ঢাকা, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

মুখের উপর সমালোচনা করা কি ভালো?

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২০ সোমবার, ০৮:০০ এএম
মুখের উপর সমালোচনা করা কি ভালো?

মুখের উপর সমালোচনা করা কি খুব ভালো অভ্যাস! আমাদের অনেকেই স্পষ্টভাষী স্বভাবের দাবি করে অনেক সময় মুখের উপর সমালোচনা করে বসেন। অবশ্য এমন স্বভাবের মানুষকে যে কোন কিছুতেই সমালোচনা করতে দেখা যায়। তাদের এমন আচরণে যে কেউ যে কোন সময় বিব্রত হয়ে যায়। বিরক্তও হয়ে উঠেন কেউ কেউ। অবশ্য কেউ কেউ আছেন এসকল সমালোচনা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ এমন সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। অবশ্য আমাদের সমাজে এমন স্পষ্টভাষী লোকের সংখ্যা কম বলেই হয়তো রক্ষা। আচরণগত দিক থেকে এমন মানুষের সংখ্যা বেশি হলে বিপত্তির যেন শেষ ছিল না। তাই চলুন জেনে নেই মুখের উপর সমালোচনা করার নানা নেতিবাচক দিক সম্পর্কে।

বুঝিয়ে বলা

মনোবিজ্ঞানীদের অনেকেই বলে থাকেন, মুখের উপর সমালোচনার করার অভ্যাস খুব ভালো নয়। এটা যোগাযোগের ক্ষেত্রেও তেমন কার্যকর নয়। এর চেয়ে বরং বুঝিয়ে বলা ভালো। সামনাসামনি এভাবে মুখের উপর না বলে বুঝিয়ে বলা উচিত। বুঝিয়ে বললে হয়তো আচরণগত একটা শুদ্ধি আসতে পারে। কিন্তু মুখের উপর সমালোচনা করলে অনেক ক্ষেত্রেই উক্ত ব্যক্তি কষ্ট পান। আর সহজে পরিবর্তিত হতে চান না।

নেতিবাচক প্রভাব

মুখের উপর সমালোচনা করার কারণে অনেক সময় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বর্তমান সময়ে অনেক সময় সম্পর্কে টানা পোড়েন শুরু হয়ে যায় এমন আচরণের কারণে। বলার সময় হয়তো সরল মনে কেউ এমন সমালোচনা করে থাকতে পারে। কিন্তু প্রত্যেকটা মানুষ সমাজে একটা আত্মসম্মান নিয়ে বেড়ে উঠে। আর এভাবে বলার কারণে অনেক সময় উক্ত ব্যক্তির আত্মসম্মানে লাগে। তখন বিষয়টি একটু জটিল হয়ে যায়।

ব্যক্তিত্ব খাট হওয়া

সবচেয়ে বড় বিষয় হল মুখের উপর সমালোচনাকারী ব্যক্তিদের সবাই আলাদা করে চিহ্নিত করে রাখে। সবাই খুব ভেবে চিন্তে তার সাথে কথা বলে। আর যদি পারে তাহলে তো এক রকম এক ঘরেই করে দেয়। ফলে আচরণে এমন স্বভাবের জন্য আপনাকে বেশ ভুগতে হবে। এতে করে আপনার ব্যক্তিত্ব অন্যের কাছে খাট হয়ে যাবে। আপনার আত্মসম্মানবোধও এতে করে কমে যাবে।

সম্পর্কে অবনতি

মুখের উপর সমালোচনা করার স্বভাবকে আপনি ঠোঁটকাঁটা বা স্পষ্টভাষী যাই বলুন না কেন? এমন স্বভাব পছন্দ করে না কেউ। আর এতে করে আত্মীয়-স্বজন কিংবা বাইরের সম্পর্ক থেকে শুরু করে নিজ পরিবারেও এমন স্বভাবের চর্চা কেউ মেনে নেয় না। শিক্ষার সাথে সাথে মানুষের মধ্যে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ গড়ে উঠে। সেইসাথে আত্ম সম্মানবোধ। ফলে নিজের অনেক বিষয়েই এখন অন্য কেউ কথা বলুক, তা কেউই মেনে নিতে পারে না। মেনে নেয় না। আবার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিও এখানে একটি বড় বিষয়। আর তাই এমন স্বভাব থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।