ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যৌন দুর্বলতাঃ গন্তব্য যখন শনির আখড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২০ বুধবার, ১১:০০ পিএম
যৌন দুর্বলতাঃ গন্তব্য যখন শনির আখড়া

 

কষা, খিচা, গ্যাস্ট্রিক, বাত বিষ, পেট বিষ, মাথা বিষ, দাত বিষ, পেটের গণ্ডগোল, হজম কম লিভার নষ্ট, পায়ের তালু জ্বলে, মাথায় চক্কর মারে, এক বেলা খেলে অপর বেলা খেতে পারেন না, রাতে আদরের শিশু ঘুম থেকে চিক্কুর মাইরা উঠে, রাতে ঘুমাতে পারেন না খাউজানি, চুলকানি, প্রশ্রাবের জায়গার যন্ত্রনা, ঘন ঘন স্বপ্ন দোষ যৌন দুর্বলতা ও প্রেমে ব্যর্থতাসহ ইত্যাদি সকল রোগের মুশকিল আছান কামরূপ কামাক্ষা থেকে আগত তান্ত্রিক সাধু।

কি ভাবছেন? হঠাৎ সংবাদ প্রতিবেদনের ভাষা এই রকম হয়ে গেল কেন? না এসব এই প্রতিবেদকের কথা নয়। রাজধানীর মহাখালী বা শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পাওয়া কিছু বিজ্ঞাপনের ভাষা। ভারতের কামরূপ কামাক্ষা ফেরত তান্ত্রিক সাধু, মহাপুরুষ কিংবা সিদ্ধি লাভ করা হেকিমরা এভাবেই আকৃষ্ট করেন রোগীদের। আর এই সমস্ত বিজ্ঞাপন বা লিফলেটও বিতরণ করা হয় কিছু নির্দিষ্ট এলাকায়। এই বিজ্ঞাপনগুলোতে মানুষের সহজাত কিছু সমস্যার উল্লেখ করা হয়। আর সমস্যার সমাধানে দেওয়া হয় নানা বটিকা।

বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও সিনেমা হলের সামনে থেকে এমন কিছু বিজ্ঞাপন করেন এই প্রতিবেদক। এই সমস্ত বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সব সাধুরাই কিছু সাধারণ যৌন সমস্যার উল্লেখ করেন। আর আজগুবি সব চিকিৎসার কথা প্রচার করেন। অনেকেই দুর্বলতা বা অজ্ঞতাবশত এই সমস্ত বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দেয়। আর ভেষজ নানা বটিকা, তাবিজ-কবজ, সালসা ধরিয়ে মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে হাদিয়ার নামে অর্থ আদায় করে।

‘যৌনতা নিয়ে মানুষের গোপন আগ্রহ এবং আড়ষ্টতা অনেকটাই সহজাত। অনেকেই এ সমস্ত বিষয়ে খোলামেলা কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। আর ভয়ও পান কেউ কেউ। আর এটাকে কাজে লাগিয়ে কিছু প্রতারক এই রকম ভণ্ডামি করছে’ এই সমস্ত বিজ্ঞাপনের বিষয়ে এমন মন্তব্য করেন রাজধানীর একজন যৌন চিকিৎসক। একটি বেসরকারি হাসপাতালের এই চিকিৎসক আরও বলেন, অনেকেই এমন চটকদারি বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারিত হন। এই সমস্ত ওষুধ সেবনে অনেক সময় শারীরিক ক্ষতিও হয়। এসব চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত নয়’।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞান যাই বলুক না কেন। এই সমস্ত বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই মোটা অংকের টাকা খসিয়েছেন। সেইসাথে শারীরিক সমস্যাকে আরও প্রকটও করে তুলেছেন কেউ কেউ। মহাখালী ফুটওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে কথা হয় এমন একজন ভুক্তভোগীর সাথে। দেখে অনেকটা অপ্রাপ্ত বয়স্কই মনে হয়েছে। কাজ করেন বাসের হেল্পার হিসেবে। তিনি জানান, স্বপ্নদোষ নিয়ে তিনি একটু ভীত ছিলেন। তখন এই রকম বিজ্ঞাপন দেখে, এক কথিত তান্ত্রিক মহাপুরুষের কাছে যান। ১২ শ’ টাকা হাদিয়ায় এক শিশি সালসা ধরিয়ে দেন। কিন্তু সালসায় কাজ না হওয়ায় আবার যান তিনি। তখন আরও ৫০০ শ’ টাকা খসিয়ে আসেন। কিন্তু তারপরও কোন সুরাহা হয়নি। এসব যে, বাটপারি পরে বুঝতে পারেন তিনি। এরপর আর যাননি বলে জানান তিনি।