ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ব্যক্তিগত ঋণের যত বিড়ম্বনা

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ০৯ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৯:০১ এএম
ব্যক্তিগত ঋণের যত বিড়ম্বনা

ধার দেনা কিংবা ঋণের সাথে কম বেশি আমরা সবাই পরিচিত। ব্যক্তিগত জীবনে আমরা অনেকেই নানা প্রয়োজনে ঋণ করে থাকি। ঋণের সঠিক ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহার করে অনেকে যেমন ধনী হয়েছেন। তেমনি শুধু ঋণের কারণেই হাজার হাজার মানুষ পথে বসেছে। বাজার অর্থনীতিতে ঋণ খুবই পরিচিত ও জনপ্রিয় শব্দ। ব্যক্তি পর্যায়ে ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সবাই যেন ঋণের বেড়াজালে আবদ্ধ। ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। তবে একে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে। ভালো ফলদায়কও হতে পারে। ধরুন ক্রেডিট কার্ডের কথা। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাস অনুযায়ী বাংলাদেশে ১২ লাখেরও বেশি ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক ছিলেন। এখন তা আরও বেড়েছে। ক্রেডিট কার্ড প্রথমে বেশ কিছুটা স্বস্তি হয়তো মানুষকে দেয়; কারণ, ক্রেডিট কার্ড হাতে থাকলে বাজার করতে খুব ভালো লাগে, খরচ বাড়ানো যায়, ঋণে অংশগ্রহণ করে ভোগ বাড়ানো যায়। কিন্তু পরিশোধ করার সময় প্রত্যেক কার্ড ব্যবহারকারির খুব কষ্ট হয়। সেইসাথে ঋণের রয়েছে নানা রকম বিড়ম্বনা।
সম্পর্ক নষ্ট
বর্তমান সময়ে সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার অনেক বড় একটি কারণ হল অর্থ। একটা সময় ছিল যখন পাড়া প্রতিবেশী কিংবা পরিচিতজনদের কাছ থেকে ধার দেনার একটি রীতি প্রচলিত ছিল। কিন্তু এখন এই রকম রীতি অনেকটাই উঠে গেছে। এখন কেউ সহজে ধার করতেও চায় না। আবার ধার দিতেও চায় না। কারণ এতে করে অনেক সময় সম্পর্কে অবনতি ঘটে। কারণ ঠিক সময়ে টাকা ফেরত দিতে না পারলে একটা সময় দূরত্ব তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই রকম ঘটনায় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। টাই অনেকেই পরিচিতজনদের অর্থ সহায়তা করতে নিষেধ করে থাকেন।
সম্মানহানি
ঋণের কারণে অনেক সময় সম্মানহানি হয়। কারণ মানুষ সাধারণত বিপদে পড়ে টাকা পয়সা ধার কিংবা ঋণ করে থাকে। এবং সবকিছুই একটা নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে পরিশোধ করা লাগে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, অনেকেই সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন। এতে করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। এবং সম্মানহানি ঘটে। আমাদের দেশে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের সাথে জড়িত অনেকেই এই রকম পরিস্থিতির শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ব্যাংক ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ আদায় করে থাকে। তাছাড়া তাদের রয়েছে নানা ধরনের লুক্কায়িত চার্জ। সত্যি কথা বলতে, কেউ একবার এই ঋণের চক্রে পড়লে নিজেকে সহজে মুক্ত করতে পারেন না।
পারিবারিক অশান্তি
ঋণের কারণে অনেক সময় পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়। কারণ আর্থিক দুশ্চিন্তার প্রভাব একটা সময় পরিবারের সকল সদস্যদের উপর পড়তে শুরু করে। এতে করে পরিবারের শিশু সদস্যদের মানসিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্ত হয়। সেইসাথে মানসিক অস্থিরতা ও উত্তেজনা কাজ করে। ফলে অনেক সময় ঋণের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে পারিবারিক অশান্তি তৈরি হয়।
ব্যক্তিগতভাবে পিছিয়ে দেওয়া
ঋণ মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে পিছিয়ে দেয়। এতে করে কেউ সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। সবসময় পিছনের দিকে টানে। প্রত্যেকটা মানুষের জিবনেই একটা লক্ষ্য থাকে। প্রতি বৎসরে ধাপে ধাপে সে এগিয়ে যাবে। কিন্তু ঋণ সামনে এগিয়ে যেতে দেয় না।