ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গ্রামে মানিয়ে নেবেন যেভাবে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২০ সোমবার, ০৮:৫৯ এএম
গ্রামে মানিয়ে নেবেন যেভাবে

দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর, লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর, হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী, দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি, গ্লানিহীন দিনগুলি, সেই সন্ধ্যাস্নান… সভ্যতার প্রতি কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এভাবেই গ্রামের বন্দনা করেছেন। গ্রামে ফিরে যেতে চেয়েছেন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে পাল্টে যাচ্ছে জীবন জীবিকা। শহুরে অর্থনীতি যেন ক্রমেই মুখ থুবড়ে পড়ছে। আর সেইসাথে ক্রমেই চাপ বাড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। সম্প্রতি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্রাকের করা গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটির করা গবেষণায় বলা হয়, ৫৫ হাজার পরিবার ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা ছেড়েছে। গবেষণাটি করোনা সংক্রমণের শুরুর দিককার উপাত্ত নিয়ে করা। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এখনো অনেকে ঢাকা ছাড়ছেন। ইট পাথরের এই নগরীর বেশিরভাগ বাসা-ই এখন ফাঁকা। ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বাসা ভাড়াও কমেছে বলে জানা যাচ্ছে। সবাই ফিরে যাচ্ছে গ্রামে। নাড়ীর টান তো আছেই। সেই সাথে রয়েছে জীবন, জীবিকা ও বেঁচে থাকার গল্প। কোন রকম পরিকল্পনা ছাড়াই তো সবাই গ্রামে ফিরছে। ফেরার সাথে সাথে একটু পরিকল্পনা করুন। আর পাল্টে দিন গ্রামকে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে। নিজেকে মানিয়ে নিন গ্রামীণ পরিবেশে।

টেকসই পরিকল্পনা

পড়াশোনা শেষে একটা সময় সবাই গ্রাম ছেড়ে দেয়। শৈশবে গ্রাম নিয়ে অনেকেরই অনেক রকম পরিকল্পনা থাকে। গ্রামীণ সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা থাকে। গ্রাম নিয়ে ভাবে। কিন্তু গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে, গ্রাম নিয়ে সকল ভাবনাই যেন চাপা পড়ে যায়। তাই নতুন করে গ্রাম নিয়ে ভাবুন। গ্রাম নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা করুন। নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহ দিন। সেইসাথে গ্রামে কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নিবেন এই বিষয়ে ভাবুন। গ্রামীণ জীবনযাত্রায় খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করুন। 

প্রাকৃতিক পরিবেশ

শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেলে মানিয়ে নিতে শুরুতে মানিয়ে নিতে একটু কষ্ট হবে। কারণ শহরের নাগরিক এই জীবনযাত্রার অনেক কিছুই গ্রামে পাবেন না। কিন্তু গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ, নির্মল বাতাস, সূর্যাস্ত কিংবা সূর্যোদয় এসব কিন্তু শহরে নেই। সেইসাথে দূষণমুক্ত প্রকৃতি। তাই গ্রামীণ পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করুন। চলছে বর্ষাকাল। টিনের চালায় বৃষ্টির ঝুমঝুম শব্দ উপভোগ করুন।

শিক্ষা চাহিদা

শহরে বাচ্চাদের ভালো স্কুল কলেজে পড়াশোনা করিয়েছেন। কিন্তু গ্রামে শহরের মতো এই রকম শিক্ষা সুবিধা হয়তো পাবেন না। তাই বিচলিত হওয়া দরকার নেই। ভেঙে পড়ার দরকার নেই। নিজেই পড়াতে শুরু করেন নিজের সন্তানকে। শহরে কাজের ব্যস্ততায় বাচ্চাকে নিজে সময় দিতে পারেননি। এখন তো আর এতো ব্যস্ততা নেই। তাই নিজেই পড়াশোনার কিছুটা দায়িত্ব নিন। সেইসাথে আশেপাশে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন।    

মানিয়ে নেওয়া

শহর আর গ্রামে একটা পার্থক্য আছে। অনেক সময় বলা হয়ে থাকে, ঈশ্বর তৈরি করেছেন গ্রাম, আর মানুষ বানিয়েছে শহর। ফলে পার্থক্য তো কিছু থাকেই। তাই সুযোগ-সুবিধা কিংবা অভাব-অভিযোগ ইত্যাদি বিষয়ে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করুন। এতে করে গ্রামে থাকতে সহজ হবে। না হয় খুব সহজেই ভেঙে পড়বেন। আবার হয়তো শহরে ফিরে আসতে ইচ্ছে করবে। তাই পরিকল্পনা করে খুব সুন্দরভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করার চেষ্টা করেন। আর এতে করেই পাল্টে যাবে গ্রাম। পাল্টে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতি।