ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মাস শেষের দিনগুলোর গল্প

মাহাবুব মোরশেদ রিফাত
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ রবিবার, ১০:০৩ এএম
মাস শেষের দিনগুলোর গল্প

মাসুম একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বেশ ভালো বেতনের চাকরি করে সে। ব্যাচেলর জীবনে অফিস শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েই কেটে যায় বেশ। তবে মাসের শেষ কয়েকটা দিন আড্ডা বেশ এড়িয়ে চলেন মাসুম। কারণ প্রায় প্রতিমাসেই শেষের দিকে গড়ের মাঠ হয়ে বসে থাকে মাসুমের পকেট। প্রায় সব মাসেই একটা পণ করে মাসুম যে আগামী মাসে যেন এমন অবস্তা না হয় কিন্তু গল্প আর পাল্টায় না মাসুমের।

মধ্যবিত্ত কর্মজীবীদের মাসের শেষ কয়েকটা দিন যেন আতঙ্ক। নির্দিষ্ট পরিমাণ বেতন দিয়ে মাস শুরু করার পর মাসের শেষদিকে এসে যেন দিনগুলো আর শেষ হতেই চায় না। উচ্চ বেতনধারী লোকেরাও একই ধরণের সমস্যায় পড়তে পারেন।
চাকরিজীবীদের অনেকেই মাসের শুরুতে বেতন হাতে পেয়েই কোনো ধরণের পরিকল্পনা ছাড়াই খরচ করতে শুরু করেন, ফলস্বরূপ মাসের শেষ দিনগুলোতে ভুগতে হয় বেশ। সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই এই সমস্যা থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মাসের শুরুতে বেতন পাবার পরেই প্রতি সপ্তাহের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি পরিকল্পনা করুন। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে আপনার এ সপ্তাহের প্রয়োজনীয়তা একটি তালিকা তৈরী করে ফেলতে পারেন। সেটা হতে পারে আপনার কাচা বাজার, আপনার ওষুধ, আপনার আনুষঙ্গিক খরচ ইত্যাদি। বেতন পাবার সাথে সাথেই সপ্তাহের পরিকল্পনার সাথে মিলিয়ে নিয়ে টাকাগুলো ভাগ করে ফেলতে পারেন। সপ্তাহ শেষে দেখা যাবে সঠিক পরিকল্পনার কারণে কিছু টাকা আপনার হাতে থেকে যাবে যা মাসশেষের দিনগুলোতে আপনার সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

আমাদের অনেকেরই আজকাল অফিস শেষে ফেরার পথে সুপারশপে ঢু মারা অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। দেখা যায় প্রয়োজনীয় জিনিসের পাশাপাশি অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয়ে যাচ্ছে, ফলে মাসের শেষভাবে এই ছোট ছোট খরচই বাড়তি চাপে ফেলে দিচ্ছে। তাই এই অভ্যাসটিও পরিবর্তন করা জরুরী।

বাসায় একটি আলাদা জায়গায় ছোটবেলার মতো মাটির ব্যাংক রাখা যেতে পারে। প্রতিদিন বাইরে থেকে ফেরার পড়ে খুচরা পয়সা পকেটেই না রেখে ফেলে দিন সেই ব্যাংকে, এতে খুব ধীরে ধীরে জমতে থাকা টাকাটাই মাস শেষে আপনার কাজে লেগে যেতে পারে।

শহুরে জীবনে নতুন নতুন রেস্টুরেন্ট হচ্ছে প্রতিদিন। তাদের অসাধারণ সব মার্কেটিং মাস শেষে ফাঁকা পকেটের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাওয়া ঘন ঘন রেস্টুরেন্ট ভ্রমণ অভ্যাস কমিয়ে আনলে মাস শেষে পকেটে টাকা কিছুটা হলেও বেঁচে থাকবে।

কিভাবে খরচ হচ্ছে এটা লিখে রাখার অভ্যাসটাও দিনশেষে খুব উপকারী হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রথমদিনে ব্যাপারটা অভ্যস্ততা না থাকায় ইচ্ছা হবে না। কিন্তু নিয়মিত এই কাজটি করে যেতে পারলে পরের মাসে আপনি আপনার অতিরিক্ত খরচের জায়গাগুলো বের করতে পারবেন। ঐ খরচগুলো নিয়ে একটু সাবধান হয়ে গেলেই এই ছোট খাতাটি হয়ে যাবে মাস শেষে পকেটে টাকা থেকে যাবার সিক্রেট অস্ত্র।

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে না পারলে নিয়ন্ত্রনে রাখার মাধ্যমেও মাসের শেষভাগে পকেটে টাকা বেঁচে যাওয়ার কারণ হিসাবে দাঁড়াতে পারে। সেইসাথে কফিশপে চা বা কফির অভ্যাসকে নিয়মিত অভ্যাস থেকে কমিয়ে আনতে পারলেও মাস শেষে পকেটে টাকা থেকে যাবার উপকারী উপায়ে পরিণত হতে পারে।

তবে দিনশেষে এসব কিছুই নির্ভর করবে লক্ষ্য স্থির করা এবং ইচ্ছাশক্তির উপরে। চলুন এই মাস থেকেই শুরু করি মাস শেষের দিনগুলোর গল্প বদলে দেবার। আগামী মাসেই নাহয় বদলে যাওয়া গল্পের হিরো হিসাবে মাসের শেষে কোনো রেস্টুরেন্টে নিজেই নিজেকে ট্রিট দিয়ে দিলেন।