ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তরুণরা হতাশ কেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২০ সোমবার, ০৮:০১ এএম
তরুণরা হতাশ কেন?

সকল সূচকেই বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় দেশ বলা হয়ে থাকে। সত্যিকার অর্থেই যেন সম্ভাবনার কোন শেষ নেই। কিন্তু এমন সম্ভাবনার পেছনে মূল শক্তি হল তারুণ্য। আমাদের দেশের তরুণেরাই হল মূল চালিকাশক্তি। তাদের নিয়েই স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশে তরুণেরা নানা কারণে হতাশ। তাদের হতাশার যেন কোন অন্ত নেই। কেউ হতাশ দেশ ও জাতি নিয়ে। কেউ হতাশ নিজের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। আর বেশিরভাগই হতাশ নিজের জীবিকা নিয়ে। আর এই হতাশার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে অনুকরণীয় বা অনুসরণ করার মতো কেউ না থাকা।

জীবন ও জীবিকা

যে কোন দেশের জন্যই তরুণ জনগোষ্ঠী অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোন দেশ ও জাতি গড়ে তোলার মূল হাতিয়ার হল তরুণরা। বাংলাদেশেও তরুণ জনসংখ্যার হার অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেন হতাশায় নিমজ্জিত। জীবন ও জীবিকার চিন্তায়ই যেন তারা বিভোর। উচ্চ শিক্ষা শেষেও বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারছে না বেশিরভাগ তরুণ। বেকারত্বের গ্লানি নিয়ে পরিবার ও সমাজের বোঝা হয়ে বাস করছে তারা। এতে করে তরুণদের বেকারত্বের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মূল অর্থনীতিতে ও ভূখণ্ডে। এভাবেই বেকারত্বের অভিশাপ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্মকে।

রোল মডেল নেই

আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন কোন রোল মডেল নেই। কোন ক্ষেত্রেই যেন অনুসরণ করার মতো কেউ নেই। যাতে করে তরুণরা আদর্শ হিসেবে নিয়ে অনুসরণ করতে পারে। দেশ ও জাতির সেবা করতে পারে। শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি কিংবা উদ্যোক্তা সকল ক্ষেত্রেই এমন শূন্যতা দেখা যাচ্ছে। সেইসাথে চলমান শুদ্ধি অভিযানে উঠে আসা নানা কেলেঙ্কারি যেন আরও হতাশ করেছে তাদের। ফলে নেতিবাচকায় মুষড়ে পড়ছে তারা। যে কোন দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য রোল মডেল না থাকাটা একটা শূন্যতা। এতে করে একটা প্রজন্ম পিছিয়ে পড়ে।

মানসিক বিপর্যয়

মানসিক বিকাশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষের শরীরকে বলা হয় হার্ডওয়্যার। আর মন হল সফটওয়্যার। যে কোন যন্ত্রের পরিচালনের জন্য এই দুইটা জিনিসই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, মানুষের ক্ষেত্রেও মানসিক বিকাশ অত্যন্ত দরকারি একটি বিষয়। করোনাকালীন এই সময়ে জীবন জীবিকাসহ নানা কারণে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আর এতে করেই তাদের ভেতরে জীবন সম্পর্কে হতাশা অনেক বাড়ছে।
 
সামাজিক সংকোচ

তরুণদের হতাশার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী সামাজিক সংকোচ। এই বিষয়ে বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়। তারা জানান, সামাজিক সংকোচ তরুণদের পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় একটি কারণ। পড়াশোনা শেষ করে চাইলেই কেউ নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করতে পারছে না। এখানে সমাজকে প্রতিবন্ধকতা মনে করেন তারা। পড়াশোনা শেষ করে অনেক বড় অফিসার হতে হবে। আর তা না হতে পারলেই যেন জীবন শেষ। সমাজই আমাদের মধ্যে এই রকম ধারণা তৈরি করে দিচ্ছে। আর এতে করে চাইলেই ছোটখাট ব্যবসা বা কাজ শুরু করা যায় না। সেইসাথে সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া কোন মা বাবাই যেন তার মেয়েকে বিয়ে দিবে না। এই রকম একটা ধারণা সমাজে বদ্ধমূল হয়ে বসে আছে। আর সবকিছু মিলিয়েই তরুণরা তাই হতাশ।