ঢাকা, রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দিন শেষে লড়াইটা একার

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ রবিবার, ০৯:১৪ এএম
দিন শেষে লড়াইটা একার

মানুষ সামাজিক জীব- গ্রীক দার্শনিক এরিস্টটলের এই উক্তি অনেকটা প্রবাদের মতো হয়ে গেছে। আমরাও দিনে দিনে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার ভেতরে ঢুকে পড়েছি। সমাজের সাথে মিশে সামাজিক হয়েছি, হচ্ছি। আর এতে করে নানা কাজে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। প্রবাদে আছে- জীবনটা পুস্প শয্যা নয়। ফলে, জীবন যুদ্ধে অনেক জায়গায় বারবার থমকে যেতে হয়। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শিখতে হয়, লড়াই করে যেতে হয়। আর এভাবেই আসে জীবনের কাঙ্ক্ষিত সফলতা। তাই সফলদের অনেকেই মনে করেন, জীবন যুদ্ধে লড়াইটা আসলে একার। বাস্তব এই জীবনে দিন শেষে সবাই একা।

আত্মবিশ্বাসী হওয়া

জীবনে চলার পথে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সবচেয়ে জরুরী আত্মবিশ্বাসী হওয়া। কারণ আত্মবিশ্বাস না থাকলে জীবনের কোন লক্ষ্য অর্জন করাই সম্ভব হয় না। আত্মবিশ্বাস হীন মানুষ হয়ে উঠে নির্জীব ও হতাশাগ্রস্ত। এই ধরণের মানুষ কোন কাজেই সাহস করে উঠতে পারে না। জীবনে যাদের যত বেশি সফলতা, তারা তত বেশি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাই জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার যেতে, লক্ষ্যে পৌঁছাতে আত্মবিশ্বাসী হওয়া খুব জরুরী।

লেগে থাকা

আমাদের অনেকেই কিছুদিন পর পর নব উদ্যমে নতুন নতুন কাজ শুরু করে। এই ধরণের মানুষের একটি গুরুতর সমস্যা হল, তারা শুরুতে অনেক উদ্যম ও মনোবল নিয়ে শুরু করে। কিন্তু কাজ সমাপ্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা আর সেই উদ্যম ধরে রাখতে পারে না। মাঝপথে বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই কাজ ছেড়ে দেয়। এতে করে তারা যেমন সফলতার মুখ দেখতে পারে না। তেমনি খুব অল্পতেই জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পরে। কিন্তু বিখ্যাত মানুষের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা প্রত্যেকেই কোন উদ্যোগে একাগ্র চিত্তে লেগে থাকার পরামর্শ দেন। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট থেকে শুরু করে এপিজে আবুল কালাম আজাদ প্রত্যেকেই কোন কাজে লেগে থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, ব্যর্থতার ভেতর দিয়েই একদিন কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসবে। তাই একাগ্র চিত্তে লেগে থাকা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

পাত্তা না দেওয়া

সমাজে নিন্দুকের কোন অভাব নেই। আর বাঙালির পরচর্চা, পরনিন্দার স্বভাবও দীর্ঘদিনের। তাই কোন কাজ করতে গিয়ে সমাজের ইতিবাচক সাড়া পাবেন- এ রকম নাও হতে পারে। সমাজের কেউ না কেউ সবসময়ই আপনাকে কটূক্তি করবে বা হতাশ করে দিবে। এ সমস্ত নেতিবাচক মন্তব্যকে পাত্তা দিলে চলবে না। ইতিহাসে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আজ পর্যন্ত যারাই বিখ্যাত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই শুরুর দিকে সামাজিক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন। এমনটা ঘটেছে ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ নবীর ক্ষেত্রেও। তাই যখনই সামাজিকভাবে নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হবেন। ধরেই নিতে পারেন যে, আপনি হয়তো কাজের কাজ কিছু একটা করতে চলেছেন। তাই জীবনে চলার পথে এই সমস্ত বিষয়কে পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে চলুন। এমনকি সেই পথ চলা যদি স্রোতের বিপরীতেও হয়।