০ দিন, ঝগড়াঝাটি হবে না তো?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার, ০৯:০০ এএম
একসঙ্গে ১০ দিন, ঝগড়াঝাটি হবে না তো?

কর্মব্যস্ত দম্পতি। দুইজনেই হয়ত কর্মস্থলে ব্যস্ত বা একজন সারাদিন ব্যস্ত অফিসে, অন্যজন সংসার সামলাতে। আবার অফিস থেকে গন্তব্যে অর্থাৎ নিজের ঘরে ফেরা, সংসারের দিকে মনোযোগ দেওয়া। একে অন্যের সাথে মন খুলে কথা বলা, ভাবের আদান-প্রদানের ফুসরত খুবই কম। এই ধরুন ডাইনিং টেবিলে বসে সারাদিনে ঘটে যাওয়া দুই-চারটে কথা বলা, সংসারের টুকটাক খোঁজ নেওয়া, পরেরদিনের কি কি কাজকর্ম- এর বাইরে তেমন কোনো কথা নেই। আজকালকার দাম্পত্য জীবনে একজন আরেকজনকে সময় দেওয়া, সান্নিধ্যে থাকার বিষয়টি অনেকটাই কমে গেছে। কেমন একটা দূরত্বের মাঝেই সংসারজীবনে অভ্যস্ত মানুষ। আমাদের দেশের অবস্থাও এর ব্যতিক্রম নয়।

করোনাভাইরাসকে মোকাবেলার জন্যই দেশে শুরু হচ্ছে টানা ১০দিনের ছুটি। এখন টানা কয়দিন ঘরে বসে থাকা। বাইরে বের হওয়াও বারণ। কারো আবার রয়েছে হোম অফিস, মানে বাড়িতে বসেই করতে হবে অফিস। তাই কাজকর্ম, আলাপ আলোচনা সবই এখন বাড়িতে। 

যেহেতু সারাদিন দুইজন মানুষ একসঙ্গে না থেকে অভ্যস্ত, যে যার মতো স্বাধীন থাকা, কারো বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে দিব্যি দিন চলে যেতো, এখন সেখানে সারাদিন একছাদের নিচে কাটাতেই হচ্ছে। সারাক্ষণ একসঙ্গে থেকে মিল মহব্বত বাড়ার চেয়ে বিরক্তি বা ঝগড়াঝাটিও বেধে যেতে পারে। করোনার উদ্ভব যেই দেশে, সেখানেই ঘটেছে এমন ঘটনা৷ সেখানে দম্পতির বিচ্ছেদের ঘটনা পর্যন্ত ঘটে গেছে সারাদিন একসঙ্গে থাকার কারণে। হয়ত কোনো মতের মিলই হতো তাদের!

এটা অসম্ভব নয়, খুবই সম্ভব৷ হুট করে একসঙ্গে থাকলে একে অন্যের বিষয়ে নাক গলানো, ছাড়ের সুযোগ না দেওয়ার মতো কারণে বাধতে পারে বিপত্তি। এজন্য এই পরিস্থিতিতে বোঝাপড়া এবং মানিয়ে চলাটা খুব জরুরি। 

বিশ্ব, দেশ এমনিতেই এখন সংকটের মুখে। আপনার পরিবারকেও তো সবকিছু থেকে রক্ষা করতে হবে। কীভাবে এই ১০দিন দুজনে মিলেমিশে মানিয়ে চলবেন, সেটা নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা- 

একসঙ্গে থাকলে কথায় কথায় খুটখাট দ্বন্দ্ব বেধে যায়। যখন দেখবেন দ্বন্দ্ব বেড়ে যাচ্ছে তখন একজন চুপ হয়ে যান। প্রয়োজনে উঠে অন্য ঘরে বসে থাকুন। সবচেয়ে ভালো হয় তীব্রতা বুঝতে পারলে অন্য টপিকে আলোচনা ঘুরিয়ে নেওয়া। 

কেউ কাউকে দোষারোপ করার চেষ্টা করবেন না৷ সুযোগ পেয়েছি বলে সঙ্গীর দোষগুলো খুঁজে তার সাথে নতুন বিতর্কে জড়ানোর কোনো মানেই হয়না। 

অনেকদিন পর এত লম্বা ছুটি পেয়েছেন, অলস বসে থাকার কোনো মানেই নেই। অন্যসব কাজের ফাঁকে সময়গুলো দুজন বা পরিবারের সঙ্গে উপভোগের চেষ্টা করুন। 

ঘরে অনেক কাজ থাকে। সেগুলো দুইজন মিলেই ভাগ করে করুন। ঘর পরিস্কার, কাপড়গুলো ধোয়ার মতো কাজগুলো অনায়াসে ভাগ করে করা যায়। তোমার কাজকর্ম ভালো না অভিযোগ না করে যা করবেন দুইজনেই করুন। 

কোয়ালিটি টাইম কাটানোর এটা একটা ভালো সুযোগ। ঘরে বসে আনন্দে কোয়ালিটি টাইম কাটান৷ সন্তানদের সময় দিন, তাদের পড়াশোনার খোঁজ নিন দুইজনেই। নিজেরা রান্নাবান্না করুন, একসঙ্গে সিনেমা দেখুন, কোনো গেমস খেলুন।

এই সুযোগে নিজেদের ঝালাই করে দূরত্ব কমিয়ে ফেলতে পারেন। দুইজনের বিরুদ্ধে যত অভাব-অভিযোগ আছে সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করুন। 

আরেকটি বিষয় জরুরি৷ বিশ্ব এখন চরম সংকটে। এই বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর করুন। গণমাধ্যমের দিকে চোখ রাখুন, বিশ্ব এবং সামগ্রিক করোনা ভাইরাস বিষয়ে নিজেকে আপডেট রাখুন৷ ফোন করে দুজন মিলেই আত্মীয় স্বজন, প্রিয়জনদের খোঁজখবর রাখুন। 

সবশেষে দম্পতিদের উদ্দেশ্যে বলছি যে, একসঙ্গে থাকা মানেই অশান্তি, এটা মনে করে ভুলেও বিবাদে জড়াবেন না৷ নিজেরা নিজেদের বোঝার পাশাপাশি সঙ্গীকেও বুঝুন। একসঙ্গেই কঠিন সময় মোকাবেলায় ব্রতী হন, সতর্ক থাকুন, সতর্ক রাখুন। দাম্পত্যকে আরও শক্তিশালী করুন।