ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যৌন তৃপ্তি বা ক্ষুধা: জনপ্রিয় হচ্ছে সুপার গার্ল ‘সেক্স টয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২০ শুক্রবার, ১১:০০ পিএম
যৌন তৃপ্তি বা ক্ষুধা: জনপ্রিয় হচ্ছে সুপার গার্ল ‘সেক্স টয়’
 
বদ্ধ রুমে আড্ডা দিচ্ছে কয়েকজন বন্ধু। আড্ডার ফাঁকে নিবিষ্ট মনে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে একজন। একে একে সবাই যোগ দিল। আর তখন পাশ থেকে এক বন্ধুর প্রশ্ন, তোর জীবনে কোন ‘সুপার গার্ল’ আছে? নেই, বলে হতাশ গলায় জবাব দিল বন্ধুটি। তখন আরেক বন্ধু বলল, ‘তোর জন্য একটি সুপার গার্ল অর্ডার করেছি’। ওই বন্ধুর প্রশ্ন, কোথা থেকে? চায়না থেকে, জবাব দিল বন্ধুটি। হতাশ হওয়া বন্ধুটি বলল, ‘চায়নার জিনিস তো সব ডুপ্লিকেট হয়’। তখন একজনের জবাব, ‘সবকিছু বড়’। তারপর সবাই কোরাস করে বলে উঠল, ‘অনেক বড়’। যাক শেষ মেশ সুপার গার্ল আসল। আর ইলেকট্রিক চার্জ পেয়ে তা ‘সানি লিওন’ হয়ে গেল।
 
হ্যা, পাঠক বলছি সানি লিওনের ‘সুপার গার্ল ফ্রম চায়না’ ভিডিওটির কথা। যে সুপার গার্ল রাত বিরাতে অনলাইনে অর্ডার করলেই চলে আসে। আবার রাতের অন্ধকারে শরীরের ইলেকট্রন স্পর্শে জীবন্ত হয়ে উঠে। তবে তা ভিডিওতে দেখা সানি লিওনের মতো ফুট-ফরমাশ করে দেয় না। আর ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কাজ নেই। আজকের গল্প সুপার গার্ল সেক্স টয় নিয়ে। যৌন ক্ষুধা মেটাতে যা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে দিনকে দিন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে তো বটেই, বাংলাদেশেও এর জনপ্রিয়তার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।
 
বাংলাদেশে সেক্স টয়ের ধারণা একেবারে নতুন না হলেও, তা সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারের ক্ষেত্রেও তাই। বিভিন্ন সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, অনলাইন মার্কেটে প্রবেশের পর এই ধরণের পণ্যের বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হল বাজার সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের ৭০ শতাংশ ‘সেক্স টয়’ উৎপাদন করে চীন। আর ইউরোপ, আমেরিকার পরে সেক্স টয়ের বাজার সবচেয়ে বেশী সম্প্রসারিত হচ্ছে চীন ও প্রতিবেশি ভারতে।
 
এসব হল পরিসংখ্যান আর সমীক্ষার কথা। এবার আসা যাক মূল কথায়। বাংলাদেশে সেক্স টয়ের ক্রেতাদের মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এমনটা জানা যায়, বেশ কিছু বিক্রেতার সাথে কথা বলে। তারা জানান, দেশে ‘সেক্স টয়’ গ্রাহকদের অনেক বড় একটা অংশ তরুণ। তারা এক রকম আগ্রহ থেকে এই ধরণের পণ্য কিনছে। এই শ্রেণির গ্রাহকদের মধ্যে এর আসক্তি বা জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আবার অন্য এক শ্রেণির গ্রাহক মূলত শিক্ষিত ও ধনীক সম্প্রদায়। এদের বিষয়েও কথা হয়, বেশ কয়েক জন বিক্রেতার সাথে। তারা জানায়, এই শ্রেণির গ্রাহকরা সচেতনভাবেই এসব পণ্য কিনেন। তারা আসলে যৌন সম্পর্কে, একটু ভিন্ন রকম আনন্দ পেতেই ‘সেক্স টয়’ কিনেন বলে জানা যায়।
 
কথা হয় ‘সেক্স টয়’ ব্যবহার করছেন এই রকম একজন তরুণের সাথে। তিনি জানান, ইন্টারনেটে দেখা একটি বিজ্ঞাপন থেকেই তার এই ধরণের ঝোঁক কাজ করে। তবে শুরুর দিকে বেশ আনন্দ পেলেও, এখন যেন আগের মতো অনুভূতি কাজ করেন না। এই রকমটা কে হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এক হতে পারে মানসিক কারণে নতুবা আমার পণ্যটি ভালো পরেনি। অনলাইন থেকে কিনেছিলাম তো’।