ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যেভাবে বাড়াতে পারেন মানসিক শক্তি

মোস্তাকিম ভুঞা
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২০ বুধবার, ১১:০১ এএম
যেভাবে বাড়াতে পারেন মানসিক শক্তি

সারা বিশ্বজুড়ে চলছে প্রাণঘাতী করোনা সংক্রমণ। মরণব্যাধী এই ভাইরাসটি আমাদের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে নানা বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের কারণে অনেকেই এখন মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে। কেউ হারিয়েছে প্রিয়জন, কেউ হারিয়েছে নিজের জীবিকা। সেইসাথে আমরা অনেকে হারিয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কেউ চাইলেই এখন আর আগের মতো করে ভাবতে পারছে না। সবাই একটা অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে সময় পার করছে। কিন্তু এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমন পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরাও। এই সময়ে মাথা আরও বেশি করে ঠাণ্ডা রাখা দরকার। তাই চলুন জেনে নেই মানসিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়ে।


চিন্তার বিকেন্দ্রীকরণ


মানসিক শক্তি কিংবা উদ্যম নিয়ে কাজ করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল মাইন্ড ডাইভারশন বা চিন্তার বিকেন্দ্রীকরণ। আমরা অনেকেই নানান রকম দুশ্চিন্তা করি। আর এতে করে অনেক সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। এমন পরিস্থিতিতে মনে সাহস কাজ করে না। মনোবিজ্ঞানীরা এমন ক্ষেত্রে মাইন্ড ডাইভারশন বা চিন্তা বিকেন্দ্রীকরণ করতে বলে। বিষয়টা এই রকম যে কোন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা কাজ করলে। আপনি ওই বিষয়টাকে এড়িয়ে চলুন। সেইসাথে এমন দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আপনার পছন্দের সব কাজ করতে পারেন।    

 
বাইরে ঘুরে আসুন


প্রতিদিন একই কাজ করতে করতে আমাদের মধ্যে আলস্য ভর করে। নিজেই আলস্য কাটানোর উপায় তৈরি করতে পারেন। যে পথ ধরে প্রতিদিন বাজারে যান। এখন থেকে অন্য পথে যাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। লিফটের বদলে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে চলার নতুন অভ্যাস করুন। করোনার এই সময়ে চাইলেও তো বেশি দূরে ঘুরতে যেতে পারছেন না। তাই আশেপাশে কোথাও ঘুরে আসুন। কিংবা বাড়ির বাইরে গিয়ে খোলা হাওয়া খেয়ে আসুন। একই রকম জীবনযাপন করতে করতে জীবনটাকে একঘেয়ে বানিয়ে ফেলবেন না। জীবনে বৈচিত্র্যময়তা আনুন। সেইসাথে নিজের ভালো লাগা কাজগুলো করুন।  


নিজেকে সময় দিন


ব্যস্ততা ভেতরেও নিজের জন্য একটু সময় রাখুন। নিজেকে নিয়ে ভাবুন। নিজের ভাল স্মৃতিগুলো স্মরণ করুন। সামাজিক জীব হতে গিয়ে অনেক সময় আমরা নিজেকে সময় দিতে পারি না। নিজের স্বত্তা, স্বকীয়তা, নিজস্বতা খুঁজে বের করুন। আপনার কি ভালো লাগে, মন্দ লাগে তা বের করুন। শৈশবে অনেক স্বপ্ন ছিল। জীবনে অনেক কিছু করতে চেয়েছিলেন। ওইসব মনে করতে চেষ্টা করুন। স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে থাকুন। এতে করে নিজেকে খুঁজে পাবেন। খুঁজে পাবেন জীবনে বেঁচে থাকার অর্থ।


বৃত্তের বাইরে


আমরা সবসময় পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা দ্বারা প্রভাবিত হই। ফলে অনেক সময় নিজের ইচ্ছেকে বিসর্জন দেই। নিজের ভালোলাগাকে এড়িয়ে চলি। কিংবা সমাজ বা সামাজিকতার ভয়ে অনেক সময় চাইলেও অনেক কাজ করতে পারি না। বিষয়টা এই রকম নয় যে, সমাজ বাঁধা দিচ্ছে। কিংবা বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবুও অজানা লুকায়িত এক সংকোচ। আর এতে করেই আটকা পড়ে যাই। চিন্তা শক্তির সাধারণী করণ হয়ে যায়। আর এভাবে অনেক সময় হারিয়ে যাই আপনি বা আমি। তাই এই বিষয়গুলোকে এড়িয়ে চলতে শিখুন। নিজের মতো করে বাঁচতে শিখুন। দেখবেন একটা সময় আপনি সকলের অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন। আপনি হয়ে উঠেছেন অসংখ্য মানুষের মানসিক শক্তি। হয়ে উঠেছেন অসংখ্য মানুষের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।