ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যৌন তৃপ্ততায় হস্তমৈথুন: বৈজ্ঞানিক বা অবৈজ্ঞানিক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ১১:০০ পিএম
যৌন তৃপ্ততায় হস্তমৈথুন: বৈজ্ঞানিক বা অবৈজ্ঞানিক!

 

মীর রনি (ছদ্মনাম)। পড়াশোনা করছেন উচ্চ মাধ্যমিকে। বয়স ১৯ কি ২০। এই বয়সেই যৌনতা নিয়ে মানসিক পীড়ায় আছেন রনি। সংকোচ আর আড়ষ্টতায় কারও সাথে শেয়ারও করতে পারছেন না। আর এতে করে কষ্টটা দিন দিন বাড়ছে। সেইসাথে ভয়ও। এই সকল বিষয়ে কথা হয় রনির সাথে। রনি যা জানায়, তা রীতিমতো ভয়ংকর। ক্রমেই হস্তমৈথুনে আসক্ত হয়ে পরছেন তিনি। ইতোমধ্যে হয়েও পরেছেন। শুরুটা হয়েছিল বন্ধুদের মাধ্যমে, পর্নোগ্রাফি দেখতে দেখতে। আর এখন শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পরেছেন রনি। রনি জানায়, শুরুর দিকে পুরুষাঙ্গ যতো দ্রুত উত্থিত হতো, এখন আগের মতো প্রতিক্রিয়া করে না। এতে ভয়টা আরও বেড়ে গেছে।

রনির মাধ্যমেই কথা হয় এই রকম আরও বেশ কয়েকজন তরুণের সাথে। এদের সবাই কম বেশী হস্তমৈথুন করে। কেউ কেউ শারীরিক সম্পর্কও করেছে। তবে তা বান্ধবি বা পরিচিতজনদের সাথে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হস্তমৈথুন যারা সপ্তাহে একাধিকবার করেছে; মানসিক ভীতিটা তাদেরই সবচেয়ে বেশী। তবে এই ভীতি যৌন শিক্ষার সাথেও সম্পর্কিত, তা তাদের কথাবার্তা শুনেই বুঝা গেছে।

রনি বা রনির বন্ধুদের মতো অনেক তরুণই এই রকম হস্তমৈথুনে আসক্ত। আর একটা নির্দিষ্ট সময় পরে প্রত্যেকেই মানসিকভাবে ভীত হয়ে পরে। এদের সবারই শুরুটা হয় কৌতূহল, আর বন্ধুদের পাল্লায় পরে। সেইসাথে পর্নোগ্রাফি বা নেতিবাচক আধেয় দেখার বিষয় তো রয়েছেই। কিন্তু হস্তমৈথুন কি শরীর ও মনের জন্য খুব ভালো কিছু? কিংবা এটা কি বৈজ্ঞানিক- এই রকম ভাবনা অনেকেরই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা যেন এটাকে একটু ভিন্নভাবেই দেখেন। তাদের ব্যাখ্যাও বেশ সরল।

এই বিষয়ে একজন যৌন চিকিৎসক জানান, ‘যে কোন প্রাণী স্বাভাবিকভাবেই একটা সময় যৌন সক্ষম হয়ে উঠে। এমনটা মানুষের ক্ষেত্রেও ঘটে। একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর তার শরীরে সিমেন উৎপন্ন হয় এবং যৌন আকর্ষণ বা অনুভূতি কাজ করে। এটা একদম স্বাভাবিক বিষয়। এখন বিষয়টি হচ্ছে, আপনি হস্তমৈথুনের মাধ্যমে আপনার এই সিমেন নষ্ট করবেন কিনা। অবশ্য হস্তমৈথুন না করলেও তা স্বপ্নদোষের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যাবে। বিষয়টা একদম প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক’।

তিনি আরও জানান, তবে কেউ যদি নিতান্তই হস্তমৈথুন করতে চান (আমি আবারো বলছি এটা কৃত্রিমভাবে নেওয়া একটা সুখানুভূতি)। তাহলে যেন খুব বেশী না করে। সেইসাথে বেশী সময়ের জন্যও না করে। আর মাসে কতবার করলে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হবে না, চট করে কাউকে না দেখে বলা যায় না। তবে আমরা কখনো এর পরামর্শ দিতে পারি না। তিনি উল্লেখ করেন, এর আনন্দের চেয়ে ক্ষতি অনেক। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হল, একটা সময় এই অভ্যাসের কারণেই ওই ব্যক্তিটি আর যৌন আনন্দ/তৃপ্তি পাবে না।