ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বন্যাকালীন সময়ে যত করণীয়

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২০ রবিবার, ১০:০১ এএম
বন্যাকালীন সময়ে যত করণীয়

দেশের বেশিরভাগ এলাকাই এখন বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু এলাকায় পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা। দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় পানি বন্দী হয়ে পড়েছে মানুষ। নদী-নালা, খাল-বিল ছাপিয়ে বর্ষার পানি তলিয়ে দিয়েছে বসতবাড়ি, জমি-জমা, জনপদ। পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় বেশ কয়েকটি জেলায় দুর্ভোগ বাড়ছে। ফলে প্লাবিত অঞ্চলের মানুষকে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হয়। তাই চলুন জেনে নেই বন্যাকালীন সময়ে বেশ কিছু করণীয় কাজ সম্পর্কে।

উঁচু ও নিরাপদ আশ্রয়

আগে থেকেই বাড়ির ভিটা, নলকূপ, টয়লেট যত দূর সম্ভব উঁচু করতে হবে। এক্ষেত্রে অতীতের বন্যার পানির উচ্চতার মাত্রা মনে রাখতে হবে। শস্য ও বীজ সংরক্ষণের জন্য নিরাপদ স্থানে মাচা তৈরি করতে হবে। গৃহপালিত পশু নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে বন্যা পরিস্থিতিতে অবশ্যই নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে। পার্শ্ববর্তী দ্বিতল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাময়িক আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে।

শুকনো খাবার

শুকনো খাবার বিশেষ করে মুড়ি, চিড়া, গুড়, চিনি সংরক্ষণ করতে হবে। বিশুদ্ধ খাবার পানি সংরক্ষণের জন্য চৌবাচ্চার ব্যবস্থা করতে হবে। সহজে বহনযোগ্য চুলা ও রান্না করার জন্য শুকনো জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হবে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের ওষুধ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে।

দরকারি জিনিসপত্র

বৃদ্ধ, শিশু, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীর ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিশেষ করে টাকা-পয়সা, জমির দলিল, শিক্ষা সনদ নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। বন্যার দূষিত পানি পান করা যাবে না। পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করে পানি পান করতে হবে। বন্যার পানিতে গোসল করা, জামা-কাপড় ধোয়া যাবে না। বন্যা শেষে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ি মেরামত করতে হবে। বাড়ির আঙিনা থেকে ময়লা-আর্বজনা পরিষ্কার করতে হবে। পয়ঃনিষ্কাশন প্রণালি মেরামত করতে হবে।

ঘুরে দাঁড়ানো

বন্যার পরে কৃষিকাজকে ত্বরান্বিত করতে হবে। সেজন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া যেতে পারে। জীবিকা নির্বাহ করার জন্য দ্রুত কাজের অনুসন্ধান করতে হবে। ত্রাণ বিতরণ, সামাজিক ও আর্থ-সামাজিক প্রতিষ্ঠান মেরামত, বিভিন্ন অবকাঠামো পুনরায় নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বন্যাদুর্গত অঞ্চলে অপরাধকর্ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় সরকার, উপজেলা প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।