ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তরুণদের পর্নোগ্রাফি আসক্তি বাড়ছে যে কারণে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২০ সোমবার, ০৯:০৩ এএম
তরুণদের পর্নোগ্রাফি আসক্তি বাড়ছে যে কারণে

পর্ন বা পর্নোগ্রাফি শব্দটা শুনলেই একটা সময় তরুণরা আড়ষ্ট হয়ে যেত। সেইসাথে লজ্জাও পেত। কিন্তু এখন পর্নোগ্রাফি যেন তেমন কিছু নয়। আগেরকার সেই আড়ষ্টতা নেই। নেই সহজাত সেই লজ্জাও। গবেষণা থেকে জানা যায়, ঢাকার স্কুল পড়ুয়াদের প্রায় ৭৭ ভাগ পর্নোগ্রাফি দেখে। জরিপ কাজটি অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে করা হয়। তাতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পর্নোগ্রাফি ছবি, ভিডিও, অডিও এবং টেক্সট আকারে ব্যবহার করে। এই শিক্ষার্থীরা প্রধানত মোবাইল ফোনে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি দেখে। এর বাইরে ট্যাব, ল্যাপটপেও তারা দেখে। আবার পেনড্রাইভ ব্যবহার করে বিনিময়ও করে। বিশেষজ্ঞরা নানা কারণে তরুণদের পর্নো গ্রাফিতে আসক্তি বাড়ছে বলে জানান।

নৈতিক শিক্ষা

সমাজ ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে সামাজিক মূল্যবোধ উঠে যাচ্ছে। একটা সময় পাড়া মহল্লায় মুরুব্বিদের সম্মান করা হতো, শ্রদ্ধা করা হতো। কিন্তু এখন এসবের বালাইও নেই। সেইসাথে পরিবারেও ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা ছিল। শাসন ছিল। কিন্তু এখন আর আগের মতো নেই। সবকিছুই যেন উঠে যাচ্ছে। নৈতিক শিক্ষা  আর এতে করেই তরুণদের পর্নোগ্রাফিতে আসক্তি বাড়ছে বলে জানা যায়।

বিনোদনের অভাব

বর্তমান সময়ে বিনোদনের অনেক মাধ্যম তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেইসাথে হারিয়ে গেছে সুস্থ বিনোদন। আর এতে করেই তরুণদের মধ্যে এই ধরণের প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন সামাজিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে একটা সময় খেলাধুলার জন্য মাঠ ছিল। তরুণদের খেলাধুলার পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। কিন্তু এখন আর মাঠ চোখে পড়ে না। এতে করে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগে পরিবারের সবাই মিলে টেলিভিশন দেখার একটা বিষয় ছিল। কিন্তু সুস্থ বিনোদন দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে।

সহজলভ্য প্রাপ্তি

জানা যায়, শুধু তরুণরা নয় সব বয়সের মানুষই পর্নোগ্রাফি দেখে। আর পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এর ব্যবহারকারী বা গ্রাহক বাড়িয়ে দিচ্ছে। পর্ণোগ্রাফির সরবরাহ বন্ধ না করলে এর ব্যবহার কমানো কঠিন বলে মনে করেন অনেকে। তারা বলেন, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন এবং ব্যবহার দু`টোই নিষিদ্ধ করা দরকার। পর্নোগ্রাফিতে যারা আসক্ত হয়ে পড়েন, তারা বিকৃত জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। এটা নিজেদের ক্ষতির দিক হলেও শিকার হন নারী ও শিশুরা। অনেকেই পর্নোগ্রাফির সহজলভ্য প্রাপ্তিকে তরুণদের আসক্তির বড় কারণ হিসেবে দেখছে।

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন

তথ্য ও প্রযুক্তির এই যুগে আমরা প্রতিনিয়ত সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মধ্যে বাস করি। বাঙালি সংস্কৃতি এখন খুব একটা চোখে পড়ে না। আমাদের গণমাধ্যমগুলোও প্রতি নিয়ত আধুনিকতার নামে ভিন্ন সংস্কৃতির চর্চা করছে। ফলে অনেক সময় তারা এর ক্ষতিকর প্রভাব বুঝতে পারছে না। অসুস্থ বিনোদন ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন তরুণদের পর্নোগ্রাফিতে আসক্তির অনেক বড় কারণ। যে কোন দেশের জন্যই সুস্থ সংস্কৃতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এক্ষেত্রে অনেক বড় একটি বাঁধা।

অজানা কৌতূহল

অজানা জিনিসের প্রতি শিশুদের কৌতূহল নতুন নয়। আমরা মানুষেরা সব সময় অজানাকে জানার জন্য ছুটছি। প্রতিনিয়ত ছুটছি। তরুণরাও বয়সের কারণে একটা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ভিতর দিয়ে যায়। ফলে পর্নোগ্রাফির প্রতি তাদের একটি অজানা আকর্ষণ কাজ করে। ফলে একসময় এতে আসক্তি হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা এই বিষয়ে পরিবারকে সতর্ক থাকতে বলে।